সর্বশেষ

মুখোমুখি রাশিয়া-সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বলন্ত কড়াইয়ের উপর আবারো তেল নুন ছিটিয়ে দিয়েছে বিশ্ব পরাশক্তি রুশ ফেডারেশন।মার্কিন ও ইসরাঈলপন্থী সৌদি আরবের আগ্রাসনের শিকার ইয়েমেনের আকাশে অদৃশ্য নো ফ্লাই জোনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাশিয়া ইয়েমেনের রাজধানী সানায় প্রায় ৪৬ টন খাদ্য বোঝাই বিশাল বিমান অবতরণ করিয়েছে গতকাল অর্থাত্‍ ৬ নভেম্বর।এর অর্থ রাশিয়ার চলমান 'কাউন্টার টেররিজম'এর যুদ্ধক্ষেত্র আর সিরিয়া ও ইরাককেন্দ্রিক থাকলো না,সেটি দজলা-ফোরাত ডিঙিয়ে এডেন উপসাগরেও চলে এসেছে।আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা,দরিদ্র ইয়েমেনীদের উপর সৌদি আরব প্রায় সাত মাস ধরে হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার চালাচ্ছে।আর সৌদি কথিত রাজকীয় এই খুনী বাহিনীকে পাশে থেকে পূর্ণ অস্ত্র,প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আমেরিকা ও গ্রেট ব্রিটেন।

সেই ইয়েমেন যখন খাদ্যাভাবে তখন কথিত মানবাধিকার সংগঠন নামের পশ্চিমা স্বার্থরক্ষাকারীরা চুপ ছিল।এমন সময়ে পুতিনের আগ্রহে খাদ্য নিয়ে সানায় রাশিয়ার বিমান অবতরণ।এটি আসলে নব্য রাশিয়ান সাম্রাজ্য গঠনের পূর্বাভাস।এ ঘটনার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে রাশিয়া।আর ইয়েমেনের জায়েদি মুসলমান হুথি বিপ্লবীরা যে পরিমাণ সাহসী ও লড়াকু তাতে রাশিয়া তাদের পাশে থাকলে তাদের পরাজিত করার সাধ্য পতনের বীণ বাজতে থাকা মার্কিন পুতুলদের দ্বারা সম্ভব নয়।আবার এই শতাব্দির প্রথমবার রাশিয়া ও আমেরিকা মুখোমুখি।ইতিহাসে কখনো এবারের মত সৌদি আরব ও রাশিয়ার তীক্ততা এমন যুদ্ধাবস্থায় যায়নি।তো দেখা যা কি হয়।মধ্যপ্রাচ্যটা কেমন যেন দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে,কেমন ভয়াবহ গতিতে পৃথিবীর সব পরাশক্তিকে এক জায়গায় জড় করছে।মনে হচ্ছে ভয়ঙ্কর কিছু অপেক্ষা করছে মানব জাতির জন্য...

সুপ্রভাত ।

৭ নভেম্বর, ২০১৫
পাঠ অনুভূতি