সর্বশেষ

মরণতরী থেকে রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বলছি






বীরদর্পে তোমরা মানুষ পরিচয় দাও বলে
আমরা দেইনা,শত বার আমরা মরে গেলেও
দাঁত বের করে তোমরা সভ্যতার পায়রা উড়াও বলে
আমরা সভ্য পরিচয় দেইনা,দেশছাড়া হলেও।

আমরা রোহিঙ্গা।

আরাকানের সমৃদ্ধ রাজ্যটি বার্মার দূষিত গর্ভে নিপতিত হওয়ার পর
আমরা জাতিগত জীবন্মৃত;নিজঘরে পরবাসী;আমরা দেশান্তরি
ঘৃণিত শরণার্থী।সর্বশেষ তোমরা আমাদের সমুদ্রে নিক্ষেপ করে হত্যা করছো
আমাদের মরে গিয়ে দুঃখ নেই;অসভ্য ও অমানুষদের আমরা চিহ্নিত করে গেলাম।
তোমাদের বড় বড় সংঘ,ওআইসি,এই জোট সেই জোট
আরব্য ধনকুবের,ওসমানীয় তুর্কি,পারস্য প্রেম এসব আমাদের জন্য নয়
তোমাদের দুশ্চিন্তার ঘনঘটা পূর্ব তিমুর,স্কটল্যান্ড বা দক্ষিণ সুদান নিয়ে
একটি স্বাধীন আরাকান তোমাদের রোল মডেলে নেই
তোমাদের মানবাধীকার সংগঠনগুলোও বেহায়ার মত চুপ থাকে আমাদের ব্যাপারে।
আমরা রোহিঙ্গা।
তোমরা বলো স্টেটলেস,অভিবাসী,মুসলিম,অনুপ্রবেশকারী আরো কত কি
শুধু বলো না 'ওদের স্বাধীন রাষ্ট্রটি কে গায়েব করলো ?'
তাই আমরা আর কিছু বলবো না,করুনতম উপায়ে মিনতি করেছি
বেঁচে থাকার আশ্রয় পেতে;ফিরিয়ে দিয়েছো করজোড় করা দুহাতে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে
আমাদের জীবনতরী ভাসিয়েছো নাফ ও আন্দামান সাগরে
বাংলা,থাই,মালয় কিংবা ইন্দো কেউ আর মানুষ দাবি করো না
তোমাদের মনুষত্ত্ব সমুদ্রের জলে উপহাস করে
আর তোমরা যে মানব আমরা তা না,হতে চাইনা

আজ আমরা পরিচয়হীন,রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা ।
অথচ আমরা এমন ছিলাম না।ইতিহাস ঘেঁটে দেখো আমরা বিচিত্র সমৃদ্ধির এক জনপদ
আমাদের রাজসভায় তোমাদের আলাওল সমাদৃত,
পৃথিবীর বাণিজ্যে আমরাও সক্রিয় ছিলাম,যতদিন না
ব্রিটিশ শূয়োরের দল আমাদের কেটেছেড়ে সন্ত্রাসী রাখাইনদের হাতে তুলে দেয়
অথচ চেয়েছিলাম ৪৭ এ তোমাদের সাথে মিশে যেতে
সেদিনও নাওনি;আজো নিলেনা-আমরা খাঁটি মৃত্যুপথযাত্রী।

আমরা রোহিঙ্গা।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এক জাতিস্বত্ত্বা একদা আমাদের ছিল
আজ আমরাই ট্রলারে অনাহারে,বাংলাদেশিদের সাথে
কি হতভাগা আমরা যে খাবার কাড়াকাড়ি করে একশত চারজন মরে যায়
আর তোমরা হেলিকপ্টারে উড়ে তা উপভোগ করো,
গণকবরেও পঁচি আমরা,তোমাদের ফটোগ্রাফাররা তোলে দূর্দান্ত সব আলোকচিত্র
আর আমরা একে অন্যের হাড় গুনে সময় কাটাই
ক্যামেরা দেখলে বলি,'একটু পানি দাও,আমরা বেঁচে আছি মূত্র খেয়ে'।
বিচার দিলাম।হে ঈশ্বর,গড,আল্লাহ তুমি তো দেখেছো
আমরা চললাম তোমার দিকে,এই তো ভাগ্যে রেখেছো।

(১৮ মে ২০১৫ লিখিত। যখন সমুদ্রে না খেয়ে মরে যায় শত রোহিঙ্গ। বিশ্ব তখন নিউজ কাভারেজ দিতে খুব ব্যস্ত।মানুষ হিসেবে ওদের না দেখে, নিউজ এলিমেন্ট হিসেবে দেখেছিল, আজো দেখে।)
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments