সর্বশেষ

অদ্বিতীয় বাংলাদেশ-৫

প্রাচীন বাংলাদেশের মৌর্য ও পাল রাজারা ছিল বৌদ্ধ।বৌদ্ধ ধর্ম ছিল তত্‍কালীন বাংলার ধর্মগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত উদার(আমি বার্মার ঐ ন্যাড়া খুনীগুলোর কথা বলছিনা,যারা মুখে জীবহত্যা মহাপাপ বলে আর মাঠে গিয়ে রোহিঙ্গাদের খুন করে।)ফলে বাংলার অনার্যরা নিজেদের সংষ্কৃতির সাথে কিছুটা বৌদ্ধ ধর্মকে জায়গা দিল।বাংলায় ভাববাদের জন্ম এখান থেকেই।অনার্যদের প্রাকৃত ভাষার উপর মৌর্য ও পালরা তেমন অনধিকার চর্চা করেনি।

পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসে বর্ণবাদী সেনরা।এরা ছিল গোঁড়া,ভোগবিলাসী ও অত্যাচারী।নিজেদের গোঁড়ামী ও বর্ণবৈষম্য এরা অনার্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়াতে চাইলো।তবে আমাদের অধিকাংশ পূর্বপুরুষ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলো।সেনরা আমাদের মুখের ভাষা প্রাকৃতের মধ্যে সেসময়ের বুদ্ধিব্যবসায়ী পন্ডিতদের দ্বারা সংষ্কৃত মেশাতে চেষ্টা করলো।সেটা সম্ভব হলোনা।এর মধ্যে বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মেরে তাড়িয়ে দিল সেনরা।যে কয়জন ছিল তারা অনার্যদের সঙ্গে মিশে থাকলো।এদিকে ধর্ম ও সংষ্কৃতি উভয় জিনিস জনগণের ওপর চাপাতে ব্যর্থ হয়ে নৃশংস অত্যাচার চালাতে লাগলো সেনরা।

চট্রগাম বন্দরের মাধ্যমে আরবরা অনার্য তথা খাঁটি বাংলাদেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য করতো।সেটা ৭০০ সালের দিকে।ইসলামের তখন স্বর্ণযুগ।সত্যিকারের নবীর স আদর্শ সবার মাঝে।আরব বণিকদের সদ্ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে অনার্যরা ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করে।

অন্যদিকে বর্ণবাদী সেন ও অন্যান্য রাজাদের অত্যাচারে অনার্যদের একটি অংশ চট্রগ্রামের সমুদ্র দিয়ে শ্রীলঙ্কায় চলে যায়।আজকের শ্রীলঙ্কানরা তাই বর্ণে,আচরণে ও আকৃতিতে বাংলাদেশীদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যাহোক সেনদের অত্যাচারের খবর সূদূর উসমানীয় সাম্রাজ্য পর্যন্ত চলে গেল।তুর্কি বীর বখতিয়ার খিলজি যখন অত্যাচারী লক্ষণ সেনকে আক্রমণ করেন তখন অনার্যরা তুর্কিদের স্বাগত জানায়।শুরু হয় অনার্যদের মন যোগাতে তুর্কিদের প্রচেষ্টা।তারা বাংলা ভাষা শিখে ও ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে এটা বোঝাতে সমর্থ হয় যে,তুর্কিদের উদ্দেশ্য সাম্রাজ্যবাদ নয়,বরং একটি আদর্শ প্রচার।এর প্রমাণ স্বরূপ তারা অনার্য নারীদের বিয়ে করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তুর্কি নারীদেরও অনার্য পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেয়।সেই সঙ্গে ইসলামের সবাই সমান তত্ত্ব আমাদের আকৃষ্ট করে।এর ফলে প্রাচীন বাংলার প্রায় সকল অনার্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
বাংলা ভাষা পায় সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ ।[চলবে...]
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments