সর্বশেষ

চিরদুঃখী রোহিঙ্গা জাতি


বেীদ্ধ সন্ত্রাসী কর্তৃক খুন হওয়ার ভয়ে এভাবেই বাংলাদেশে আশ্রয় প্রার্থনা করছে এক রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবার।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পার্শ্ববর্তী ভারতের করায়ত্ত্বে থাকা বাংলাদেশি ভূখন্ডে শরণার্থী হিসেবে প্রায় ১ কোটি লোক আশ্রয় নেয়।বাংলাদেশি বাঙালিরা পাকিস্তানি বর্বরদের দ্বারা নির্যাতনের স্বীকার হয়।ফলে আমরা অস্ত্র ধরি।আমরা ক্যাম্প গড়ি ভারত নিয়ন্ত্রিত বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলে।তারপর আমরা যুদ্ধ করে দেশকে পরিপূর্ণ স্বাধীন করি।তাই পৃথিবীর যেকোন নির্যাতিত জনতার পাশে দাঁড়ানো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শিক্ষা।অন্য জাতির দ্বারা নিষ্পেষিত,স্বাধীনতাকামীরা বাংলাদেশের সমর্থন পাওয়ার দাবিদার।
২।
আরাকানের অধিবাসীদের রোহিঙ্গা বলা হয়।সেই সুদূর অতীত থেকে তারা স্বাধীন ছিল।আরাকান ছিল একটি সভ্য রাজ্য।সেখানে সাহিত্যের সমাদার ছিল।তাদের মূদ্রা ব্যবস্থাও ছিল।সমুদ্রপথ হাতে থাকায় তারা শক্তিশালীও ছিল।একাধিকবার চট্রগাম দখলও করে নেয়।তবে বাংলার স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন আরাকানের কাছ থেকে চট্রগ্রাম উদ্ধার করেন।পরবর্তী সময়ে মোগল ও ব্রিটিশরা আরাকানের দিকে দৃষ্টি দেয়।রোহিঙ্গাদের উপর বৌদ্ধ রাখাইনদের অত্যাচার বহু পুরোনো কাল থেকে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানী সন্ত্রাসীরাও রোহিঙ্গাদের হত্যা করে।১৯৭৮ সালের পর থেকে এ অত্যাচার আরো বেড়ে যায়।১৯৪৭ সালে রাখাইন বৌদ্ধদের হাত থেকে বাঁচতে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে আসার চেষ্টা করে রোহিঙ্গারা।তবে সেসময়ের অযোগ্য নেতৃত্ত্বের ফলে এটি সম্ভব হয়নি।তাই আমরাই অসভ্য রাখাইনদের হাতে খুন হতে ছেড়ে এসেছি।জাতিসংঘের একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশ যে,রোহিঙ্গারা সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি।
এই নির্যাতিত জাতির পাশে কি আমরা দাঁড়িয়েছি?বাংলাদেশের আদি সন্তানই তো এরা।কেন তবে তাদের দুঃখে আমরা ব্যথিত হইনা?নৃতাত্ত্বিকভাবে তারা বাঙালি অথবা বাঙালিদের খুব কাছাকাছি।ভাষার বিবেচনায় তারা বাঙালি,যদি চট্রগ্রামের ওরা বাঙালি হয়।

বাংলায় ব্যাপকভাবে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটে তুর্কিদের মাধ্যমে।এর আগেই অবশ্য আরব বণিকেরা ব্যবসা করতে ভীড় করে।চট্রগ্রামের অধিকাংশ নাগরিক মুসলমান।অন্যদিকে বার্মার সমগ্র এলাকা বৌদ্ধ কবলিত।তারমানে আরাকানে ইসলাম প্রচার করেছে চট্রগ্রামের অধিবাসীরা।বার্মার প্রায় সকল অধিবাসী নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলিয়ান।আর আরাকানীরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাঙালি অথবা বাঙালিদের কাছাকাছি।তাদের শারিরীক গঠন,কথা বার্তা,আচরণ সব আমাদের মত হওয়ার পরেও কেন তাদের পর ভাবি?তাদের একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল।আমাদের উচিত সেই স্বাধীন আরাকান রাজ্যটি ফিরিয়ে দেয়া।রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার একটাই পথ।স্বাধীন আরাকান গঠন।
  ৩।
২০১২ সালের পর রাখাইন সন্ত্রাসীরা পাইকারী হারে রোহিঙ্গাদের মারতে থাকে।বিশ্বমোড়ল ফোড়ল আর মানবতাবাদীরা তখন নির্লজ্জের মত চুপ করে থাকে।বাংলাদেশে কিছু শরণার্থী শিবিরে এরা আশ্রয় পায় অথচ তা নিয়েও সুশীল ভন্ডদের কত যে অভিযোগ।এখন প্রশ্ন বাংলাদেশ যেহেতু অত্যাচারিত হয়েছে কেন সে আরাকানের পাশে দাঁড়াবেনা?যদি শরণার্থী হিসেবেও তাদের আশ্রয় দেয়া না হয় তবে কেন তাদের একটি স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র দিতে জাতিসংঘে প্রস্তাব দেয়া হচ্ছেনা?
OIC এর মাধ্যমে কি এ প্রস্তাব দেয়া যায়না?সৌদি আরব,ইরান,তুরস্ক এক হয়ে কি নিরাপত্তা পরিষদের কর্তাদের কাছে এটি তুলে ধরতে পারেনা?রোহিঙ্গারা কি মানুষ নয়?
আর জাতিসংঘ কেন বার্মাকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলেনা?কেন অং সান সকি বদমাশ মহিলা শান্তিতে নোবেল পেয়েও রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মুখে কুলুপ আঁটে?কেন চীন  রাশিয়া, আমেররিকা, সিরিয়ার মত মিয়ানমারের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে চায়না?মিয়ানমারের আরাকান যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল, যে রাষ্ট্রে ঐ বার্মিজরা কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতো সে কথা সবাই ভুলে গেছে। আজ নিজের বাড়িতে পরবাসী ওরা। ওদের জন্য কেউ নেই...!

(১৮ মে ২০১৫ তে লিখিত।)
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments