আমরা সবাই সবার আগে বাংলাদেশী। তারপর কেউ কোচ, কেউ মারমা, কেউ চাকমা, কেউ গারো, কেউ সাঁওতাল, হাজং, চাক, কেউ বাঙালি।তারও পর কেউ হিন্দু, কেউ বেীদ্ধ, কেউ মুসলিম, কেউ খ্রিস্টান, কিংবা কেউ কোন ধর্মের অনুসারী না। কিন্তু এগুলো আমাদের রিপ্রেজেন্ট করলে তা সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিতে পারে। এইভাবে, এ ধরনের পরিচয়ে নিজেকে আবদ্ধ রাখায় কোন সমাধান আসবেনা। এই পরিচয়গুলো “সংখ্যালঘু”(Minority) এবং“সংখ্যাগুরু”(Majority) নামের দুটি চরম অমানবিক শব্দগুচ্ছের উদ্ভব ঘটিয়েছে। এই শব্দের মাধ্যমে সমাজের একটি অংশকে গণমাধ্যম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় “তোমার সংখ্যা কম” যা কোন মানবিক সমাজ ব্যবস্থায় সুষ্ঠু ও সুস্থ আচরণ হতে পারেনা। অপরাধীর কোন ধর্ম নেই, তার কোন সামষ্টিক পরিচয় নেই। তেমনি আক্রান্ত ও নিপীড়িত ব্যক্তির একমাত্র পরিচয় সে আক্রান্ত। তার ধর্ম, তার বর্ণ, তার লিঙ্গ কখনো তার নিপীড়িত হওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবেনা। আমাদের মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে দুটি শ্রেনীর কথা। একটি শোষক, আরেকটি শোষিত, একটি আক্রমণকারী আরেকটি আক্রান্ত, একটি সবিধাভোগী, আরেকটি সুবিধাবঞ্চিত।এখানে কেন ধর্মীয় পরিচয় আসবে?যখন আপনি আক্রান্তের ধর্মীয় পরিচয় দেখে তার প্রতি সহানুভূতি অথবা ক্ষোভ ধারণ করবেন তা আপনার ভেতরের সাম্প্রদায়িক, সংকীর্ণ ও বর্ণবাদী রূপটাকে ফুটিয়ে তুলবে। আপনাকে আমাকে মানবতাকে গুরুত্ত্ব দিতে হবে। আমাদের সর্বপ্রথম পরিচয় আমরা মানুষ।এক মানুষ আরেক মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াবে শর্তহীনভাবে।আপনি যখনই শর্ত দেবেন সাহায্য করতে তখনই তা স্বার্থ কবলিত হবে। এই শর্তগুলোই বর্ণবাদ, এই শর্তগুলোই তলে তলে ভীষণ অমানবিক। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই বর্ণবাদী শর্ত প্রকাশের জন্য “সংখ্যালঘু”, “নারীবাদ”,“মাইনোরিটি”, “এথনিক গ্রুপ” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়। সংখ্যালঘুপন্থীরা কোন সংখ্যাগুরু যদি আক্রান্ত হয় মুখে কুলুপ আঁটে, নারীবাদীরা অর্থের অভাবে পড়াশোনা না করা রিকশাওয়ালা ছেলেঠি, কিংবা ফটপাতে ঘুমানো ছেলেটিকে কেবল পুরুষ হওয়ার কারণে সুবিধা প্রদান থেকে বঞ্ছিত করে ইত্যাদি। এভাবে মানবিকতা হয়না। এটা নিওলিবারেল টেররিজম। এর মাধ্যমে একটি পক্ষকে ডিকনস্ট্রাক্ট করে নতুন পরিচয় দেয়া হয় , আর আরেকটি পক্ষকে ডিহিউম্যানাইজড করা হয়। তাই নারীবাদ পশ্চিমা স্বার্থে সংঘটিত চলমান আগ্রাসন ও যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবাদ জানায়না। যেন ইরাকে, ভিয়েতনামে, ইয়েমেনে, ফিলিস্তিনে কিংবা সিরিয়ায় বোমা হামলায় শুধু পুরুষই মারা যায়, তাইনা?
আর সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বিভাজন সৃষ্টি না করলে একটি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আর যে কোন পথ থাকেনা।এই ইস্যুতে খুব দ্রুত একটি পশ্চিমা বলয়ের বাইরের সরকারকে চাপে ফেলে দেয়া যায়...।
আর সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বিভাজন সৃষ্টি না করলে একটি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আর যে কোন পথ থাকেনা।এই ইস্যুতে খুব দ্রুত একটি পশ্চিমা বলয়ের বাইরের সরকারকে চাপে ফেলে দেয়া যায়...।
২।
“সংখ্যালঘু” মানে যার সংখ্যা কম, যে সংখ্যায় কম। এই শব্দটির উদ্ভব পশ্চিমা এন্থ্রোপলিজ ও সোসিওলজির অধ্যয়নে।পশ্চিমে এই বিষয়গুলোর উদ্ভবের সঙ্গে তাদের বর্ণবাদী ও আধিপত্যবাদী মানসিকতা জড়িত, জড়িত সোস্যাল ডারউইনিজমের মত ভয়াবহ বর্বর বিষয়। সংখ্যালঘু ইস্যুটিকে ব্যবহার করে ইউরোপ ও আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের পলিসি চাপিয়ে দেয়।কারণ নয়া সাম্রাজ্যবাদী কাঠামোতে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ট্যাংক দিয়ে কোন দেশ বা কোন জাতিকে জয় করার দরকার পড়েনা। মিডিয়ার মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন নামের ইউরোপ ও আমেরিকার স্বার্থরক্ষাকারী সংগঠন ও সংস্থার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতার বলয়কে বৃদ্ধি করে সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমারা।গঠন করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এমনেস্টি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মত কথিত মানবাধীকার রক্ষা সংস্থা নামের পশ্চিমা স্বার্থরক্ষাকারী গুপ্তগোষ্ঠী।এদের কাজ জায়োনিস্টদের অনুকূলে নেই এমন সরকার ও জাতির মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে সংখ্যালঘু গ্রুপ(Minority Group), ধর্মীয় সংখ্যালঘু(Religious Minority), নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু(Ethnic Minority) ইত্যাদি শব্দের মাধ্যমে ঐ জাতির ঐক্য বিনষ্ট করা। আমাদের দেশেও এই ষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতে যে ষড়যন্ত্র করার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে তার আশু বিষয় ছিল কিন্তু এই “সংখ্যালঘু” (যুগান্তর, ইত্তেফাক, জেরুজালেম অনলাইন)।তাহলে এই শব্দের যে রাজনৈতিক অর্থনীতি তা আমরা কেন বুঝতে পারছিনা?নাকি বুঝেও এদেশের কিছু সুশীল মহল এটাকে চলতে দিচ্ছে। এর সঙ্গে কি তাদের রুটি-রোজগার জড়িত?ইউরোপ ও আমেরিকায় বুদ্ধিবৃত্তিক ভীক্ষাবৃত্তি করতে কি এই “সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু” অপতত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়?আমরা এখনো তা বুঝতে পারছিনা কেন?
৩।
বুঝতে পারছিনা কারণ আমাদের যারা এই্ শব্দটির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন তারা সকলে পশ্চিমা শিক্ষায় কথিত শিক্ষিত। দেখবেন হয় তারা ইউরোপ বা আমেরিকার কোন দেশে আরামে বাস করছে অথবা ইউরোপ-আমেরিকা থেকে কথিত উচ্চতর পড়াশোনা সম্পন্ন করে এসেছে।এরা নয়া পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের প্রসারণের প্রথম দিকের তাত্ত্বিক ওয়াল্ট রসটোউ, লার্নার, শ্র্যামের মতে ”Change Agents” বা বাংলা করলে দাঁড়ায় পশ্চিমা মানদন্ডে প্রাচ্যে পরিবর্তন আনায় সহায়তাকারী দালাল।এরাই এদেশে প্রথম এই সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু বিভাজনকারী শব্দ এনেছে। অথচ হাজার হাজার বছর ধরে বাঙালি মুসলমান , বাঙালি হিন্দু, পাহাড়ী, সমতলী এই সংখ্যার বিচারে কোনদিন বাস করেনি। আমাদের জীবনযাত্রা বৈচিত্যময়তার মধ্যে দিয়ে একতাব্ধ ছিল। কিন্তু কিছু পশ্চিমা অনুকরণকারী পত্রিকা এবং টেলিভিশনের প্রোপগান্ডায় এই সংখ্যালঘু শব্দটিকে জনপ্রিয় করা হয়েছে। এ কারণে এই শব্দের রাজনৈতিক ব্যবহার শুরু হতে দেরি হয় নাই। পাশাপাশি সাম্যবাদী মানকিতায় যারা এতদিন একসাথে বাস করেছে তারাই মিডিয়ার অপপ্রচারের ফলে একে অপরের কাছে নতুন পরিচয়ে পরিচিত হলো। কেউ হয়ে গেল সংখ্যালঘু কেউ গুরু!রাম আর রহিম এখন আর হিন্দু আর মুসলমান নেই। কারণ হিন্দু মুসলিম শব্দ ব্যবহার করে এদেশে ভারত-পাকিস্তান থেকে দাঙ্গা আমদানী করতে অসমর্থ হয়েছে বাংলাদেশবিরোধী চক্র, এখন তারা সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরুর সওয়ার হয়েছে। কারণ এটা দিয়ে স্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা যাবে। সংখ্যালঘু ইসূটি চিরদিন পশ্চিমা তথা আমেরিকা ও ইউরোপকে লাভবান করে। এ ইস্যুটিকে নিজেদের আজ্ঞাবহ জাতিসংঘ, এমনেস্টি ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবহার করে ওরা অন্য জাতির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সেখানে আগুন লাগায়। তারপর সেখান থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা লুটে নেয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই বীজ বপন করেছে ইংরেজরা। মধ্যপ্রাচ্যে, আফ্রিকায় ফ্র্যান্স ও ব্রিটেন এবং ফিলিপাইনে আমেরিকা।অথচ ইউরোপে কিন্তু এসব বলেনা ওরা। সেখানে সংখ্যালঘু হিস্পানিক আছে, আছে রেড ইন্ডিয়ান। তবে নিজেদের জাতীয় স্বার্থে তা থেকে বিরত থাকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা। একারণেই এত গবেষণা করা পশ্চিমারা এখনো The Political Economy Of Minority নামে কিছু লেখেনি।
৪।
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনায় কথিত “সংখ্যালঘু” ইস্যূটিকে মোসাদ ও সন্ত্রাসী ইসরাঈল গুরুত্ত্ব দিয়েছে বলে জেরুজালেম অনলাইনের প্রতিবেদনটিতে দেখলাম। এই বর্ণবাদী ইস্যুটি নিয়ে যারা কাজ করেন এদের আন্তর্জাতিক প্রভুরা কারা সেটি বের করতে হবে। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে যারা দেখাতে চায় তারা এই সরকার, এই দেশ ও এই মাটি সবার জন্য ক্ষতিকর। যে খুন হয় সে ভিকটিম।যে খুন করে সে অপরাধী্। ভিকটিম ও অপরাধীর পরিচয়ে কেন সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আনা হবে?তারমানে যখন সংখ্যালঘু কেউ খুন হবে আপনি কথা বলবেন আর যখন সংখ্যাগুরু খুন হবে মুখে কুলুপ আঁটবেন?এটাই তো বর্ণবাদ।যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিংবা জুলহাস খুন হয় তারাতো সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের ব্যাপারে আপনি নিরব থাকবেন?না, আপনি যদি সত্যিকার মানবতাবাদী হন তবে অপরাধীর ও আক্রান্তের কোন ধর্মীয় ও লিঙ্গগত বর্ণবৈষম্য তৈরি করবেননা। মনে রাখবেন স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই বিখ্যাত উক্তি-
“পৃথিবী আজ দুইভাগে বিভক্ত। শোষক ও শোষিত। আমি শোষিত’র পক্ষে।” এটাই আমার কাছে মানবতার চমৎকার মানদন্ড। আপনি দেখবেন কে শোষিত হচ্ছে, নিপীড়িত হচ্ছে। আপনি কেন খোঁজেন শোষিতের ধর্ম, তার লিঙ্গ?বর্ণবাদী শোষণ মাথায় নিয়ে ঘুরে শোষণের বিরুদ্ধে কথা বলা শোভা পায়না, হে সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী, হে সংখ্যাগুরু ব্যবসায়ী। কি করেছে এই এতটি বছর “হিন্দু-বেীদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ ”নামের সাম্প্রদায়িক সংগঠনটি সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটানো ছাড়া?আচ্ছা এই সংগঠনটিতে কেন মুসলিম প্রতিনিধি নেই?এখানেই কি সাম্প্রদায়িকতা লুকিয়ে আছে না?এই সংগঠনগুলো বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক রূপের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ছাড়া আর কি করতে পারছে?কিংবা এই সংগঠন তৈরি করে দেশের শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে কি ?
৫।
বাংলাদেশ চিরকাল # অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ। এই দেশে গোটা ভারতবর্ষের মত ইংরেজরা দখলদারিত্ত্ব ও সন্ত্রাসবাদীতা চালানোর পরেও কোনদিন কোন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়নি।যা হয়েছে তা অতিরঞ্জন। বাবরী মসজিদ যখন ভারতের শিবসেনা অসুস্থরা ভেঙে ফেলে তখনও বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের পাশের ঘরের হিন্দু-ভাইবোনকে নিয়ে এর প্রতিবাত করেছে শান্তিপূর্ণভাবে। সুতরাং এটি কোন ইস্যু না। এটি নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে দেশের ও দেশের মানুষের জীবনব্যবস্থার কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।আর এখানেই আধিপত্যবাদী ভারতের ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দু:শ্চিন্তা। যেকোন দেশে একটি সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেলে সে জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়। বাইরের কোন শক্তির নাক গলানো সে নিতে চায়না। একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল বাংলাদেশকে কখনোই দেখতে চায়না প্রতিবেশী ভারত। কারণ তার খবরদারি তাহলে থাকেনা। তাছাড়া যে সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা নেয়াও সম্ভব নয়। ভারত ও “র” জানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই মহান ব্যক্তির কন্যা যিনি পাকিস্তানী খুনীদের জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ভারতে গিয়ে ইন্দিরা গান্ধীকে মুখের উপর প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন তা ছিল-
“কবে বাংলাদেশ থেকে আপনার সেনা ফেরত আনবেন?”
৬।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রতিক্রিয়াশীলদের দ্বারা ঘেরাও নারায়নগঞ্জের শিক্ষকক শ্যামল কান্তি ভক্তকে নিরাপদে নিয়ে আসতে তাকে কান ধরে উঠাবসা করিয়েছেন জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমান।এ ঘটনা কিছু মিডিয়ার বদেীলতে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গণমাধ্যম বিবিসিতে কাজ করা আকবর হোসেন ”হিন্দু শিক্ষককে কান ধরে উঠ-বস:ঘটনার অন্তরালে “ শীর্ষক সংবাদ করেন।এসব সংবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি ভয়াবহ। ওরা দেখাতে চায় যে আমরা ধর্মীয় অসহিংস জাতি। এরপর এ ইস্যুতে পশ্চিমারা আমারে উপর অর্থনৈতিক চাপ দেবে, তারপর সরকারকে চাপে ফেলে নিজস্ব স্বার্থ ও চুক্তি করাবে। তা না শুনলে এ দেশের “সংখ্যালঘুদের” রক্ষার অজুহাতে হামলা চালাবে।তাই নারায়নগঞ্জের শিক্ষককে একজন শিক্ষক এবং বাংলাদেশী বলেই মিডিয়ায় প্রচার করা উচিত ছিল। কিন্তু সেটি মিডিয়া করেনি। কারণ এদেশের কিছু মিডিয়া তার ভারতীয় প্রভুর কাছে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বলে জাহির করতে চায়। আবার সংখ্যালঘু ইস্যুটিকে বিক্রি করে যেসকল এনজিওকর্মীর জীবন চলে তারাও সংখ্যালঘু সংখ্যালঘু বলে চিল্লায়। প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘু শব্দটি একটি বর্ণবাদী শব্দ। এর ফলে একটি সমাজকে আরেকটি সমাজ ও সম্প্রদায় থেকে পৃথক করে দেয়া হয়।
৭।
মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী লুইস [Louis Wirth (1897-1952)]এর মতে,দৈহিক ও সাংষ্কৃতিক বৈশিষ্টের কারণে যখন কোন গ্রুপ সমাজের অন্যদের থেকে পৃথক হয়ে জীবনযাপন ও পরিসেবায় ভিন্নতার মুখোমুখি হয় এবং নিজেদের সামষ্টিক বৈষম্যের লক্ষ্য ভাবে তারা সংখ্যালঘু ।মার্কিন সমাজ বিজ্ঞানী Joe Feagin ১৯৮৪ সালে মাইনোরিটি গ্রুপের যে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন তা হচ্ছে-
ক।বৈষম্য ও অধীনতা জর্জরিত
খ।শারিরীক ও সাংষ্কৃতি ভিন্নতার কারণে সংখ্যাগুরুর কাছ থেকে পৃথক
গ।সামষ্টিক পরিচয়ের প্রবণতা এবং সমজাতীয় প্রতিবন্ধকতা
ঘ।সামাজিকভাবে এতই নিয়ম ভাগাভাগি করা
ঙ।.নিজের সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরে বিয়ে করা।
এই সংজ্ঞাদ্বয় কিভাবে আমাদের দেশের উন্নয়নের অংশীদার, এই বাংলাদেশের আদিম সন্তান, এই সবুজ ঘরের রক্ষক আমাদের হিন্দু ভাইয়েরা সংখ্যালঘু হয়?আমাকে বোঝান?এই দেশের হিন্দু ও মুসলমানদের দৈহিক গঠন দেখে পৃথক করা যায়?প্যান্ট, শার্ট, লুঙ্গি-পাঞ্জাবী পরা একটি ছেলেকে দেখলে তার ধর্ম আপনি বুঝতে পারবেন?কোন হিন্দু মহিলা যখন তিলক পরেন কোন মুসলমান মহিলা বা পুরুষ তা নিয়ে টিটকারী মারে?কিংবা কোন হিন্দুপ্রধান অঞ্চলে কোন মুসলমান টুপি পরে গেলে কোন হিন্দু তাকে উত্ত্যক্ত করে?কখনোই করেনা। বরং পূজা ও পার্বণে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ পরস্পরের বাড়িতে যায় এবং এক সাথে আনন্দ করে। এই দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢাকঢোল পিটিয়ে স্বাচ্ছন্দে পূজা ও আনন্দ করে হিন্দুরা।চাকরীর ক্ষেত্রে কখনো হিন্দু বলে কাউকে বাদ দেয়া হয় এদেশে?বরং তফসিলী হিন্দু নামের একটি কোটাপ্রথা রয়েছে।আর জো ফিজেন নিজ সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরে যে বৈশিষ্ট্য বলেছে তা ধর্ম সম্পর্কে তার অজ্ঞতার ফল। হিন্দু, বেীদ্ধ, খ্রীস্টান, মুসলমানের ধর্মে নিজেদের মধ্যে বিয়ের নিয়ম আছে । একারণে সে সংখ্যালঘু হবে?না, কিছুতেই না। তাহলে কেন তাদের জোর করে সংখ্যালঘু বানাতে চাচ্ছে কিছু মিডিয়া?কি তাদের উদ্দেশ্য?বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানিয়ে এখানে “War on terror”নামের সন্ত্রাসী প্রকল্পকে টেনে আনা? পাহাড়কে অশান্ত করা?স্বাধীন ও সার্বভেীম বাংলাদেশে সবাই সমানে। এখানে কোন মাইনোরিট ও মেজরিটি নেই । এখানে আমরা সবাই সমান।বৈচিত্রময় সংস্কৃতি,ধর্মীয় অবস্থান ভিন্ন হওয়া সত্যেও লাল সবুজ পতাকায় বিশ্বাসী আমরা সবাই।সকলেই মুস্তাফিজের বল দেখে আনন্দিত হই।সেীম্যের ছক্কা দেখে চিৎকার করি।সবাই আমরা জামাল নজরুল ও জগদীশকে নিয়ে গর্ব করি।যেখানে দাঙ্গা নেই ,হানাহানি নেই, জাতিগত বিদ্বেষ নেই সেখানে পশ্চিমারা নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এই ধর্মীয়, জাতিগত ইত্যাদি “সংখ্যালঘু” রাজনৈতিক শব্দের উদ্ভব ঘটায়।আমরা বাংলাদেশে তা হতে দিতে পারিনা।
৮।
আমার অবস্থান একদম স্পষ্ট। অপরাধী ও আক্রান্ত কারো ক্ষেত্রেই তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও লিঙ্গ পরিচয়কে বিবেচনায় আনা যাবেনা। যে অপরাধী সে অপরাধী। যখন রহিম অপরাধ করলে লেখা হবে “মুসলিম অপরাধী” তখন তা ঝামেলাপূর্ণ।আবার যখন রাম আক্রান্ত হয় এবং পত্রিকায় , মিডিয়ার প্রচার করা “হিন্দু সংখ্যালঘু”আক্রান্ত তা ঝামেলাপূর্ণ। যারা এহেন শব্দ ব্যবহার করে তাদের কোনদিন মিমাংশার ইচ্ছে থাকনা। কারণ তারা আগে থেকে একটি দল, একটি মত সমর্থন করে ময়দানে আসেন। সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করে সমাজ ও রাষ্ট্রের অশান্তি তৈরি করেন এবং এ থেকে সবটুকু সবিধা লুটে নেন। সে সুবিধা হতে পারে রাজনৈতিক, হতে পারে সংবাদ করার টপিক পেয়ে তা বিক্রি কিংবা হতে পারে বিদেশী প্রভুদের মনোরঞ্জন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সাম্রাজ্যের প্রভাববলয়ে এই সংখ্যালঘু শব্দটির উদ্ভব। সেখানেই এখন এর প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। পশ্চিমে এই BAME-Black Asian Minority Ethnic শব্দ চতুষ্টয়ের অ্ভ্যন্তরীণ বর্ণবাদকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কিছুদিন আগে “I am not your model minority” শীর্ষক আন্দোলন করে ইউরোপে বসবাসরত এশিয়ানরা। ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকা ২২ মে ২০১৫ “Is it time to ditch the term ‘black, Asian and minority ethnic’ (BAME)?” শীর্ষক একটি নিবন্ধও ছাপে এ নিয়ে। তাহলে আমাদের দেশে এই সাম্প্রদায়িক বর্ণবাদী শব্দগুচ্ছের ব্যবহার কবে বন্ধ হবে?নাকি তাতে সাম্প্রদায়িক সংগঠনের রাণা দাশগুপ্ত, এ ইস্যুতে সবিধাভোগী আসিফ মহিউদ্দিন, তসলিমা নাসরিন ও তাদের লেখা ছাপিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করে জীবীকা নির্বাহ করা পত্রিকা ও টিভিওয়ালাদের ক্ষতি হবে?মুনাফা ও রাজনীতির গুটি চালাচালির ব্যবসায় ভাঁটা পড়বে?নাকি বন্ধ হলে বাংলাদেশ নিয়ে নীল নকশা ও চক্রান্ত অসফল হবে?
৯।
আমেরকিা যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গরা সবচেয়ে বেশি। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গদের উপর বৈষম্যের জন্য আন্দোলন চলে। কিছুদিন আগে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে হত্যার প্রতিবাদে #BlackLivesMatters শীর্ষক আন্দোলন হয়। কই তখন তো BBC,CNN,FOX একবারও minority Black peopl শব্দ ব্যবহার করেনি।কারণ ওরা জানে এতে আমেরিকান ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেন সব সময় পশ্চিমারা শিয়া-সুন্নী শব্দ ব্যবহার করে আরব সংঘর্ষকে কাভার করে তা জানেন?কারণ Divide And Rule পলিসির প্রয়োগ।ওরা জানে শিয়া-সুন্নী ঐক্যবদ্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যের অঢেল সম্পত্তি লুটে নেয়া যাবেনা। দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশে এই শিয়া-সুন্নী বিভাজন রেখা অকার্যকর। এখানের জন্য ওদের নয়া কুচক্রী পরি কল্পনার নাম “”হিন্দু-মুসলমান”।যখন হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে অবিশ্বাস ও পারস্পরিক অসহিষ্ণুতা প্রবেশ করিয়ে দিতে ওরা সফল হবে তখন বাংলাদেশেও ওরা আগ্রাসন চালাতে পারবে। বলবে আমরা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে চাই। সে জন্য বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে একটি মার্কিন ঘাঁটি খুবই দরকার।সে লক্ষ নিয়েই এদেশে পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ঠ একটিভিস্ট, এনজিওকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজ ও রিপোর্ট যা তারা পম্চিমকে দেখানোর জন্য তৈরি করে সেগুলোতে সারাক্ষণ বাংলাদেশকে একটি “ধর্মীয় সংঘাতময়” রাষ্ট্র বলে দেখানো হয়।এটা চরম মিথ্যাচার, দেশদ্রোহীতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এটা সত্য হতে দেয়া যাবেনা।আমাদের হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই হয়ে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। কোন মুসলমানকে সংখ্যার বিবেচনায় এখানে আলাদা করে দেয়া যাবেনা,কোন হিন্দুকে সংখ্যা কম হওয়ায় আলাদা করে দেয়া যাবেনা। ভিকটিমক শোষিত বলে ধরে নিতে হবে। পৃথিবীর তাবৎ নিপীড়িত মানুষ এক। তাবৎ মজদুর এক। তাদের ধর্মীয় ও লিঙ্গগত এবং বর্ণগত পরিচয় দিয়ে বিচার করাই সবচয়ে বড় সাম্প্রদায়িকতা, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বর্ণবাদ।
১০।
সমাজে অশান্তির মূল কারণ বৈষম্য ও অসম বন্টণ।বৈষম্য যে কেবল শাসক তৈরি করে তা নয়।এ যুগের বৈষম্য তৈরি করছে বৈষম্যবিরোধী নামে পরিচিতরাই।শোষিত ও নিপীড়িত মানুষকে বিনির্মাণ করছে নিজেদের ইচ্ছেমত।এর ফলে মানুষে স্পষ্ট বিভাজনরেখা টেনে দিচ্ছে।সংখ্যালঘু(Minority) এমন একটি শব্দ যা দিয়ে বিভাজন তৈরি করে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাসে ও দাসীরা।অপরাধে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কেন তার ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হতে হবে?কেন অপরাধী তার ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হবে?এর মাধ্যমেই তো Divide and Rule প্রয়োগ করে আধিপত্যবাদীরা।মধ্যপ্রাচ্যে এটি শিয়া-সুন্নী নামে পরিচিত।আফ্রিকায় নাক উঁচু ও নাক ভেটকা।আর দক্ষিণ এশিয়ায় এর নাম সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু।যখনই আপনি মিডিয়ায় এই শব্দের প্রচার করেন তখনই আপনি একটি সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ালেন।এখন যদি আমাদের হিন্দু ভাইবোন আপনাকে প্রশ্ন করে যে,এই ভূখন্ডে হাজার হাজার বছর ধরে বাস করে কোন কারণে আমি সংখ্যালঘু উপাধি পাচ্ছি?কে এই অধিকার আপনাকে দিয়েছে?
আমরা সবাই মানুষ।তারপর বাংলাদেশী।তারপর হিন্দু-মুসলমান,পাহাড়ী-সমতলী-বাঙালি-সাঁওতাল-মারমা-কোচ।কিন্তু কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের কথাবার্তা,প্রচারণা দেখলে আপনি ভেবে বসতে পারেন আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা #সংখ্যালঘু অথবা সংখ্যাগুরু!এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে সকল শাব্দিক বিভেদরেখা তুলে বাংলাদেশী মানুষ হিসেবে বাস করলে ষড়যন্ত্রকারী ও War on Terror এর ধারক ও বাহকেরা পরাজিত হবেই।
কারণ এই দেশের সংখ্যাগুরুরা হচ্ছে হরিদাস আর করিম উদ্দিন।কৃষক আর শ্রমিক।ওরা একসাথে খায়,একসাথে কাজ করে।ঝামেলা হচ্ছে শ্যুটটাই পরা পশ্চিমকে মানদন্ড ভাবা কথিত শিক্ষিত গোষ্ঠীর।মাইনরিটির পলিটিক্যাল ইকোনমির সুবিধাভোগী এরা ,আর অসুবিধাভোগী আমরা সাধারণের দল।
১১।
চলুন সবাই মানুষ হই। শুধু মানুষ। যার যার ধর্ম তাকে পালন করতে দিই। অপরাধীকে ধর্মীয় পরিচয়ে বিবেচনা ও পরিচিত করানোর প্রবণতা থেকে বাদ দিই। বাংলাদেশকে সবাই মিলে গড়ে তুলি। বাংলার বেীদ্ধ, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার হিন্দু আর বাংলার মুসলমান ভাই ভাই। সবাই সবার আগে বাংলাদেশী। এই দেশে পশ্চিমা বর্ণবাদী প্রতিশব্দ মাইনোরিটি বা সংখ্যালঘুকে স্থান দেয়া যাবেনা। এখানে আমাদের পরিচয় আমরা কেউ কৃষক, কেউ শ্রমিক, কেউ ছাত্র, কেউ ছাত্রী, কেউ আমলা, কেউ রাজনীতিবিদ, কেউ শিক্ষক, কেউ ইমাম, কেউ পুরোহিত।এখানে কেউ কেউ সুবিধাপ্রাপ্ত আর কেউ সবিধাবঞ্চিত। তবু সবাই দিনশেষে আমরা বাংলাদেশের সন্তান। বাংলার সবুজ-শ্যামল বুকে আমাদের ধর্মীয় পরিচয় হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের আত্মাকে পৃথক করতে পারেনি। এখন পশ্চিমা ধাঁচে চিন্তা করা কিছু অসুস্থ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপপ্রচারে তা হতে দেয়া যাবেনা। পত্র-পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল, টিভির কর্মীদের এই শব্দ ব্যবহারের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বণ করতে হবে। সাংবাদিকদের বুঝতে হবে তার সাংবাদিকতা যেন এ জাতিকে বিভক্ত না করে ফেলে।গণমাধ্যম মালিকদের জাতীয় ঐক্য সুরক্ষার ব্যাপারে মুনাফা লাভ থেকে অধিক গুরুত্ত্ব দিতে হবে। আমরা বাংলাদেশী। আমরা আমাদের সুন্দর দেশটিকে বিভেদের কলঙ্কে জর্জরিত হতে দিতে পারিনা। আসুন, সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু শব্দদ্বয়কে আজ থেকে বিলুপ্ত করি। দেখবেন সাম্প্রদায়িক ক্ষুদ্র ঐ শকুনেরা আর আপনার আমার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কোন ধরনের গুটিবাজি করতে পারবেনা।আমরা বাংলাদেশী-এটাই আমাদের সর্বশেষ পরিচয়...।
১০।
সমাজে অশান্তির মূল কারণ বৈষম্য ও অসম বন্টণ।বৈষম্য যে কেবল শাসক তৈরি করে তা নয়।এ যুগের বৈষম্য তৈরি করছে বৈষম্যবিরোধী নামে পরিচিতরাই।শোষিত ও নিপীড়িত মানুষকে বিনির্মাণ করছে নিজেদের ইচ্ছেমত।এর ফলে মানুষে স্পষ্ট বিভাজনরেখা টেনে দিচ্ছে।সংখ্যালঘু(Minority) এমন একটি শব্দ যা দিয়ে বিভাজন তৈরি করে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাসে ও দাসীরা।অপরাধে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কেন তার ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হতে হবে?কেন অপরাধী তার ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হবে?এর মাধ্যমেই তো Divide and Rule প্রয়োগ করে আধিপত্যবাদীরা।মধ্যপ্রাচ্যে এটি শিয়া-সুন্নী নামে পরিচিত।আফ্রিকায় নাক উঁচু ও নাক ভেটকা।আর দক্ষিণ এশিয়ায় এর নাম সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু।যখনই আপনি মিডিয়ায় এই শব্দের প্রচার করেন তখনই আপনি একটি সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ালেন।এখন যদি আমাদের হিন্দু ভাইবোন আপনাকে প্রশ্ন করে যে,এই ভূখন্ডে হাজার হাজার বছর ধরে বাস করে কোন কারণে আমি সংখ্যালঘু উপাধি পাচ্ছি?কে এই অধিকার আপনাকে দিয়েছে?
আমরা সবাই মানুষ।তারপর বাংলাদেশী।তারপর হিন্দু-মুসলমান,পাহাড়ী-সমতলী-বাঙালি-সাঁওতাল-মারমা-কোচ।কিন্তু কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের কথাবার্তা,প্রচারণা দেখলে আপনি ভেবে বসতে পারেন আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা #সংখ্যালঘু অথবা সংখ্যাগুরু!এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে সকল শাব্দিক বিভেদরেখা তুলে বাংলাদেশী মানুষ হিসেবে বাস করলে ষড়যন্ত্রকারী ও War on Terror এর ধারক ও বাহকেরা পরাজিত হবেই।
কারণ এই দেশের সংখ্যাগুরুরা হচ্ছে হরিদাস আর করিম উদ্দিন।কৃষক আর শ্রমিক।ওরা একসাথে খায়,একসাথে কাজ করে।ঝামেলা হচ্ছে শ্যুটটাই পরা পশ্চিমকে মানদন্ড ভাবা কথিত শিক্ষিত গোষ্ঠীর।মাইনরিটির পলিটিক্যাল ইকোনমির সুবিধাভোগী এরা ,আর অসুবিধাভোগী আমরা সাধারণের দল।
১১।
চলুন সবাই মানুষ হই। শুধু মানুষ। যার যার ধর্ম তাকে পালন করতে দিই। অপরাধীকে ধর্মীয় পরিচয়ে বিবেচনা ও পরিচিত করানোর প্রবণতা থেকে বাদ দিই। বাংলাদেশকে সবাই মিলে গড়ে তুলি। বাংলার বেীদ্ধ, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার হিন্দু আর বাংলার মুসলমান ভাই ভাই। সবাই সবার আগে বাংলাদেশী। এই দেশে পশ্চিমা বর্ণবাদী প্রতিশব্দ মাইনোরিটি বা সংখ্যালঘুকে স্থান দেয়া যাবেনা। এখানে আমাদের পরিচয় আমরা কেউ কৃষক, কেউ শ্রমিক, কেউ ছাত্র, কেউ ছাত্রী, কেউ আমলা, কেউ রাজনীতিবিদ, কেউ শিক্ষক, কেউ ইমাম, কেউ পুরোহিত।এখানে কেউ কেউ সুবিধাপ্রাপ্ত আর কেউ সবিধাবঞ্চিত। তবু সবাই দিনশেষে আমরা বাংলাদেশের সন্তান। বাংলার সবুজ-শ্যামল বুকে আমাদের ধর্মীয় পরিচয় হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের আত্মাকে পৃথক করতে পারেনি। এখন পশ্চিমা ধাঁচে চিন্তা করা কিছু অসুস্থ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপপ্রচারে তা হতে দেয়া যাবেনা। পত্র-পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল, টিভির কর্মীদের এই শব্দ ব্যবহারের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বণ করতে হবে। সাংবাদিকদের বুঝতে হবে তার সাংবাদিকতা যেন এ জাতিকে বিভক্ত না করে ফেলে।গণমাধ্যম মালিকদের জাতীয় ঐক্য সুরক্ষার ব্যাপারে মুনাফা লাভ থেকে অধিক গুরুত্ত্ব দিতে হবে। আমরা বাংলাদেশী। আমরা আমাদের সুন্দর দেশটিকে বিভেদের কলঙ্কে জর্জরিত হতে দিতে পারিনা। আসুন, সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু শব্দদ্বয়কে আজ থেকে বিলুপ্ত করি। দেখবেন সাম্প্রদায়িক ক্ষুদ্র ঐ শকুনেরা আর আপনার আমার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কোন ধরনের গুটিবাজি করতে পারবেনা।আমরা বাংলাদেশী-এটাই আমাদের সর্বশেষ পরিচয়...।
0 Comments