সর্বশেষ

রেলমন্ত্রীর বিয়েতে আপনার এত জ্বলে কেন, জনাব/জনাবা?

একজন লোক ৬৭ বছরে যদি বিয়ে করতে সমর্থ হয় এবং ২৭ বছরের পাত্রীর যদি এ বিয়েতে আপত্তি না থাকে তবে আমার আপনার এতে জ্বলে কেন? যে মেয়েটি তার বাকি জীবন এই বয়স্ক ভদ্রলোকের সঙ্গে কাটাতে মনস্থির করেছেন সেই মেয়েটির ইচ্ছা,আবেগ অথবা ভালবাসার কি আপনার কাছে ন্যূনতম মূল্য নেই?

নারীর অধিকার নিয়ে চিল্লানো কিছু কথিত 'নারীবাদী' ঘরানোর ব্যক্তিকেও দেখেছি রেলমন্ত্রীর বিয়ে নিয়ে উপহাস করতে। এ আর কিছু না, একজন যুবতী ও প্রাপ্তবয়স্কা নারীর সিদ্ধান্তের প্রতি কটাক্ষ, অবমূল্যায়ন ও পুরুষতান্ত্রিক বর্ষীয়ান কুত্‍সা রটনা জাতীয় নীচ মানসীকতার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ।
এই সমাজে,এই দেশে যারা মুক্তবুদ্ধি চর্চার কথা বলে তারাও এ দুটি প্রাণীর মুক্ত ভালবাসাকে নিয়ে নোংরামীতে মেতেছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে রেলমন্ত্রী তাঁর জীবনের প্রয়োজনে মেয়েটির সম্মতিতে তাকে বিয়ে করে মহাঅন্যায় করেছেন। যেসব ব্যক্তি এই বিয়েকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন অথবা এ নিয়ে ঠাট্রা বিদ্রূপ করছেন তারা হয়তো খুশী হতেন যদি এই মেয়েটির সঙ্গে গোপনে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়াতেন মন্ত্রী অথবা পতিতালয় ইত্যাদিতে যেতেন নিজ প্রয়োজনে। বিয়ের মাধ্যমে মেয়েটির সঙ্গে একটি পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের যাত্রা এই হীনমন্য জঘন্য প্রজাতির উপহাসকারীদের পছন্দ নয়। এদের হয়তো বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিই বেশি আস্থা যেখানে মেয়েটির জীবনধারন ও বেঁচে থাকা একটি ঘোর নিরাপত্তাহীনতায় কাটতো ।

বিয়ের মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ধারন করতে চেয়ে যে সমাজে উপহাসের খোরাক হতে হয় কোন নারী অথবা পুরুষকে সেই সমাজে ঘূণ ভালো করেই ধরেছে এবং মূল্যবোধ ক্ষয় হয়ে মানসিক অপুষ্টি গণহারে ছড়িয়ে পড়েছে- এ কথা নির্দ্বিদায় বলে দেওয়া যায় ।
সুখী হোক হোক রেলমন্ত্রীর সংসার জীবন। সুখে থাকুক দুঃসাহসী সেই মেয়েটি। পরিবর্তন হোক উপহাসকারীদের বিকৃত মানসিকতা ।

৩১ অক্টোবর, ২০১৪
পাঠ অনুভূতি