সর্বশেষ

সাবিরা, আত্মহত্যা ও নষ্টপশ্চিম


সদ্য আত্মহত্যা করা মডেল সাবিরা।ছবি/সাবিরার টাইমলাইন।
এইভাবে এইকালে আমাদের ঘরের চাল ফুটো হয়ে যাবে
তা কেন ভাবিনি আগে?
পশ্চিমের পাশবিকতাকে রঙিন মোড়কে যখন টিভি-পত্রিকা,বিলবোর্ড-মিডিয়া ছড়াচ্ছিল
যখন ফেমিনিজম নামের পুঁজিবাদী ধুতুরা আমাদের মায়েদের চিরায়ত জীবনকে কটাক্ষ করলো
বোনের সাথে সহযোগিতার বন্ধন কেটে প্রতিদ্ধন্দ্বিতার উদ্ভব ঘটালো
তখন আমরা বড় বড় কলাম পড়েছি,লিখেছি আর আধুনিকায়নের পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছি
কি নিদারুন দারুন নির্বোধ পন্ডিতগুলো

ঘরে আগুন দিতে আসা দুর্বৃত্তকে অভ্যর্থনা দিলো করতালি দিয়ে!
আমাদের লম্পট নির্ঝরগুলো আর রাস্তায় কোন মা কে হেঁটে যেতে দেখেনা
অথচ এ মাটিজুড়ে একদা মায়েরা হাঁটতো
আমাদের সেলফি জেনারেশন বাস্তবতা বিবর্জিত,নির্মম, ওরা অসামাজিক একেকটা
রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস পাল্টে হারিয়ে যায় বন্ধুর সাথে ইমোতে, স্কাইপে,মেসেঞ্জারে
কে যে কার প্রেম, কে যে কার ভালবাসা, কে যে কারে চায়
ওরা তা বলেনা, ওরা তা খোঁজেনা
শরীরসর্বস্ব এ অপপ্রজন্ম কে এনেছে এদেশে?কারা বলে বেড়ায় পশ্চিমকে সুপিরিওর?
সেই সব হারামখোর এ দেশ, এ বাঙাল , এ কৃষি, এ স্নেহ, এ আদর ধ্বংস করেছে
তাই বাংলাদেশ কেঁদে মরে একেকটি সাবিরার পতনে
সাবিরার মরে যাওয়া একটি প্রজন্মের ধ্বসে যাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা।
 

তারপরও সাবিরা ও সাবিরারা মডেল হতে চাইলো
ওদিকে ছবি বেচে জীবীকা নির্বাহের ছবককে সঠিক রায় দিয়েছে
আমেরিকা আর ইউরোপ
অতএব আমাদেরও শাড়ি-চুড়ি-লুঙ্গীকে না বলতে হবে
মডেলিংয়ে সাবিরার আগমনে
নির্ঝর সিনহারা ডিএসএলআর ফাঁদ ফেলে
উঠতি মডেল হতে সাবিরাকে পশুর চেয়ে জঘন্য পুরুষের লালসার বলী হতে হয়
উঠতি মডেলের না বলা কষ্টমিশ্রিত নামতি মিডিয়ায় আসেনা
তারপর ওরা ঘর বানায়;ঘরের নাম লিভ টুগেদার
অবাঙাল,অমুসলিম,অহিন্দু,অবৌদ্ধ এ ঘর
পশ্চিমা সংসার
খাও-দাও-ছেড়ে দাও
ব্রেকআপ,সরি,এপোলজি, সুইসাইড
এবং যান্ত্রিক জীবনের সুনসান অবসান!
তারপর তোলপাড়
দৈনিক ফেতথোম মিথ্যালো,এইটিভি সেইটিভি,ব্রেকিং নিউজ,ঝড় বয় সোস্যাল মিডিয়ায়
কেউ খোঁজেনা সংকটের শিকড়
কে আমার ঘরে এসে আমাকে বললো ঘরহীন
কে এসে তার কথা চাপালো আমার মাথায়
কে তার সংষ্কৃতি অধিকারের ছদ্মবেশে খাওয়াচ্ছে আমারে
কে করলো প্রাচ্যকে অস্বীকার ?
কে জ্বালালো গোছানো বাড়িতে নষ্ট আগুন?

আমার পোশাক আমার আশাক
আমার মা আমার বোন
আমার কৃষক আমার কৃষি
আমার নৌকা আমার নদী
আমার জীবন আমার ছবি
যে আধিপত্য,যে মুনাফাখোর সিস্টেম অস্বীকার করলো সেটাই হত্যা করেছে
সাবিরারে
ঐ পশ্চিমকে এদেশ থেকে মূলোত্‍পাট না করা গেলে আমাদের সন্তানেরা
নিঃসন্দেহে কেউ সাবিরা অথবা কেউ ঐশী
অথবা জুনায়েদ,ছাদিয়া,নুরল্লা,নায়লা,প্রভা, রাজিব,অপূর্ব
স্যাক্রিফাইসনির্ভর নর্দমায় শিল্পরা বাস করে নগ্নদেহে!

হাজার বছরের অনার্য বাতাসে যে কলমির ডাল দুলেছে ফুল লয়ে
যে বটের ছায়ায় বেঁচেছে জমিরণ-অঞ্জলী
তারে বাদ দিয়ে
তারে না নিয়ে
সভ্যতার যে চাকা ঘোরে ভাঁটির দেশে তা নিয়ে যায় বহু পিছনে
কপালে পরিণাম লেখা থাকে
“ভেসে যাও গিনিপিগ হয়ে প্রতীচ্য’র অমানবিক পুঁজির গর্ভে।”

সাবিরারা দলবেঁধে যায় আলোক দেখে
ক্যামেরার সামনে
ক্যামেরা পিছনে
সাবিরাদের ধরে ধরে গ্রিল বানায় ফটোগ্রাফার,ডিরেক্টর,ওনার,এমডি,হেড অব নিউজ,এডিটর
সাবিরাদের বেচে দেয় পত্রিকার প্রথম পাতায়
টিভির কোণায় কোণায়
রাস্তায় বড় বড় বিলবোর্ডে,রেডিওবার্তায়,
বিস্কুট-পানীয়-সাবান-শ্যাম্পু-মোবাইল ফোন-সিম-এপার্টমেন্ট-বডিস্প্রের সাথে বিক্রি হয় সাবিরা
বিক্রি হয় সাবিরার রূপ গ্ল্যামারের নামে, মায়ের চিহ্নটুকু মুছে দিতে মরিয়া যে শয়তান সে-
সাবিরাকে আত্মহত্যায় ঠেলে দেয়
ওর নাম ক্যাপিট্যাল,ওটা বেনিফিট,ওর নাম ভোগবাদ
সাবিরার আত্মহত্যা আমাদের আত্মাকে হত্যা করে বলে দেয়
প্রাচ্যের সাথে পশ্চিমের একত্রে বসবাস হতে পারেনা
না না না ।

হ্যাঁ, সাবিরা বলে যায়
প্রাচের সাথে পশ্চিমের একত্রে বসবাস হতে পারেনা, চলতে পারেনা
কিছুতেই না না না
এ কথা কি বোঝেনা সে বোঝেনা দেখে বিহবল প্রজাতী বোঝে?
এ ব্যথা কি সানিলিওনের বেহায়া ভক্তরা খোঁজে?।

যে জীবন কলমির,যে জীবন শাপলার, যে জীবন শালুকের-হিজলের-তমালের-শিমুলের
ভ্যালেনটাইনের আর্টিফিসিয়াল দিবসে তাতে গোলাপ ঢেলে দেয় বৃহৎ এক কৌটা বিষ
রক্ত পরম্পরায় যে দেহ বহন করে একটি হৃদয়
তার ভেতর বহুত্ত্বকে জোর করে ঢুকানো অস্তিত্ত্বের সংকট ডেকে আনা
তাই সাবির বলে যায়
পশ্চিমের ব্রেকাপ,লিভ টুগেদার স্কেল এদেশে,এ মাটিতে বেমানান
পলাশীর রক্তাক্ত প্রান্তরের মত আমরা আবারো ভুল করছি
সাবিরা বলে যায়,
পশ্চিমকে মানদন্ড করা শিকড়ত্যাগীদের নিতে হবেই এ হত্যার দায় !

নিজেরে খুন করে ও দেখিয়ে দিল আমরা কত কত খুনী উত্ৎপাদন করছি এই দেশে
ঘরে বাইরে,মিডিয়া-শপিংমলে,ক্লাসে-আড্ডায় হেসেখেলে ইউরোপ ও আমেরিকা স্থাপন করে
আমরা তামাশা দেখছি;এক দানবীয় পরগাছা অপসংষ্কৃতি আমাদের বসতভিটেয় উড়ে এসে জুড়ে বসতে চাচ্ছে
আর আমরা বাঁধা না দিয়ে চেয়ার মুছে দিয়ে বলছি,
“সরি, বসুন!আমরাও আপনাদের মত হতে চাই। আমরা আধুনিকতার বড়ি চাই।”
অথচ
এ ভূখন্ডে যখন দাবড়ে বেড়িয়েছে পরাক্রমশালী অনার্য শাসক,যখন গড়ে উঠেছে মহাস্থান গড়, বটেশ্বর, পানাম নগর
যখন ঈশা খাঁ তাড়িয়েছে দিল্লীর ছায়া,তখন আমেরিকা বলে কিছু ছিলনা, ইউরোপ বর্বর গুহাজীবন যাপন করছে
যখন বাংলায় ফলেছে ফসল বিপুল, যখন গোলায় ধান আর পুকুরে মাছ ছিল তখন কি আধুনিকতার অভাব ছিল বাংলাদেশে?
তখন কি আমার মা ও বোন ও কন্যা কি অবদান রাখেনি সভ্যতায়?রাজিয়া থেকে রোকেয়া
রানী ভবানী,ইলা মিত্র, তারামান থেকে সেতারা কয়জনকে চাও?খনাকে চেনো?
তাহলে কোন মানদন্ডে হে আগাছাপাল, তুমি পশ্চিমের মানদন্ডে নিজেরে পশ্চাৎ ভাবছে?
এ হীনমন্যতাই তোমাকে হত্যা করে, তোমার প্রাচ্য, তোমার বাংলাদেশকে খাটো করে দেখাই সাবিরার আত্মহত্যার কারণ
বলছে ওপার থেকে চলে যাওয়া পুঁজিবাদের ছোবলে মৃত সাবিরা
যদি টিকে থাকতে চাস
অনার্য বাঙালের অর্থনীতি-সংষ্কৃতি খুঁজে এনে বুকে ধর ফের তোরা।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments