সর্বশেষ

শীর্ষ জনপ্রিয় ' সাপ্তাহিক ২০০০ ' বন্ধ করা প্রসঙ্গে একজন পাঠকের প্রতিক্রিয়া

আজ ৩১ অক্টোবর, শুক্রবার,২০১৪।আজ দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিকগুলোর একটি 'সাপ্তাহিক ২০০০' এর সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয় । প্রকাশক বন্ধ ঘোষণা করায় আর এ পত্রিকাটি প্রকাশিত হবেনা। আর কোন সংবাদ,বিশ্লেষণ,সাহিত্য,তারুণ্য,আড্ডা একত্রে গাঁথা হবেনা। নন্দিত কথা সাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবেরের সম্পাদকীয় বা অন্য কোন লেখা আর আমাদের পড়া হবেনা । কোন শুক্রবারে দুপুর অথবা বিকেলে ম্যাগাজিনের পাতা উল্টানো হবেনা । জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে পৃথিবীতে এভাবে আর কোন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন বন্ধ হয়েছে এমন ইতিহাস আমার জানা নেই।কিন্তু কেন প্রায় ১৭ বছর ধরে একনাগাড়ে ঈর্ষর্ণীয় পাঠকপ্রিয়তা ও ভালবাসা নিয়ে চলা একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশনা এভাবে আকস্মিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো ?
২।
বিভিন্ন সংবাদপত্রে পড়লাম পত্রিকাটিতে কাজ করা কর্মীদের না জানিয়েই হঠাত্‍ করে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রকাশক।সাপ্তাহিক ২০০০ ট্রান্সকম গ্রুপের একটি প্রকাশনা।এই গ্রুপের টাকায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারও চলে।তিনটি পত্রিকাই সমান জনপ্রিয়তা নিয়ে চলেছে,এমনকি কিছুক্ষেত্রে ২০০০ অন্য দুইটি থেকে এগিয়ে ছিল।অথচ এই পত্রিকাটির প্রতি মালিকপক্ষের এতোটা অনীহা কেন?ট্রান্সকম গ্রুপের কি এমন ক্ষতি করলো ম্যাগাজিনটি যে এতে অর্থসরবরাহ তারা বন্ধ করে দিলো?নাকি তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধিতে এখন সাপ্তাহিক ২০০০ এর কোন প্রয়োজন নেই?এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছে করছে।
৩।
প্রতিটি সংবাদপত্রে শিরোনাম বা বিস্তারিত লেখা হয়েছে 'জনপ্রিয়' সাপ্তাহিক ২০০০ পত্রিকাটি 'অব্যাহত লোকসানে'র কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।যে পত্রিকাটি জনপ্রিয় তার রয়েছে লাখো পাঠক,সেই পত্রিকা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিক্রিও হয় এবং অবশ্যই একারণেই সেখানে বিজ্ঞাপন যায়।তাহলে পত্রিকাটি কিভাবে লোকসানে পড়লো?কেন ট্রান্সকম গ্রুপ প্রকাশনায় টাকা সরবরাহ করছেনা এটা বোঝা দায়।হঠাত্‍ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাটির সব কর্মীদের পাওনা দেওয়ায় যদি গড়িমসি করে ট্রান্সকম তবে সেটা হবে ঘৃণিত কাজ।আর এভাবে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে কাজ করা কর্মীদের কর্মের ব্যবস্থা কে করে দেবে?বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণাটি আগে দিলে তো তার কাজ খুঁজতে পারতো।
৪।
১৯৯৮ সাল থেকে সাপ্তাহিক ২০০০ বাজারে আসে।অল্প সময়ে সারা বাংলায় এটি জনপ্রিয় হয়।তখন প্রথম আলো বা ডেইলি স্টারের অস্তিত্ত্ব অপরিচিত।এরপর স্বণামধন্য কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবেরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়ে বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সাপ্তাহিক ২০০০।ম্যাগাজিনটির তৈরি হয় বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার পাঠক।ট্রান্সকম গ্রুপ তখন লোকসানে ছিলনা,তাদের খ্যাতি ও অর্থের অন্যতম যোগানদাতা ছিল এই সাপ্তাহিক ২০০০।আর আজ অকৃতজ্ঞের মত সাপ্তাহিকটিকে গলাটিপে হত্যা করলো ট্রান্সকম গ্রুপ।
আমরা সেই গল্প সবাই জানি।যে ব্যক্তি সোনার ডিম দেওয়া হাঁসটিকে স্বর্ণের লোভে মেরে ফেলে ছিল এবং তার পেটে নাড়িভুঁড়ি ছাড়া কিছুই পায়নি।আজ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের লাভের কথা ভেবে টাকা বাঁচাতে ট্রান্সকমের উত্থানের নেপথ্যনায়ক সাপ্তাহিক ২০০০ কে বন্ধ করে ঐ লোভী ব্যক্তির মতই কাঁদতে হবে এটাই আমার বিশ্বাস ।
৫।
সাপ্তাহিক ২০০০ এর সম্পাদক বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কবি আহসান হাবীবের ছেলে ঔপন্যাসিক ও গল্পকার সম্মানিত মঈনুল আহসান সাবের।আধুনিক বাংলা গদ্য সাহিত্যে এমন প্রতিভাধর লেখকের বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।তাঁর সম্পাদনার প্রতি অনাস্থা রেখে ট্রান্সকম গ্রুপ কার্যত নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছে।আমরা তীব্র বিশ্বাস সহকারে আশাবাদী শ্রদ্ধেয় মঈনুল আহসান সাবের ভাই তাঁর দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়েই ট্রান্সকমের এই অনাস্থার জবাব দিবেন।
আমরা এও বিশ্বাস করি একজন মঈনুল আহসান সাবের বেঁচে থাকলে অসংখ্য পত্রিকা,ম্যাগাজিন বা সাহিত্য সাময়িকী শিশু থেকে মহিরূহ হবেই-সেটা হয়তো আজ অথবা কাল,একটু বিলম্বিত হলে হয়তো পরশু এই যা...।
৩১ অক্টোবর, ২০১৪।
পাঠ অনুভূতি