সর্বশেষ

চলমান রাজনৈতিক সংকট:নেপথ্য ও উত্তোরণ

নিতান্ত অনিচ্ছাসত্বেও এই সত্য আমাকে বলতেই হচ্ছে যে,বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনীতির জঘন্যতম সময়টুকু অতিক্রান্ত হচ্ছে।
'রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়নতাকে' 'রাজনীতি'মনে করে মহাভুল করছে রাজনীতিজীবীরা(যারা রাজনীতি করে জীবীকা নির্বাহ করেন তারাই 'রাজনীতিজীবী','রাজনীতিবিদদের'এখন কমই দেখা ও পাওয়া যায়)।
সুস্থধারার রাজনীতির গভীর সংকট আজ বাংলাদেশে।এই সংকট উত্তোরণে ব্যর্থ হলে কালো এক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বাংলার ইতিহাসে।নিশ্চিত সেই অশুভ অধ্যায়ের সুফল ভোগ করবে তথাকথিত 'বন্ধুরাষ্ট্র' অথবা 'কৌশলগত অংশিদারী রাষ্ট্রগুলো'।
সংকট সৃষ্টির প্রাথমিক ভিত্তি হচ্ছে সংবিধান।সংবিধান সর্বজনগ্রাহ্য,সবার সম্মানিত।ক্ষমতাসীন দল তাদের দলীয়(অবশ্যই প্রভুদের অনুমতি সাপেক্ষে)স্বার্থে এই সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করেছে।
তারা সংবিধান থেকে ইসলামের নিশানা প্রায় মুছেই ফেলেছে,এটা ছিল প্রকৃতপক্ষেই নিকৃষ্টতম ধৃষ্টতা।দেশের ৯০শতাংশ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে ১০ শতাংশ মানুষকে সন্তুষ্ট করতে !বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতি সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় আঘাত।অনতিবিলম্বে তাই এটি রাজনৈতিক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়।রাজনীতি যে অবশ্যই ধর্মের কাছে দায়বদ্ধ এই ঘটনা তার প্রমাণ করে।
বিএনপি,জামায়াত ও সমমনা ইসলামপন্থী দলগুলো এই ইস্যুতে আন্দোলন করে ও করছে ।এটা ছিল একটা বড় ধরণের রাজনৈতিক সংকট,সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সংকট তো বটেই।

তারা জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে গণভোটের ব্যবস্থা না করে 'পূর্বনির্ধারিত রায় প্রদান'এর আদালতের কাছে শরনাপন্ন হয়।
আদালত জানতো,জনগণ তত্ত্বাবধায়কের বিকল্প মেনে নিবেনা ।তাই '...এই ব্যবস্থার আওতায় আরো দুইটি নির্বাচন হতে পারে'শীর্ষক রায় দেয়।
কিন্তু ক্ষমতাসীনরা ব্যবস্থাটিকে বিলুপ্ত করতে চায়,অথচ তারাই এই ব্যবস্থা আন্দোলন করে এনেছিল।একজন মানুষ নিজের টেনে আনা ব্যবস্থা জনগণের উপর চাপিয়ে দেয় ও পরে নিজের হীনস্বার্থে তা প্রত্যাখ্যান করতে দ্বিধা করেনা,এমনকী আদালতের রায় পর্যন্ত বিকৃত করে?
সেই থেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকটের শুরু,যা এখন পর্যন্ত চলছে এবং এই সংকট উত্তোরণে(তত্বাবধায়ক সরকার)ব্যর্থ হলে দেশে একটি বড় ধরণের সংঘাত অনিবার্য,যা সাধারণ জনগণের কাম্য নয়।
সংকট ঘনিভূত হয় যখন একের পর এক বিরোধী প্রতিবাদী নেতা ও কর্মীরা রাজনৈতিক মাঠ থেকে অথবা নিজের ঘর থেকে অদৃশ্য হতে থাকে যাকে 'গুম' বলে নাম দিয়েছে সরকার।এর সর্বশেষ বলী বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা,যার নিখোঁজ হওয়া পুরো দেশকে স্তব্ধ করেছে।
এর পরও সংকট উত্তোরণের ব্যবস্থা না করে সরকার প্রসূত মামলায় বিরোধীদলের প্রায় সকল প্রথম শ্রেণীর নেতাকে গ্রেফতার করে।এই ঘটনাকে রাজনীতিকে আরো বেশি সংকটাপন্ন করে যা থেকে এখনো উত্তোরণ ঘটেনি জনগণ ও রাষ্ট্রের। <
উপরে যতগুলো রাজনৈতিক সংকট ও তা সৃষ্টির কারণ বিধৃত হয়েছে তার প্রত্যেকটি সংকটই ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার সাথে সংশ্লিষ্ট।
এর সাথে অবশ্য প্রতিহিংসাপরায়নতাও রয়েছে,যা একটি সরকার ও দলকে তার সত্যিকার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে যথেষ্ট।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারদলীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সম্পূর্ণ সদিচ্ছা প্রয়োজন।
হরতাল সংকট উত্তোরণের উপায় হতে পারেনা,তেমনি হরতালে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর বর্বর পুলিশী হামলা ও গণগ্রেফতারও কোন সমাধান হতে পারেনা।
দেশ,জাতি ও অর্থনীতির স্বার্থে প্রয়োজন গঠনমূলক আলোচনা ও সংলাপের।
কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে সংকট কেবল বৃদ্ধিই পাবে,কারণ ধর্ম মানুষের সামগ্রীক জীবনকে প্রভাবিত করে।এমতাবস্থায় সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের এবং অন্যান্য নেতাদেরও উচিত জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক সংকট উত্তোরণে অতি গুরুত্বপূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা।সকলের প্রতি সকলের প্রতিহিংসাপরায়নতা দূর করে পরমতসহিষ্ণু হতে হবে।অপরের ধর্মীয় অনুভূতিকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতে হবে এবং দল,মত ব্যক্তি ও সম্প্রদায় একত্রে একটি সমৃদ্ধশালী আত্মমর্যাদাশীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে একীভূত হতে হবে।
স্বেচ্ছাচারিতা,পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও ভীনদেশীপ্রভাববলয়কে বর্জন করে দেশপ্রেমের ভিত্তিতে পারস্পরিক মতামতের গুরুত্বানুভব করে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিলেই চলতি রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটবে,ঘটতে বাধ্য হবে।
সবধরণের সংকটবিহীন চরম সার্বভৌমক্ষমতাসম্পন্ন,পূর্ণ গণতান্ত্রিক,অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সুদৃড় বন্ধনযুক্ত একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি প্রতিনিয়ত।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments