ব্রণ থেকে আমার মুখে অনেক ক্ষত ছিলো। হঠাৎ কেউ দেখলে আমার কোন দূর্ঘটনা ঘটেছে কিনা ভেবে চমকে যেতো। মানে এসিড সারভাইভাল কিনা ডাউট করতো।
একদিন বাসে এক ভদ্র মহিলা যেচে এসে আমার কাছে বসলেন। এরপর কথায় কথায় বললেন, মা, তুমি খুব সাহসী। আমার মেয়েটা পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে তোমার মত মুখের অবস্থা হওয়ায়। ঘর থেকে বের হয় না। এই বলে আফসোস করতে থাকলেন।
আমি প্রথমে অবাক। যেই বিষয়ের উপর আমার কোন হাত নাই,তার জন্য মর্মপীড়ায় ভুগে থেমে যাওয়ার কি আছে তা বুঝতে পারছিলাম না।
আমাদের জীবনে সবারই অপ্রাপ্তি আছে। এই অপ্রাপ্তি জীবনেরই অংশ। সেটা যে কোন আকারে প্রকারে আমাদের জীবনে আসতে পারে। জীবনের অপ্রাপ্তি আর তা না পাওয়া জনিত আপদ গুলো আগে থেকে ক্যালকুলেশন করে হিসাব কষে ফেলতে হয়, কত অল্প ক্ষতিতে ডিলটা সম্পাদন করতে পারবো। এ ক্ষেত্রে জীবনও একটা ব্যাবসা। ব্যাবসায় লাভ ক্ষতিতো আছেই।
নরসিংদী সদরের ইউএনও যখন ছিলাম, তখন ডিসি স্যার একদিন আমাকে বিশেষ করে এক অনুষ্ঠানে যেতে বললেন। আমার কাজের ব্যাস্ততার জন্য যেতে চাচ্ছিলাম না। তখন তিনি রহস্যটা ভাংগলেন। বললেন, শারমিন, এসিড সারভাইভাল মেয়েদের একটা সমাবেশ। তুমি যাও, তোমাকে দেখলে ওরা সাহস পাবে।এরপর আমি সারাদিন ওদের সাথে কাটিয়েছি।
অনেক মেয়েরা বলে,আমাকে দেখে সাহস পায়।নানান ভাবে।
আত্মীয় স্বজনদের মাঝে, এমনও আছে, বিপদগ্রস্ত মেয়েটির মা এসে মেয়েটিকে সারাজীবন দেখভাল করার ওয়াদা নিয়ে যায়।
এ কথাগুলো মনে এলো এ জন্য যে, ফেসবুকের এক পুরুষ বন্ধু, তিনি তার জীবনের এক ভয়ানক সমস্যা অতিক্রান্ত করছেন, আমাকে বললেন, যে তিনি আমাকে দেখে সাহস পান। ভাল লাগলো। হা হা। যেই সমস্যা তিনি এখন পার করছেন,ওই ধরনের সমস্যা আমি পার করে পাস করে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে নিয়েছি।
সর্বশেষ, কেউ যখন বলে, আমি তার সাহসের উৎস, তখন ভালোই লাগে। সাহসের উৎস হয়েই থাকতে চাই। আল্লাহ এই জিনিষটি আমায় অফুরন্ত দিয়েছেন।
