| She herself started the news package with a mistake that became viral about GPA-5 and the education sysytem .Photo/screenshot from Youtube |
যারা ঢালাওভাবে জিপিএ পাঁচ পাচ্ছে তাদের অনেকের শিক্ষার অবস্থা খারাপ এ
ব্যাপারে একমত।কিন্তু ঐ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রথম অংশে উপস্থাপিকা কাজী
রওশন আরা সাকী নিজে যে একটি বাক্য ভুল বলছেন সেটি আলোচনায় আসছে না কেন?
সংবাদের শুরুতেই উপস্থাপিকা বা সংবাদপাঠিকা প্যাকেজের (একটি পূর্ণাঙ্গ টিভি প্রতিবেদন
যেখানে Sync, Vox Pop,PTC,Graphics,Aston ,IV ও Voice Over-VO ইত্যাদি থাকে
তাকে প্যাকেজ বলে)লিংক বা লিড ইন বা ইন ভিশনে বলেন,
''জিপিএ পাঁচ শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানেনা না জিপিএ মানে কি।...' প্রশ্ন হচ্ছে 'জিপিএ পাঁচ
শিক্ষার্থী' জিনিসটা নিয়ে। এটা কি বোঝায়?এই বাক্যটা কি বোঝায় তা নয় আমরা
আলোচনার সুবিধার্তে ধরে নিলাম । ঐ উপস্থাপিকা যে 'জিপিএ পাঁচ শিক্ষার্থী'
শব্দগুচ্ছ বলেছে এর অর্থ কি? তিনি বলতে পারতেন 'জিপিএ পাঁচ প্রাপ্ত' অথবা
'জিপিএ পাঁচ পাওয়া' অথবা 'জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত বা পাওয়া'। এক জনের ভুল ধরতে
এসে নিজে ভুল করবেন তা কিভাবে হয়? যেহেতু জিপিএ একটি ইংরেজি শব্দ সেহেতু
এর সঙ্গে পাঁচ না যুক্ত করে ফাইভ করাটাই যুক্তিসঙ্গত এবং সঠিক। ঐ উপস্থাপিকা
নিজে পড়তে ভুল করছেন অথবা ঐদিনের বুলেটিনের যিনি কপি রাইটার তিনি লিড ইনের
স্ক্রিপ্টে ভুল লিখেছেন।নিজেরা একটা ভুল দিয়ে শুরু করে অন্যের ভুলের ব্যাপারে অবস্থান নেয়া একটি ভুল পদ্ধতি।
২।এখন সৃজনশীলতার নামে শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনহীনতা এসেছে এ ব্যাপারটা অস্বীকার করার উপায় নেই।কারণ শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবস্থা আমাদের তরুণ ও তরুণীদের বইবিমুখ করে অপ্রয়োজনীয় কিছুমুখী করছে।আর দেশ,সাম্প্রতিক বিষয়,বিজ্ঞান বিষয়ে আনন্দ নিয়ে শিক্ষার বদলে কোমলমতিদের ছোটবেলা থেকেই ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে ভাল ও মন্দের সনদ।অথচ প্রতিটি শিশু ও শিক্ষার্থীই সমান মেধা নিয়ে জন্ম নেয়।সিস্টেম তাকে নষ্ট করে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ,শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নুরূল ইসলাম নাহিদকে সরিয়ে দায়িত্ত্ব তারচেয়ে কোন যোগ্য ব্যক্তির হাতে তুলে দিলে জনগণ ,দেশ ও সরকার সবার জন্য উপকার হবে।
৩।
ফিরে আসি ভুল প্রসঙ্গে। শিক্ষাব্যবস্থা ভাল নয় বলে নাহয় ঐসব ছেলেরা ও মেয়েরা ভুল করেছে।কিন্তু তাদের মুখগুলো ক্যামেরায় দেখানোটা কি সাংবাদিকতার এথিকসে পড়ে?ওরা ছোট।ওদের তো দোষ নয়,দোষ যারা ওদের উপর অকার্যকর সিস্টেম কিংবা তত্ব প্রয়োগ করেছেন তাদের।এখন ঐ বাচ্চাগুলো যে সারাটা জীবন ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটির মাধ্যমে উপহাসের পাত্রপাত্রী হবে তার দায়ভার কে নেবে?প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন কিংবা মাছরাঙা টিভি কি এটা ভেবে দেখেছে?
প্রতিবেনটি
তৈরির সময় কি ওদের মুখমন্ডল সম্পাদনা করে আড়াল করা যেতোনা?অবশ্যই
যেতো।তাছাড়া শিক্ষামন্ত্রী নুরূল ইসলামের কিংবা শিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত
কারো বক্তব্যই ঐ সংবাদে নেই।সংবাদটিকে বস্তুনিষ্ঠ করতে এই অংশটির দরকার ছিল
অধিক।এটা না করে যত দোষ নন্দ ঘোষের
মত ঐ শিক্ষার্থীদের মিডিয়া ট্রায়ালে এনে বরং সাংবাদিকতার নৈতিকতার সীমা
লংঘন করেছেন প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন। এ ব্যাপারে তাকেসহ মাছরাঙা কর্তৃপক্ষকে
অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা যেতে পারে।কারণ এ যুগের অতিআবেগী এসব ছেলেমেয়ে
কখন কি করে ফেলে তা এরা নিজেরাও ভালভাবে অনুধাবন করতে পারেনা।যদি ফোর্থ
এস্টেটে কাজ করা কর্মীরা অসচেতন হয় তবে এ দেশের নাগরিকদের সচেতন করবে কে
শুনি?
৪।
আবার
ফিরে আসি ভুল প্রসঙ্গে।দেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় অযোগ্য শিক্ষার্থী
তৈরি হচ্ছে এটা প্রমাণ করাই মাছরাঙার প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য বলে ধরে নিলে
আমাদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন আছে।আচ্ছা,দেশের গণমাধ্যম কি যোগ্য গণমাধ্যমকর্মীদের
দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে? সেখানে প্রতিবেদক,উপস্থাপিকা,উপস্থাপক,ভিডিও
এডিটর,সহ-সম্পাদক প্রমুখকে কিসের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়?তারা কি
জাতীয়তাবোধসম্পন্ন?দেশের ইতিবাচকতা তুলে ধরছে কি গণমাধ্যম?
কিংবা
সংবাদমাধ্যমে কাজ করা কয়জন আছে যারা একটি সর্বজন স্বীকৃত ধাপ পেরিয়ে
পত্রিকায়,টেলিভিশনে বা অনলাইন মাধ্যমে কাজ করছে?ক'জন জানেন সাংবাদিকতার
এথিকস?ক'জন ভিকটিমের প্রাইভেসি সুরক্ষা করেন?কয়টি সংবাদমাধ্যম দেশের
উন্নয়নের কারিগর কৃষককে সংবাদ উপাদান হিসেবে ভাবে?কৃষক-শ্রমিক
কতক্ষণ গণমাধ্যমে জায়গা পায়?দেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ত্ব ও সংষ্কৃতি
রক্ষায় গণমাধ্যম ও তার কর্মীদের দায়িত্ত্ব সম্পর্কে কজন অবহিত?কেন মাছরাঙা
টিভি ভারতের টেস্ট ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করে? কেন এদেশের গণমাধ্যমে দেশীয় সংষ্কৃতির
উপস্থাপনের চেয়ে পশ্চিমা ও ভারতীয় সংষ্কৃতির আধিপত্য?এদেশে সাংষ্কৃতিক
আগ্রাসনকে ডেকে এনে প্রজন্মকে ধ্বংস করার দায়ভার গণমাধ্যম নেবে কি না তা
নিয়ে একটি সংবাদ করা যায়না, হে আনোয়ার ও অন্যান্যরা?
আনোয়ার
হোসেনরা মিডিয়ার অভ্যন্তরে অযোগ্যদের দাপট নিয়ে কিছু দেখান না,লেখেন
না।স্বজনপ্রীতি,স্যাক্রিফাইস,অযোগ্যদের নিয়োগ এবং দেশাত্মবোধহীনতা যেভাবে
মিডিয়াকে গ্রাস করেছে তা নিয়ে কয়েকশ সংবাদ হতে পারে।আমার বিশ্বাস এই প্রতিবেদক ও সংবাদ পাঠিকা না হলেও টিভি , পোর্টাল ও পত্রিকায় এমন হাজারো কাজী রওশন বা আনোয়ার হোসেন রয়েছেন যারা সাংবাদিক বা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যোগ্য নন। তবুও ঠিক কি কারণে তারা মিডিয়ায় কাজের সুযোগ পাচ্ছেন তা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করা যেতে পারে কি না?
যেসব
সাংবাদিক মিডিয়ায় কাজ করে তারা কয়জনে স্বাধীনতার ইতিহাস জানেন?যদি আপনার
পরিচিত টিভি মিডিয়ায় কাজ করা এংকর বা রিপোর্টার থাকে দেখে আসুন তার
টাইমলাইন।তাদের অধিকাংশের ভাষা বাংলা ইংরেজির খিচুড়ি,হিন্দি-ইংরেজি গানের
লিংকে পূর্ণ এসব টাইমলাইনের মালিক ও মালিকাগণ
আমাদের যখন সংষ্কৃতি ও দেশাত্মবোধের ছবক দেন তা মানতে কষ্ট হয়।কেন
পত্রিকায় কৃষক-শ্রমিকের জন্য পৃথক একটি পাতা থাকেনা যেখানে নোংরা জীবনযাপন
করেও সানিলিওন একটি পাতায় স্থান পায়?
৫।
![]() |
| মাসরাঙা??? |
যাহোক
মাছরাঙা টিভি তার লোগোতে 'maasranga' লিখে রাখছে।এত দেশের প্রতি অনুরাগী
টিভি চ্যানেলটি বাংলা অক্ষরে 'মাছরাঙা' লেখেনি কেন? আচ্ছা, 'ছ' এর ইংরেজি
বানান 'Chh' না?
So I'm a 'মাসরাঙা' and they are GPA-5
And we both are the two sides of the same coin.
আমার ব্যক্তিগত অভিমত, যে উপায়ে নেপালের রাজধানী নেপচুন হয়েছে, যে কারণে অপারেশন
করার সময়ের লাইট অপারেশন সার্চলাইট, যেভাবে পিথাগোরাস একজন ঔপন্যাসিক ঠিক সেভাবেই, সেকারণেই মাছরাঙা Maasranga=মাসরাঙা হয়েছে। তো সর্ষের অভ্যন্তরের এই ভূতটা কে
তাড়াবে,হে সাংবাদিক ভ্রাতৃকুল ?!?

0 Comments