সর্বশেষ

অসহায় রোহিঙ্গারা বিশ্বের কার কার ‍মুখোশ ও ভন্ডামী উন্মোচন করছে?

তুরস্ক ও এরদোগান

হ্যাঁ, তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ত্ব আমি স্বীকার করি। কিন্তু তারে মুসলিম বিশ্বের কর্তা বানায় দেয়াদের দলে আমি নই। প্রাকৃতিক শাস্তি হিসেবে যখন মানবতার শত্রু ও অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাঈলের হাইফা জ্বলছিল তখন এদেশের কিছু উদ্ভট তুর্কিপ্রেমীদের কাছে অজানা ছিল তুরস্কের ভূমিকা। সবার আগে এরদোয়ান ইসরাঈলের সহায়তায় বিমান পাঠিয়েছে। অথচ গাজায় ফিলিস্তিনীদের উপর যখন নির্বিচারে সন্ত্রাসী আইডিএফ হামলা চালায় তখন তুরস্কের কোন জঙ্গী বিমান পৃথিবীর বিষফোঁড়া উপর দিয়ে উড়ে য্য়য়না। এর নাম সেক্যুলার তুর্কি ভন্ডামী। যারা এই ভন্ডদের বিশ্ব মুসলমানদের নিরাপত্তার প্রহরী ভাবছে তারাও ভন্ড। পার্থক্য তুর্কি আর এরদোয়ান হচ্ছে জায়োনিস্ট ভন্ড আর আমাদের এরদোয়ানপ্রেমীরা মূর্খ ভন্ড।



মিয়ানমারের বেীদ্ধ সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রীয় মদদে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা করছে। এথনিং ক্লিনসিং। অং সান সুকি নীরব, ইউনুস সদুখোর নীরব, ওবামা নীরব, সেীদি বাদশাহ নীরব, কাতার নীরব, ইরান নীরব। আবার তুরস্কও নীরব। তো এরদোয়ান এতো বেশি মুসলিমপ্রিয় জাতিসংঘে একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনেরও সাহস নেই? নাকি উঠালে ইহুদীবাদি বেীদ্ধরা রাগ করবে? চীনের সাথে বাণিজ্য কমে যাবে? ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়া পিছিয়ে যাবে? সীমাহীন ভন্ডামী। তুর্কি ভন্ডামী। এরদোগানীয় ভন্ডামী। যে সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়েছে তুরস্ক সিরিয়ায় কোটি কোটি ডলার দিয়ে তার ছিটেফোঁটাও যদি রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় করতো তবে আন্তর্জাতিক জন্ডিস আক্রান্ত সম্প্রদায়ের দৃষ্টিপাত পড়তো আরাকানে। কিন্তু কেউ কিচ্ছু বলেনা। রোহিঙ্গারা গরীব। গরীবের কেউ নেই। আল্লাহ ছাড়া।

সেীদি আরব ও ইরান
সেীদি আরব ও ইরান নোংরা প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ করে থাকে। একে অপরকে কাফির, ওয়াহাবী প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগে। বিলিয়ন ডলার দিয়ে পরস্পরের শত্রু তৈরি করে। দুটি দেশই চায় তুরস্কের মত মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ত্ব দিতে। কিন্তু নিপীড়িত মুসলমানদের পক্ষে দাঁড়ানোর সময় তারা সিলেকটিভ হয়ে যায়। ইরান যায় শিয়াদের পক্ষে ( ইরাক ও ইয়েমেন) আর সেীদি আরব যায় সু্ন্নীদের (সিরিয়া)পক্ষে। কিন্তু কেউ সমন্বিত মুসলিমদের পক্ষে যায়না । ফিলিস্তিনীদের কেউই সামনাসামনি সহায়তা করেনা। সেীদি বদমাশ সরকার তো তলে তলে ইসরাঈলে সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক তাই জিইয়ে রেখেছে। আর ইরান সেকট্যারিয়ান দ্বন্দ্ব থেকে নিজের পারস্য সাম্রাজ্যবাদ বিস্তার ঘটাচ্ছে সবার অজান্তে।


ইরান বা সেীদি আরব এরা কেউই রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য এগিয়ে আসছেনা। এর নাম ভন্ডামী। মুখে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ত্ব দানকারী দুই প্রভাবশালী দেশ অথচ রোহিঙ্গা জাতি কেবল মুসলিম হওয়ার কারণে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। তাদের মা ও বোনদের ধর্ষণ করছে বেীদ্ধ ভীক্ষু, মিয়ানমার আর্মি ও পুলিশ। কার বলে? অবশ্যই চীনের বলে। চীন আবার ইরানের নিকটতম বন্ধু। চীন বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে ইরানে। ইরানে পণ্য বিক্রি হয়। ইরান কেন চীনের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়ার হুমকি দেয়না?

সেীদি আরবসহ পুরো আরব বিশ্বে চীনা পণ্যে সয়লাব। মিয়ানমার আর্মি চীনের পা চাটা গোলাম। আরব বিশ্ব একসাথে চীনের পণ্য বয়কট করলে অবশ্যই চীন মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করতে পারে।

রাশিয়া ও পুতিন
জ্বী, গরীব রোহিঙ্গার ডাক আপনার কানে যায়না। সিরিয়ার মত যদি ওখানে তেল ও স্বার্থ থাকতো তবে কথা ছিল
ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্ত্বে রাশিয়া নব্য সাম্রাজ্যবাদী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চেচনিয়া, ইউক্রেন, জর্জিয়া, ক্রিমিয়া এবং সর্বশেষ সিরিয়ায় মানবতা রক্ষার বুলি আউডিয়ে রাশিয়া আগ্রাসন চালিয়েছে। সেই রাশিয়া মিয়ানমারের বেীদ্ধ সন্ত্রাসী কর্তৃক রোহিঙ্গা জাতির উপর চলমান গণহত্যা নিয়ে নির্লজ্জের মত নীরবতা পালন করছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার বিশ্ব মিডিয়া এমন কি মার্কিন জায়োনিস্ট মিডিয়াও যখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিউজ করেছে তখনও রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়নন্ত্রিত প্রোপাগান্ডা মেশিন আর টি রোহিঙ্গা নিয়ে কোন সংবাদ করেনি। কি বাজে সিলেকটিভ প্রবণতা। রাশিয়ার মানবতাবাদের ভন্ডামী এমন করুণভাবে রোহিঙ্গারাই উপস্থাপন করেছে।


আমেরিকা ও ইউরো


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তথাকথিত গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের কোন মহাদেশে না আগ্রাসন চালিয়েছে? সেই দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান থেকে দূরপ্রাচ্যের ভিয়েতনাম, আফ্রিকার লাইবেরিয়া , সোমালিয়া, নাইজেরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক-সিরিয়া-কুয়েত। অথচ লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে এখন সবাই চুপ। রোহিঙ্গারা যেন কোন মানুষ না।
এই একবিংশ শতকে একটি জাতিকে কেবল তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হত্যা করা হচ্ছে আর তা সকল জাতি মিলে উপভোগ করছে। মার্কিন সরকার ও তার পশ্চিমা ভন্ডদের মুখোশ ভালো করে উন্মোচন করেছে রোহিঙ্গা অসহায়রা। যেহেতু রোহিঙ্গা জাতি কোন জিওপলিটিক্যাল কুউদ্দেশ্য সাধন করেনা, যেহেতু আরাকানে কোন খনিজ সম্পদ নেই, যেহেতু সেখানে আল কায়েদা বা আইএসের মত পশ্চিমা মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী নেই যাদের কাছে অস্ত্র বেচে বিলিয়ন ডলার কামানো যেতে পারে সেহেতু রোহিঙ্গাদের পশ্চিমা বাজে সভ্যতার কোন দেশে সহায়তা করতে আসছেনা, আসবেনা। বরং তাদের দেয়া নোবেল বিজয়ী বিশ্ববেহায়া অং সান সুকীকে ফের আরেকটি নোবেল দেয়া যেতে পারে।



পাকিস্তান ও ভারত


পাকিস্তান নামের ভন্ড রাষ্ট্রটি মুসলিম ভ্রাতৃত্ত্বে কথা বলে কিছু মূর্খের আশির্বাদ পায়। অথচ এই পাকিস্তান মায়ানমারের সরকারী সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। পাকিস্তানের এক নম্বর মিত্র দেশ চীন। সেই চীনকে দিয়েও পাকিস্তান কোন চাপ দেয়ায় না। বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতাবিরোধীদের ফাঁসি দেয় তখন ভন্ড পাকিস্তানী পার্লামেন্ট নিন্দা প্রস্তাব পাশ করে অথচ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কোন নিন্দা পাশ দূৃরে থাক টুঁ শব্দটি করেনা। রোহিঙ্গারা দরিদ্র।

ওরা তো আর পাকিস্তানী বাটপারগুলোকে কাড়ি কাড়ি ডলার দিতে পারছেনা তাই চুপ করে আছে রোহিঙ্গাদের ঘর বাড়ি মানুষ পুড়লেও।

ভারত আঞ্চলিক পরাশক্তি হতে চায় অথচ ঘরের পাশে রোহিঙ্গারা মরতেছে কিন্তু মিয়ানমারকে একটি ধামকি দেয়ার সাহসও নেই। ধামকি দেবে কি? মিয়ানমার যে বর্বর আচরণ করছে আরাকানে ভারতও তো তাইই করছে কাশ্মিরে। নাকি?

চীন ও জাপান

এশিয়ার দুই পরাশক্তি। সামরিক ও অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে তাদের ধারেকাছে নেই এশিয়ার দ্বিতীয় কোন দেশ। অথচ রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা উভয় দেশ মুখে কুলপু  এঁটেছে। তারা দুটি রাষ্ট্র বেীদ্ধধর্মে প্রধান ও প্রভাবশালী রাষ্ট্র। মিয়ানমারও বেীদ্ধরাষ্ট্র। কিন্তু তারা বেীদ্ধ ধর্মের অহিংস নীতিকে ভুলুন্ঠিত করা মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী, সীমান্ত পুলিশ ও বেীদ্ধ ভীক্ষুদের কিচ্ছু বলছেনা। চীনের সাথে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই মিয়ানমারের।



মিয়ানমারের অস্ত্রও আসে চীন থেকে। তো চীন কিছু বলেনা কেন? বলেনা কারণ চীনও যে জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলমানদের সমানভাবে অত্যাচার করে। এ বিশ্বে সবার মানবাধীকার আছে। শুধু মুসলমানদের নেই। ব্যাটা রোহিঙ্গারা যদি কোন মতে মুসলমান ছাড়া অন্য কিছু হতো তবে মানবাধীকারকর্মীরা ছুটে যেতো। চীনও কথা বলতো।হায় রোহিঙ্গা , তোর কেউ নেই। তুই পুড়ে মর, মর্টার হামলায় মর, তুই ডুবে মর।


এমনেস্টি ও অন্যান্য

বিশ্বের মানবাধীকার নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইনটেলেকচুয়াল সমর্থক এমনেস্টি। এখন রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এরা নীরব। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের মার্কিন ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশগুলোর মানবাধীকার নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দেয় এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

তার দেখা দেখে দেশীয় পশ্চিমাসেবক এনজিওগুলোও এমন করে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরা মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটিও করছেনা। কি পরিমাণ ভন্ড চিন্তা করেন। আর বাংলাদেশের মানবাধীকার কমিশনের মোচওয়ালা মিজানও রোহিঙ্গা ইস্যুতে হিটলার।

অং সান সুকি ও ড ইউনসু

দুই বিশ্ব ভন্ড ও বিশ্ববাটপার এবং বিশ্ব বেহায়া। দুই জনই নাকি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। অথচ ঘরের ভেতরের চলমান অশান্তি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করছেনা। এরা সত্যিকার খারাপ মানুষ। অং সান সুকি নিজেই ক্ষমতায়। তার অনুগত সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা আদিবাসীদের উপর অত্যচার চালাচ্ছে। আর এই বিশ্ববেহায়া অং সান সুকি তা নিয়ে একটা টুঁ শব্দ  করেনি, করছেনা। একে নোবেল দিয়েছিল মিয়ানমারে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এক পুতুল হিসেবে। সে সেটিই করতে পেরেছে। কিন্তু বেহায়া আরাকানের মুসলিমদের নিয়ে একটি কথাও এখনো বলেনি। রোহিঙ্গারা যে ভোটাধীকারও পায়না সে ব্যাপারে ও তথাকথিত গণতন্তওয়ালী বিশ্ববেহায়া অং সান সুকি নীরব।




 আর বাংলাদেশের রয়েছে সুদখোর ড ইউনুস। গরীবের রক্ত চুষে টাকা নিয়ে খুনী হিলারীর নির্বাচনী ফান্ডে এক কোটি টাকা দিয়ে এসেছে অথচ ঘরের পাশে রোহিঙ্গাদের একটা পয়সা দিয়ে সহায়তা করার তার ইচ্ছা নেই। দেশের দুই নেত্রীকে মাইনাস করে নাগরিক শক্তি বা নাশ গঠন করে দেশের নাশ করতে তাকে আগ্রহী দেখা গেলেও রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তার ন্যূনতম আগ্রহ নেই। হতে পারে গরীব রোহিঙ্গারা তার সুদের কারবারে জড়িত হবেনা এটা ইউনুস সাপ বুঝে ফেলেছেন। আর অং সান সুকী মিয়ানমারে প্রায় ৭ লাখ গ্রামীন ট্রাস্টের গ্রাহকের মালকিন। সুদী ইউনুস তাই রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলে নিজের সুদের ব্যবসায় লস দিতে চাইছেন না।


এই দুই কালসাপের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি নিশ্চিত করে যে নোবেল পুরস্কার যোগ্যদের দেয়া হয়না। এর রাজনৈতিক অর্থনীতি রয়েছে। এবং কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ছাড়া প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে পশ্চিমাসেবীদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

হাতিপ্রেমী মতি ও আনিসুল গং

ভারত থেকে বানের জলে একটি হাতি ভেসে এসেছিল। তার জন্য প্রেমের বাণ উপচে পড়ছিল আনিসুল হক ও মতিউর রহমানের। তারা হাতি নিয়ে ফলোআপের পর ফলোআপ দিয়েছিল। বন্যায় মানুষ মরে যাচ্ছে তার থেকে বেশি তখন দেশে আলোচিত ছিল একটি বুনোহাতি। হাতিটিকে আদর করে নামও দেয় বঙ্গবাহাদুর। বদমায়েশির সব সীমা ছাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর বঙ্গ শব্দটিকে মানুষের হাসির খোরাক বানায় প্রথম আলো ও তার সিস্টার মিডিয়া। সাহিত্যিক আনিসুল হক লিখে ফেলেন এক বিরাট গদ্য। সেই গদ্য হাতিপ্রেমে পরিপূর্ণ। আর এখন যে রোহিঙ্গারা মরছে। তাদের ব্যাপারে প্রথম আলো বা আনিসুল হক কেউ কিচ্ছু বলছেনা। কিভাবে বলবে? তাদের আইডিওলজিক্যাল গুরু সুদখোর ইউনুসও তো নীরব এই ইস্যুতে। ওদের মানবতাবাদ যে কতটা ভন্ড তা এখন বোঝা যায়। হাতির জন্য ওরা কেঁদেকেটে ভাসায় দুনিয়া কিন্তু মানুষের জন্য একটু নিউজ কাভারেজ নেই। 


 
আমার শেরপুরের আদিবাসী বন্ধু প্রতাপ কোচ বলেছে, ভারত থেকে আসা বুনো হাতির আক্রমণে প্রায়ই মানুষ মারা যায়। ওদের ধানক্ষেত নষ্ট করে, ফসল খেয়ে ফেলে হাতি। তাদের দেশে আদর আপ্যায়নের জন্য আনিসুল ও মতিদের কি টালবাহানা। অথচ মিয়ানমারের সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে মৃত্যুমুখে পতিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে তারা মোটেই সরব নয়। মানুষের চেয়ে হাতির প্রতি প্রেম যে ওদের অধিক। ওরাও মানুষ!

বাংলাদেশের সুশীল ও অন্যান্য

বাংলাদেশের ভন্ডদের মুখোশও উন্মোচন করেছে রোহিঙ্গারা। সেক্যুলার নামের ইসলাম বিদ্বেষী ভন্ডরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুখে কুলুপ এঁটে নিজেদের আসল ঘৃণ্যরূপ প্রকাশ করেছে। এরা স্ট্যাটাস লেখে, কাভার ও প্রোফাইল পিক দেয় ‘আমি সাঁওতাল, আমি মালাউন’ লিখে তবে এদের ‘আমি রোহিঙ্গা’ বলতে বা লিখতে তীব্র দ্বিধা। প্রকাশ্যে এরা এমন সাম্প্রদায়িক। রাষ্ট্র বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমাধান চালাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যেসব কথিত এক্টিভিস্ট মালালা, দামীনী, ইয়াজিদী মজলুমদের জন্য দুঃখ পায় তারা কেন রোহিঙ্গাদের দুঃখটা অনুভব করেনা? মাওলানা ভন্ডরা ফিলিস্তিনের জন্য মায়াকান্না কাঁদে আর রোহিঙ্গারা ঘরের কোণায় মরে তাদের জন্য দোয়াও করেনা। কারণ কি ? রোহিঙ্গারা দেখতে সাদা চামড়ার না বলে? ওরা প্রাচ্যের সন্তান বলে?


জামাত বিএনপি মেন্দি সাফাদির সাথে বৈঠক করে। সারা বছর এসব ইস্যুতে চুপ থাকে। যখনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা শুরু করলো সেই তখনই শিবির আর বিএনপিও মুখ খুললো। টোট্যালি পলিটিসাইজ করতে এরা একটি বিবৃতি দেয়। অথচ এরা যদি রোহিঙ্গাদের ভাল চাইতো তবে অবশ্যই চুপ করে থাকতো। কারণ সরকার সব সময়ই নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ায়। এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শিক্ষা।  কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি জামাত মাঠে আসায় তা কোনদিকে নেবে কে জানে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সংগঠক যিনি রোহিঙ্গাদের পক্ষে মানবন্ধনের আয়োজন করেছেন তিনি আমাকে বলেছেন, জামাায়াত-শিবির-বিএনপি রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কথা বলায় আমাদের আন্দোলনটা আর চালিয়ে নিতে পারবো কি না জানিনা। এমনভাবে রোহিঙ্গাদের ক্ষতি করা উচিত হয়েছে কি মেীসুমী বিবৃতিনির্ভরদের? 
রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে ফিরতেছে এক বার্মা সন্ত্রাসী
সারা বছর তর্ক বিতর্ক করে বেড়ায় যে মাস্টার বা সুশীল বা ভন্ড বাঁম বা সাংবিাদিক, কবিপাল এবং বিশ্বায়নপন্থী যারা রাষ্ট্র ‍ও সীমান্তকে উঠিয়ে দিতে চায় তারাও রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে নীরব। মানে রোহিঙ্গারা ওপাশ থেকে মৃত্যুর ভয়ে বাঁচতে চায় আর এপাশ থেকে সুশীলরা তাদের বেয়নট দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফের ওপারে পাঠানোর পক্ষে মেীনসম্মতি দেয়। কি অসভ্য এসব সুশীল, সাংষ্কৃতিক কর্মী, এলসেসিয়ান সাংবাদিক। এদের কাছে ভারত থেকে আসা হাতিও সিমপ্যাথি পেতে পারে, তবে রাখাইন বা আরাকান থেকে আসা আধাপোড়া, আধামরা মানুষ কোন সিমপ্যাথি পেতে পারেনা। এখন কেউ গায়নাঃ
মানুষ মানুষের জন্য, ও বন্ধু একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা?
রোহিঙ্গারা মানুষ না, নাকি?

ওআইসি

ছি ছি করার মত একটি সংগঠন। ওআইসি নামের একটি সংগঠন আছে এটা লোকে ভুলেই গেছে। এটি গঠিত হয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মুসলমানদের উপকার করার জন্য।

  কিন্তু কি করছে? বড় বড় জুব্বা পরে ভোগ করতে এরা এক হয় প্রতি বছর। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরা নিজেরা কিছু করছে, না বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশকে কিছু করতে উৎসাহ প্রদান করছে? এই অকর্ম সংস্থা দিয়ে পৃথিবীর অসহায় মুসলমানরা কি করবে? এরা তো বাৎসরিক পিকনিকে মিলিত হয়। আর আসে যার যার শান শওকত দেখাতে। বদমাশ, ভোগবাদীদের আস্তানা এই ওআইসি।


তারপরেও মানুষ আছে

এত সব মুখোশের পরেও রোহিঙ্গারা কিছু ভালো মানুষকেও চিনিয়েছে। তারা হচ্ছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যারা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় হলেও চেষ্টা করতেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি মিয়ানমারের সন্ত্রাসবাদী আচরণের দিকে আনতে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাংলাদেশি শ্রমিকেরা ২৭ নভেম্বর ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মিয়ানমার দূতবাস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানায়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে যদিও তা অপ্রতুল কিন্তু অন্যদের নীরবতায় এটাও বড় অর্জন। যেখানে পাকিস্তান, ইরান, সেীদি আরব নীরব সেখানে বাংলাদেশ সাধ্যমত চেষ্টা করছে। তাছাড়া বাংলাদেশ কয়েক লাখ রোহিঙ্গার জন্য অনেকগুলো শরণার্থী শিবির তৈরি করেছে।

আমি চাই রোহিঙ্গাদের স্বাধীকার । যে জটিল পরিস্থিতিতে আরাকানের দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা রয়েছে তা অমানবিক। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন জাতি এমন করুণ দশার সম্মুক্ষিণ হয়নি। ইতিহাস স্বাধীন আরাকানের প্রমাণ দেয়। এখন নপুংশক সংঘ জাতিসংঘ কি পারেনা একটি স্বাধীন আরাকান প্রতিষ্ঠা করে দিতে ? তাহলেই তো সব ঝামেলা চুকে যায়। পূর্ব তিমুর যদি স্বাধীন হতে পারে আরাকান তার চেয়ে অধিক স্বাধীন হওয়ার যোগ্যতা রাখে। তবে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সদিচ্ছা এখানে জরুরি। রক্তাক্ত স্বাধীনতা যুদ্ধে চেয়ে কূটনীতি থেকে স্বাধীন আরাকানের দাবি উঠতে পারে। যদি দখলদার বার্মিজ সন্ত্রাসীরা বাঁধা প্রদান করে তবে চলে সেখানে জাতিসংঘের দুর্ধর্ষ শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠিয়ে মায়ানমার সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রোহিঙ্গা জাতিকে মুক্তি দিতে হবে।তা না হলে মানুষের পরাজয় ঘটবে।


রোহিঙ্গারা বাঙালির আত্মীয়। ওদেরকে যখন বেীদ্ধ সন্ত্রাসীরা মারে তখন ওদের বাংলাদেশি বলে। আমরা চাই এই অত্যচার বন্ধ হোক। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে রোহিঙ্গাদের মুক্তির জন্য মানবতার পক্ষে মানুষ কথা বলুক। অং সান সুকীর ভন্ড টর্চার সেল ধ্বসে পড়ুক। মিয়ানমার আর্মির পতন হোক। অসহায় রোহিঙ্গারা প্রাণে বাঁচুক। এই পৃথিবীতে অন্য সবার মত নির্ভয়ে নিঃশ্বাস নিক প্রতিটি রোহিঙ্গা শিশু। সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 


 আমরা কি পারিনা মায়ানমারের সমস্ত পণ্য বয়কট করতে? আমরা কি পারিনা মায়ানমারের অত্যাচারের জবাবে এদেশ থেকে সমস্ত বার্মা পণ্যকে বয়কট করতে? ট্যুরে গিয়ে বার্মিজ চকলেট, আচার, লুঙ্গি, চাদর, স্যান্ডেল, কাপড় না কিনে বার্মা সন্ত্রাসীদের অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে দূর্বল করে দিতে আমরা কি পারিনা? শুধু সদিচ্ছা থাকলে আমি আপনিও বার্মার সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে ক্ষুদ্র তবে অমূল্য অবদান রাখতে পারি। একটি বার্মিজ পণ্য কিনে বার্মায় টাকা পাঠানো মানে রোহিঙ্গাদের খুন করতে আরো কিছু টাকা আপনি সহায়তা করলেন। আপনিও রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করলেন। সুতরাং আজ থেকে সকল বার্মিজ পন্য বয়কট করুন, অন্যকেও উৎসাহিত করুন।

রোহিঙ্গা জাতির মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বর্বর কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে মুক্তি পাওয়া না পাওয়ার উপর নির্ভর করছে সমগ্র একবিংশ শতাব্দীর মানুষের অর্জনের সফলতা। রোহিঙ্গা জাতি যদি এ পৃথিবী থেকে নিঃশেষ হয়ে যায় তবে এ জাতির স্রষ্টা আমাকে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে যে নির্বিচারে মানুষ হত্যা দেখে আমরা কি করেছিলাম?

আমাদের উত্তরটা তখন কি হবে?
পাঠ অনুভূতি