আইএমএফ(IMF-International Monetary Fund) নামের পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী সংস্থার সুপারিশে(আসলে চাপে) আগামী
অর্থবছর তথা ১ জুলাই ২০১৬ থেকে বিদেশী ১১৯২ টি পণ্য পণ্যের উপর থেকে
সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে (যুগান্তর,২৬ মে,২০১৬)।এটা করা কিছুতেই
ঠিক হবেনা।এর ফলে দেশে চীনা পণ্যে সয়লাব হয়ে যাবে।তারপর আসবে ভারত এবং
সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ তার যাবতীয় পণ্য নিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে হাজির হবে।আমাদের বুঝতে হবে, প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার দেশ মানে পৃথিবীর সেরা দশটি বাজারের একটি আমরা।নিজেদের গুরুত্ত্ব (ভেীগলিক ও অর্থনৈতিক)যদি নিজেরাই না বুঝি তবে এ জাতির জন্য সময় ভাল আসবে বলে বিশ্বাস করেন? বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্প
ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পরে যদি সম্পূরক শল্ক উঠিয়ে নেয়া হয়।কারণ এমনিতেই জাতীয়তাবোধহীন বিশাল একটি জনগোষ্ঠী
দেশের পণ্য ক্রয়ের গুরুত্ত্ব অনুধাবন করেনা।ওরা স্বদেশী ঠাকুর ফেলে
বিদেশী কুকুরে আসক্ত।আর সম্পূরক শুল্ক না থাকলে এই বিদেশী কুত্তা তথা
বিদেশী পণ্য পানির মত সহজলভ্য হবে।ফলে দেশীয় অর্থনীতির উপর শরণকালের সবচেয়ে
বড় আঘাত আসবে।এর ফলে বাংলাদেশের উত্পাদনব্যবস্থায় ধ্বস নামতে পারে।তার
প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেশের বিপুলসংখ্যক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।বেকারত্ম
বৃদ্ধি পাবে।বেকারত্ম বৃদ্ধি পাওয়া মানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া। কর্মক্ষম তবে কাজের অভাবে বশে থাকা বিপুল জনশক্তিকে কাজবঞ্চিত করলে তা রাষ্ট্র ও জনগণ কারো জন্য কল্যানের কিছু বয়ে আনবেনা। দেশীয় অর্থনীতি ও রাজনীতির জন্য আত্মঘাতী এই সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে তাই
এখনই সরে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে,বিদেশী বিনিয়োগ কিংবা বিদেশী পণ্য আমদানি
করা কোন রাষ্ট্র বা জাতির উন্নয়নের মাপকাঠি নয়,তা পরনির্ভরশীলতা ও কিছু ক্ষেত্রে অবনতির মাপকাঠি হতে পারে।
আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় আমেরিকা কোন রাষ্ট্র নয়। এটি একটি সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের অর্থনীতির রক্তচোষআ নিয়ন্ত্রক IMF এবং World Bank, World Trade Organization, G-8 ইত্যাদি। বিশ্বব্যাংক চড়া সুদে রিন(Loan) দিয়ে তার কয়েকগুণ তুলে নিয়েই ক্ষ্রান্ত হয়না, এই ইস্যুতে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নাক গলায়।আর আইএমএফ? এই সংস্থা মার্কিন ও তার সাম্রাজ্যবাদী মিত্রদের জন্য বাজার সম্প্রসারণের কাজে নিয়োজিত। আর কিছু নয়। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট ম্যাকচেজনি [Robert Waterman McChesney(1952-)] বলেন,World Bank and IMF are the agents of American Imperialism। Naomi Klein ও একই কথা বলেন।এখন এই সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা কোন ভাল কিছু আমাদের অর্থনীতির জন্য সুপারিশ করতে পারে এটা আপনি কি কারণে ভাবতে পারেন?
বৃহত্তম শেয়ার হোল্ডার হওয়ায় IMF এর সিদ্ধানত নেয়ার ক্ষেত্রে ১৮% কোটা সংরক্ষিত রয়েছে আমেরিকা যক্তরাষ্ট্রের জন্য।জার্মানি, জাপান ,ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে মোট ৩৮ % কোটা নিয়ন্ত্রণ করে(তথ্যসূত্র:গ্লোবাল এক্সচেইঞ্জ ডট ওআরজি)। ৮৫% সংখ্যাগরিষ্ঠতা হলে সংস্থায় বিল পাস হয় তার মধ্যে একটি দেশেরই যখন ১৮ শতাংশ থাকে তখন সেটি হয় আধিপত্যবাদী মোড়ল। যুক্তরাষ্ট্র আইএমএফ এর মধ্যে অঘোষিত VETO ক্ষমতার দেশ। তার মানে আইএমএফের সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশের স্বার্থে নেয়া হয় তা ভাবা আর নিজের মাথাটি কাঠুরের কুড়ালের নিচে পেতে দেয়া সমান কথা। আর বিশ্বব্যাংকের কথা আজ নাই বললাম। এই সংগঠনের ৫১% শতাংশ অর্থ দেয় আমেরিকা(তথ্যসূত্র:গ্লোবাল এনভিশন)।
বৃহত্তম শেয়ার হোল্ডার হওয়ায় IMF এর সিদ্ধানত নেয়ার ক্ষেত্রে ১৮% কোটা সংরক্ষিত রয়েছে আমেরিকা যক্তরাষ্ট্রের জন্য।জার্মানি, জাপান ,ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে মোট ৩৮ % কোটা নিয়ন্ত্রণ করে(তথ্যসূত্র:গ্লোবাল এক্সচেইঞ্জ ডট ওআরজি)। ৮৫% সংখ্যাগরিষ্ঠতা হলে সংস্থায় বিল পাস হয় তার মধ্যে একটি দেশেরই যখন ১৮ শতাংশ থাকে তখন সেটি হয় আধিপত্যবাদী মোড়ল। যুক্তরাষ্ট্র আইএমএফ এর মধ্যে অঘোষিত VETO ক্ষমতার দেশ। তার মানে আইএমএফের সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশের স্বার্থে নেয়া হয় তা ভাবা আর নিজের মাথাটি কাঠুরের কুড়ালের নিচে পেতে দেয়া সমান কথা। আর বিশ্বব্যাংকের কথা আজ নাই বললাম। এই সংগঠনের ৫১% শতাংশ অর্থ দেয় আমেরিকা(তথ্যসূত্র:গ্লোবাল এনভিশন)।
২।
সম্পূরক শুল্ক কি আসলে?এটি এত গুরুত্ত্বপূর্ণই বা কেন?
সম্পূরক শুল্ক মানে অতিরিক্ত শুল্ক।দেশের বাইরে থেকে আসা পণ্য অর্থাত্ ভীণদেশী পণ্য বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে হলে একটি চড়া মূল্য রাষ্ট্রকে দিতে হয়।এর নাম সম্পূরক শুল্ক।দেশীয় পণ্যের ক্ষেত্রে যেমন ভ্যাট নেয়া হয় তেমন আর কি।তো এই সম্পূরক শুল্ক বাংলাদেশের বাজারে বিদেশী পণ্যের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্ত প্রতিরোধ দুর্গ।এই দুর্গের কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব উত্পাদন ব্যবস্থার উপর সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামীদের কোন খবরদারি নেই।কিন্তু যদি এ কর উঠিয়ে নেয়া হয় তবে দেশীয় পণ্যের বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।কারণ অতিরিক্ত কর দিয়ে এসেও যে পণ্য চীন,ভারত,যুক্তরাষ্ট্র থেকে উত্পাদিত তার মূল্য হাতের নাগালে।মুক্তবাজারে প্রবেশের পর তাই হাজার হাজার দেশীয় ক্ষুদ্র উদ্যোগ,শিল্প,পণ্য ধ্বংস হয়ে গেছে।আর এখন যদি সম্পূরক শিল্পকে প্রত্যাহার করা হয় তবে দেশীয় উত্পাদন ব্যবস্থার উপর আঘাত আসবে।এটিকে দেশীয় মুমূর্ষু শিল্পকে কফিনে পাঠানোর মত কাজ হবে।অতএব সম্পূরক শুল্ক বহাল থাকুক।বরং আরো বৃদ্ধি করা হোক এ শুল্ক।
সম্পূরক শুল্ক মানে অতিরিক্ত শুল্ক।দেশের বাইরে থেকে আসা পণ্য অর্থাত্ ভীণদেশী পণ্য বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে হলে একটি চড়া মূল্য রাষ্ট্রকে দিতে হয়।এর নাম সম্পূরক শুল্ক।দেশীয় পণ্যের ক্ষেত্রে যেমন ভ্যাট নেয়া হয় তেমন আর কি।তো এই সম্পূরক শুল্ক বাংলাদেশের বাজারে বিদেশী পণ্যের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্ত প্রতিরোধ দুর্গ।এই দুর্গের কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব উত্পাদন ব্যবস্থার উপর সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামীদের কোন খবরদারি নেই।কিন্তু যদি এ কর উঠিয়ে নেয়া হয় তবে দেশীয় পণ্যের বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।কারণ অতিরিক্ত কর দিয়ে এসেও যে পণ্য চীন,ভারত,যুক্তরাষ্ট্র থেকে উত্পাদিত তার মূল্য হাতের নাগালে।মুক্তবাজারে প্রবেশের পর তাই হাজার হাজার দেশীয় ক্ষুদ্র উদ্যোগ,শিল্প,পণ্য ধ্বংস হয়ে গেছে।আর এখন যদি সম্পূরক শিল্পকে প্রত্যাহার করা হয় তবে দেশীয় উত্পাদন ব্যবস্থার উপর আঘাত আসবে।এটিকে দেশীয় মুমূর্ষু শিল্পকে কফিনে পাঠানোর মত কাজ হবে।অতএব সম্পূরক শুল্ক বহাল থাকুক।বরং আরো বৃদ্ধি করা হোক এ শুল্ক।
৩।
বর্তমানে
১৩৬২ টি বিদেশী পণ্যের থেকে বাংলাদেশ সরকার সম্পূরক শুল্ক আদায় করে।এ খাতে
বাত্সরিক আয় ১৬ হাজার কোটি টাকা যা জাতীয় অর্থনীতির আয়ের একটি খাত।যদি
১১৯২ টি পণ্যের উপর থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় তবে রাষ্ট্র
ক্ষতিগ্রস্ত হবে।আর দেশীয় পণ্য,শিল্প,প্রতিষ্ঠানের
মরে যাওয়ার কথা তো আগেই বলেছি।তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি
আকুল আবেদন,দেশের পণ্য ও শিল্প রক্ষায় আপনি এগিয়ে আসুন।বাংলাদেশের
আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থা ধ্বংস করে পরনির্ভরশীল করার
সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তকে রুখে দিন।আমরা এ ব্যাপারে নিঃসন্দিহান যে,আজ
বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থাকলে বিদেশী পণ্যের অবাধে
প্রবেশ কিছুতেই তিনি হতে দিতেন না।তাঁর কৃষক-তাঁর শ্রমিক-তাঁর ব্যবসায়ীকে
মরতে দিতেন না।দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী,আপনি জাতির অর্থনীতির উপর পশ্চিমা ও
এশীয় আধিপত্যবাদীদের এই আঘাতকে প্রতিহত করুন।আপনিই জনগণের আশা-ভরসা
এখন।বিদেশী পণ্যের উপর সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখতে নির্দেশ দিয়ে দেশ ও জাতির
ক্রান্তিলগ্নে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাটি পালন করুন,প্রিয় নেত্রী।
৪।
![]() |
| আইএমএফ এর আসল রূপ কার্টুনিস্টের তুলিতে।ছবি/ইন্টারনেট। |
সবার আগে বলা দরকার পৃথিবীর সমগ্র ভূকন্ডে বাণিজ্য করছে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি রাষ্ট্র। এরাই এ যুগের সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী। এরা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্যান্স, জার্মানি, কানাডা, জাপান, নেদারল্যান্ড, চীন, রাশিয়া এবং সম্প্রতি এ তালিকায় চলে এসেছে ভারত। এই সবগুলো রাষ্ট্র দেখবেন গ্লোবালাইজেশনরে একচেটিয়া সুবিধাভোগী।
যারা
মুক্তবাজারের অজুহাতে অতিরিক্ত কর আদায়ের বিপক্ষে এরা আন্তর্জাতিক
রাজনীতি,ক্ষমতার প্রবাহ,বাজারব্যবস্থার রাজনৈতিক অর্থনীতির ব্যাপারে অজ্ঞ
বলে ধরে নেয়া যায়।মুক্তবাজার Globalization এর ফল।গ্লোবালাইজেশন পৃথিবীর
আধিপত্যবাদী মোড়ল দেশগুলোর বাজার সম্প্রসারণের
চটকদার নীতি।পশ্চিমা পুঁজিবাদের বিশ্বব্যাপী প্রসার ঘটাতে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই ধারনাকে ছড়ানোর এজেন্ডা নেয় উত্তর আমেরিকা ও
ইউরোপ।পশ্চিমা লেখ Albrow,Elizabeth তাদের পুস্তক Globalization,Knowledge
and Society তে বিশ্বায়নকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে-
'পণ্য, ধারনা ও সংষ্কৃতির বিশ্ব লেনদেন প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে'।
তো ইতোমধ্যেই মিডিয়া ও পশ্চিমা দালাল তথা Change Agents এর মাধ্যমে ওদের ধারনা তথা গণতন্ত্র(Democracy),পুঁজিবাদ (Capitalism),নব্য উদারতাবাদ (Neoliberalism),নারীবাদ (Feminism),আধুনিকতাবাদ (Modernization),শিল্পায়ন (Industrialization),নগরায়ন (Urbanization) ইত্যাদি আমাদের মাথায় উপনিবেশ স্থাপন করেছে।এসবের মধ্যে ওদের সংষ্কৃতি যেমন পরিবারহীনতা,আত্মকেন্দ্রিকতা,ভোগবাদ,পোশাক আশাক আমাদের আক্রান্ত করেছে।এখন সর্বশেষ ধাপ ওদের পণ্যে আমাদের বাজার সয়লাব করা।Globalization শব্দটি ১৯৮৩ সালে পরিষ্কার যে ব্যক্তি উচ্চারণ করেন তার নাম ঘিওডর লেভিট। তিনি লিখেছিলেন, Globalization of Markets।মানে পশ্চিমা অর্থনীতির জন্য পুরো পৃথিবীকে একটি বাজার হিসেবে তৈরি করার সুশীল পদ্ধতির নাম বিশ্বায়ন।বিশ্বায়ন বাস্তবায়ন করছে মিডিয়া, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং কথিত মানবাধীকার সংগঠন এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মত সংস্থা।সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে এদেরই(আধিপত্যবাদীদের) স্বার্থ আদায়কারী সংস্থা IMF । বাংলাদেশে যারা বিশ্বায়নের অনিয়ন্ত্রিত প্রসার চায় তারা বাংলাদেশর অর্থনীতির জন্য হুমকি। সে হতে পারে পশ্চিমের স্কোলারশিপভোগী কোন অধ্যাপক,রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী,আশ্রয়প্রার্থী কিংবা আত্মকেন্দ্রিক এমন কেউ যে কেবল নিজেকে ও তার পরিবারকে নিয়ে আরামে জীবনযাপনের কথা ভেবে ইউরোপ ও আমেরকিায় সেটল হতে চায়। কিন্তু আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভেীমত্ত্ব নিয়ে ভাবি, যারা এদেশের গরীব ও খেটে খাওয়া মানুষর জন্য কিছু করার তাগিত অনুভব করি তারা এই শুল্ক প্রত্যাহারের ভয়াবহতার ব্যাপারে ভাবছি। এ ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নিতে পারিনা।আমরা সরকারে প্রতি দাবি জানাই অনতিবিলম্বে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তটি পূনর্বিবেচনার।
'পণ্য, ধারনা ও সংষ্কৃতির বিশ্ব লেনদেন প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে'।
তো ইতোমধ্যেই মিডিয়া ও পশ্চিমা দালাল তথা Change Agents এর মাধ্যমে ওদের ধারনা তথা গণতন্ত্র(Democracy),পুঁজিবাদ (Capitalism),নব্য উদারতাবাদ (Neoliberalism),নারীবাদ (Feminism),আধুনিকতাবাদ (Modernization),শিল্পায়ন (Industrialization),নগরায়ন (Urbanization) ইত্যাদি আমাদের মাথায় উপনিবেশ স্থাপন করেছে।এসবের মধ্যে ওদের সংষ্কৃতি যেমন পরিবারহীনতা,আত্মকেন্দ্রিকতা,ভোগবাদ,পোশাক আশাক আমাদের আক্রান্ত করেছে।এখন সর্বশেষ ধাপ ওদের পণ্যে আমাদের বাজার সয়লাব করা।Globalization শব্দটি ১৯৮৩ সালে পরিষ্কার যে ব্যক্তি উচ্চারণ করেন তার নাম ঘিওডর লেভিট। তিনি লিখেছিলেন, Globalization of Markets।মানে পশ্চিমা অর্থনীতির জন্য পুরো পৃথিবীকে একটি বাজার হিসেবে তৈরি করার সুশীল পদ্ধতির নাম বিশ্বায়ন।বিশ্বায়ন বাস্তবায়ন করছে মিডিয়া, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং কথিত মানবাধীকার সংগঠন এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মত সংস্থা।সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে এদেরই(আধিপত্যবাদীদের) স্বার্থ আদায়কারী সংস্থা IMF । বাংলাদেশে যারা বিশ্বায়নের অনিয়ন্ত্রিত প্রসার চায় তারা বাংলাদেশর অর্থনীতির জন্য হুমকি। সে হতে পারে পশ্চিমের স্কোলারশিপভোগী কোন অধ্যাপক,রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী,আশ্রয়প্রার্থী কিংবা আত্মকেন্দ্রিক এমন কেউ যে কেবল নিজেকে ও তার পরিবারকে নিয়ে আরামে জীবনযাপনের কথা ভেবে ইউরোপ ও আমেরকিায় সেটল হতে চায়। কিন্তু আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভেীমত্ত্ব নিয়ে ভাবি, যারা এদেশের গরীব ও খেটে খাওয়া মানুষর জন্য কিছু করার তাগিত অনুভব করি তারা এই শুল্ক প্রত্যাহারের ভয়াবহতার ব্যাপারে ভাবছি। এ ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নিতে পারিনা।আমরা সরকারে প্রতি দাবি জানাই অনতিবিলম্বে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তটি পূনর্বিবেচনার।
৫।
পঞ্চম
সংশোধনী বাতিল হওয়ার মাধ্যমে দেশের চারটি মৌলিক নীতির একটি
সমাজতন্ত্র।সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সবটুকু ফিরে না গেলেও অন্ততপক্ষে
বিদেশী পুঁজিবাদী ক্ষমতার বলয়কে সাফ সাফ জানিয়ে দিতে হবে,আমাদের অর্থনীতি
গড়ার মত পূর্ণ সমর্থন আমাদের আছে।হাজার হাজার বছর
ধরে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ,আমাদের মসলিন ভূবন কাঁপিয়েছে,আমাদের উঁচু
অট্রালিকা নির্মানের দক্ষতা ছিল।তো এখন কেন আমাদের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি
ওয়া ঠিক করে দেবে?এই ভূখন্ডের উপযোগী করে আমরা আমাদের নীতি প্রণয়ণ
করবো।আইএমএফ এখানে নাক গলানোর কে?ওর সুপারিশ যদি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে
ধ্বংস করে তা দৃঢ় প্রত্যয়ে ফিরিয়ে বাংলাদেশকেই দিতে হবে।তাই সম্পূরক শুল্ক
বহাল রাখতে হবে।দরকার হয় আরো অতিরিক্ত শুল্ক দিয়ে বিদেশী পণ্যের আমাদের
বাজার দখলকে রুখে দিতে হবে।আমরা
বহৎ কথিত পরাশক্তি মোড়লদের ব্যবসা চাঙ্গা করার ক্ষেত্র হতে চাইনা।আমরা
আমাদের পণ্যই খেয়ে পরে শেষ করতে পারবনো সঠিক বণ্টন ব্যবস্থা শুরু হলে।
৬।
২৬ মে যুগান্তরে “শিল্প ধ্বংসে শেষ পেরেক” শীর্ষক প্রতিবেদনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হোসেন খালেদ , দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে না পারলে বাজার ভারত ও চীনের পণ্যে সয়লাব হয়ে যাবে। কারণ এসব দেশের পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক কম। অপরদিকে দেশে শ্রমের মূল্য কম থাকা সত্ত্বেও অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, গ্যাস-বিদ্যুতের কারণে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে না পারলে বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। যার প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর। নতুন শিল্প স্থাপন না হলে নতুন কর্মসংস্থানের জোগান দেয়া সম্ভব হবে না। একই প্রতিবেদনে এফবিসিসি এর সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, নতুন ভ্যাট চালু হলে ব্যবসায়ীদের উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে।
তবে দু:খের বিষয় এ বিষয়টিতে দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, বিরোধী দল, সরকারী দল , বাম-ডান-মধ্য সবাই নিরব। এদেশে বাড়ি থেকে বের করে দিলে হরতাল হয়, স্বাধীনতাবিরোধীদের ফাঁসিতে ঝোলালে হরতাল হয়, কান ধরে ওঠাবসা নিয়ে ফেসবুক তোলপাড় হয় তবে দেশের অর্থনীতির প্রতি আইএমএফের চাপিয়ে দেয়া সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে গেলে একটুও সোরগোল হয়না। হায়রে, বাংলাদেশ!তোমার সন্তানেরা তোমার স্বচ্ছলতা কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে কিচ্ছু করছেনা।তারা জানেনা, দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা সচল না হলে কর্মসংস্থান হবেনা, খাদ্য পাওয়া যাবেনা, না খেয়ে মরতে হবে।ওরা শকুনেরা তখন আমাদের সরকারকে একটু আধটু লোক দেখানো সাহায্য করে রাষ্ট্রের মূল্যবান সব কিছু নিয়ে যাবে।চুক্তির নামে, অবাধ বাণিজ্যের নামে, লেনদেনের নামে, বন্ধুত্ত্বের নামে, দাতা সংস্থার নামে।এখনি সাবধান না হলে বাংলাদেশের কপালে বিপদের ঘনঘটা।
৭।
আমাদের সকলের এই সম্পূরক শুল্ক বিদ্যমার রাখার ব্যাপারে জনমত গড়ে তুলতে হবে। আমার মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যদি এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ভালভাবে অবহিত করা হয় তবে তিনি এটি অবশ্যই বহাল রাখতে সচেষ্ট হবেন। কারণ বিদেশী পন্য এদেশে অতিরিক্ত আমদানিতে গুটিকয়েক পুঁজিবাদী লাভবান হবে। কিন্তু দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর দেশের শিল্পকে অসম প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেয়া হবে।কারণ আমাদের দুই দিকে দুই আধিপত্যবাদী ও বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্প্রসারণবাদী রাষ্ট্র চীন ও ভারত অবস্থিত। এমনিতেই দেশের যেকোন বাজারে, শপিংমলে গেলে চীন ও ভারতের পণ্যে বাংলাদেশী পণ্য খুঁজে পাওয়া যায়না। আর যদি সম্পূরক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয় তবে বাংলাদেশের যেসকল অবশিষ্ট পণ্য আছে তাও শেষ হয়ে যাবে। আর যদি একটি দেশের জনগণ সেদেশের পণ্য না পায় তবে ধীরে ধীরে একটি হীনমন্য প্রজাতির উদ্ভব ঘটবে। সেটি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অশনী সংকেত। উৎপাদন ব্যবস্থার চাকা যদি থেমে যায় তবে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মনির্ভরশীলতা বলে কিছু থাকবেনা। সেটি হতে দেয়া যাবেনা। তাই সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ১৭০ টিতে নয় সম্পূর্ণ ১৩৬২ টি পণ্যে করা হোক। সেই সাথে বিদেশী পণ্যের উপর আরো বেশি অর্থ ধার্য করে দেশের পণ্যের প্রসারে রাষ্ট্রের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের তীব্র দাবি।
আমাদের সকলের এই সম্পূরক শুল্ক বিদ্যমার রাখার ব্যাপারে জনমত গড়ে তুলতে হবে। আমার মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যদি এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ভালভাবে অবহিত করা হয় তবে তিনি এটি অবশ্যই বহাল রাখতে সচেষ্ট হবেন। কারণ বিদেশী পন্য এদেশে অতিরিক্ত আমদানিতে গুটিকয়েক পুঁজিবাদী লাভবান হবে। কিন্তু দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর দেশের শিল্পকে অসম প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেয়া হবে।কারণ আমাদের দুই দিকে দুই আধিপত্যবাদী ও বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্প্রসারণবাদী রাষ্ট্র চীন ও ভারত অবস্থিত। এমনিতেই দেশের যেকোন বাজারে, শপিংমলে গেলে চীন ও ভারতের পণ্যে বাংলাদেশী পণ্য খুঁজে পাওয়া যায়না। আর যদি সম্পূরক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয় তবে বাংলাদেশের যেসকল অবশিষ্ট পণ্য আছে তাও শেষ হয়ে যাবে। আর যদি একটি দেশের জনগণ সেদেশের পণ্য না পায় তবে ধীরে ধীরে একটি হীনমন্য প্রজাতির উদ্ভব ঘটবে। সেটি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অশনী সংকেত। উৎপাদন ব্যবস্থার চাকা যদি থেমে যায় তবে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মনির্ভরশীলতা বলে কিছু থাকবেনা। সেটি হতে দেয়া যাবেনা। তাই সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ১৭০ টিতে নয় সম্পূর্ণ ১৩৬২ টি পণ্যে করা হোক। সেই সাথে বিদেশী পণ্যের উপর আরো বেশি অর্থ ধার্য করে দেশের পণ্যের প্রসারে রাষ্ট্রের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের তীব্র দাবি।
যে সেলফি জেনারেশন এমন একটি ব্যাপারে চুপ রয়েছে তারা রাষ্ট্রের কোন কাজে আসবেনা। আবার যে গণমাধ্যমগুলো এই ইস্যুতে কোন সংবাদ প্রচার করছেনা তারাও বাংলাদেশের কল্যাণকামী নয়। লাল-সবুজ পতাকা সমুজ্জ্বল রাখতেই দেশে দেশের পণ্যের প্রসার ঘটাতে হবে। মনে রাখবেন, আলগা মুখে ফেনা তোলা দেশপ্রেম কোন দেশপ্রেম না যতক্ষণ না দেশের পণ্য ব্যবহার করছেন।হে প্রজন্ম ঘন ঘন দেশ নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়া, প্রফাইলে জাতীয় পতাকা দেয়া, ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা, জাতীয় সংগীতের সুর শুনে কান্না করা সবই মূল্যহীন এবং ভন্ডামী যদি না আপনি দেশের পণ্য ব্যবহার না করেন। যদি না দেশের পণ্য ও অর্থনীতি এবং উৎপাদন ব্যস্থা সচল রাখতে আপনি ভূমিকা না রাখেন।এই দেশের কৃষক-শ্রমিক বেঁচে থাকে যে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উপর নির্ভর করে তার উপর যে চাপ আসছে সামনে বিদেশী পণ্যের ঢালাও প্রবেশাধীকারে তা যদি প্রতিহত না করা যায় তবে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। দেশীয় শিল্প যদি ক্রমে এভাবে শেষ হয়ে যেতে থাকে তবে একদিন আমরাও গ্রাস হয়ে যাবো
-সাম্রাজ্যবাদের কবলে
-নয়া উপনিবশেবাদের কবলে
-আধিপত্যবাদীদের বলয়ে।
ঠিক করুন,কি করবেন। অর্থনীতি ও সংষ্কৃতি এখন ওৎপ্রোকভাবে জড়িত।সংস্কৃতি প্রায় অন্যদের করায়ত্ত্বে। এখন যদি অর্থনীতিও চলে যায় তবে আমাদের জাতীয় অগ্রগতির জ্বালানি শক্তি আর অবশিষ্ট থাকবেনা।আজ এ দুটো ক্ষেত্রই আগ্রাসনরে শিকার। আপনার আমার প্রতিরোধ, সচেতনতা ও সোচ্চার কন্ঠই পারে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের দেশের ভাগ্যের ব্যাপারে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে।চলুন যার যার জায়গা থেকে সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখার জোরালো দাবি জানাই।নাকি নাক ডেকে ঘুমিয়ে যাবেন চিরকাল?দেশের অর্থনীতি একবার পরনির্ভরশীল হলে রিমোট নিয়ে টিভি চ্যানেল পাল্টানো কিংবা শপিংমলে গিয়ে ব্যাগ ভর্তি কেনাকাট কিংবা সেলফিগিরি কিছুই আর করতে পারবেনা। এটাই সত্য,যতই আপনার কাছে অপ্রিয় লাগুক কিনা। এই বাংলাদেশ প্রাচীনকালে বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক ছিল। উর্বর ভূখন্ড, বিপুল পরিশ্রমী জনগণ এবং আস্ত একটা সমুদ্র বন্দর থাকতেও কেন তার অর্থনীতি অন্য দেশ বা জাতির উপর নির্ভরশীল হবে???





0 Comments