সর্বশেষ

মানবাধিকার, তুমি কার?


কি যেন বলে ফেসুবক ইদানিং সবাইকে , আর আমরাও স্ট্যাটাস প্রসব করি তা দেখে
মানবাধিকার নিয়ে, মানে মানুষের অধিকার নিয়ে,
আমরা সঙ্গবদ্ধ হই অধিকারের আলোচনায়, আমরা শোভাযাত্রা করি মানবের অধিকার রক্ষায়
এসব বহুল প্রচলিত সত্য কেচ্ছা, এসব চলছে
পন্ডিতেরা আমাদের ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ এর ছবক দেয়, সেটাতে আছে  পৃথিবীর সব মানুষের অধিকার রক্ষা করবে জাতিসংঘের সনদ
অথচ সেই বছরেই ইহুদী রক্তপিপাসুরা ফিলিস্তিন দখল করে নেয়, গণহত্যা চালায় আরব মুসলিম-খ্রিস্টানদের উপর
সে সময় ইউনিভার্সাল হিউম্যান রাইটস ডিক্লারেশন কোথায় ছিল?
সে সময় অভিশপ্ত জায়োনিস্টদের ফিলিস্তিন লুটের অধিকার কে দিল?

কোথায় থাকে মানবাধিকার যখন প্রায় কোটিখানেক মানুষ মরে আফগানস্তান-ইরাক-সিরিয়ায় পশ্চিমা আগ্রাসনে?
কোথায় ছিল মানবাধিকার যখন ভিয়েতনামে মার্কিন সন্ত্রাসীরা ধর্ষণে মাতে?
কোথায় তোমার মানবাধিকার থাকে যখন আফ্রিকান সোনালী জীবন ওয়েস্টার্ণ ফাউলদের অন্ত্র ব্যবসার হটস্পট হয়
কালোদের দেহে থেকে ফ্রান্স-আমেরিকা-জার্মানী-বেলজিয়াম-ব্রিটেনের তৈরি অস্ত্রে লাল টুকটুকে রক্তে ভেসে যায়-
নাইজেরিয়া থেকে লাইবেরিয়া, ইথিওপিয়া থেকে সুমালিয়া, সুদানে দারফুর, কে খুন করলো লিবিয়া?
নীল নদ লোহিত কণিকায় ভরে যায় কার নো ফ্লাই জোনের ধাক্কায়?
কে দেবে জবাব তার?
মানবাধিকার তুমি কার?

আর রামাদি, মসুল, আলেপ্পোর সন্ত্রাসবাদের লেলিহান শিখা জ্বালিয়ে দেয়া বুশকে আমরা পুরস্কার দেই
তার  জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অসম্ভব, ভুলে গেছে মানবাধিকারের ফেরিওয়ালারা,
কোথায় ইরাকের উইপেনস অব ম্যাস ডিস্ট্রাকশন? কোথায় ধ্বংসপ্রাপ্ত লিবিয়ার ইলেকশন?

এই যে পৃথিবীর তলানীর রোহিঙ্গারা, কচুকাটা হয় বার্মার বর্বর সন্ত্রাসীদের হাতে
তখন মানবাধিকার ললিপপ খায় অং সান সুকী নামের জানোয়ারের সাথে,
মিয়ানমারের লাল বেীদ্ধ বদমাশের দল আরাকানে হিংসাই পরম ধর্ম প্রচার করে
খুন করে রোহিঙ্গা যুবক ও শিশুকে, ধর্ষণ করে রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীকে, একটি জাতি কাঁদতে কাঁদতে কান্নার জলও সব ফুরিয়ে ফেলেছে
তুব মানবাধিকার সেখানে যায়নি, উত্তরের রাখাইনে মানুষপোড়া গন্ধ যেন সুগন্ধ বার্মার রাখাইন সন্ত্রাসীদের নাকে
ধান্ধাাবাজ এমনেস্টি নেই, অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নেই, দেশি বিদেশি এনজিওজীবী নেই
ইউনুসের সদী কারবারও নেই;
আর ১০ ডিসেম্বর এলে জাতিসংঘ বান কি মুন বেহায়ার সাথে অসভ্য দিবস পালন করে ঐ দিকে
পারেনা আরাকানে নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করতে, পারেনা আরাকানে শান্তিরক্ষী পাঠাতে, পারেনা লাখ লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন বাঁচাতে
তবে কিসের অধিকার?
এই জিনিস আসলে কার?


আর আমাদের দেশে আমরা সবাই তামাশা করি, দেখি, আমরা খুব বেশি মানবাধিকারকর্মী, আমরা কাদায় উপুড় হওয়া রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যুদৃশ্য উপভোগ করি আর বলি
সীমান্ত খুলে ওদের আশ্রয় দেয়ার কি দরকার, এমনিতে কোটি কোটি মানুষ
তারপর সকাল হলেই আমরা মানবাধিকার নিয়ে স্ট্যাটাস লিখি, আমরা র‌্যালি করি আর বলি
রোহিঙ্গারা মানুষ কি ?

দেখতে কেমন ওরা? ওদের রক্তও কি লাল? ওরা নাকি স্বাধীন ছিল?
ধুত্তুরি কি সব গরীব নিয়ে ভাবছি, ওর পয়সা আছে? জিওপলিটিক্যাল গুরুত্ত্ব আছে?
তাইলে অফ যান, ওগো ভাইজান
আমি মানবাধিকার ব্যবসায়ী, ওয়েস্ট আর অর্থই আমাদের প্রাণ?

আমি উহাদের কোলাহল দেখে দূর থেকে ঘৃণা করে যাই,
আমি প্রশ্ন করি বারবার
মানবাধিকার তুমি আসলে কার?
তুমি ধনীর, তুমি সাদার, তুমি পশ্চিমা স্বার্থের, তুমি মানুষের নও
তুমি রোহিঙ্গার নও, আফ্রিকার নও, প্রাচ্যের নও,  তুমি এবার মানুষের হও।

তোমাদের পৃথিবীর ৩০ টি আর্টিকেল দরকার নেই, ঘোষণার দরকার নেই বিশ্ব মানব জাতির বাঁচানোর
শুধু এই মুহূর্তে আরাকানে যাও, একটি জাতিকে পিশাচদের হাত থেকে বাঁচাও
ওরাই মানুষ, ওরা বাঁচলে মানুষের ইতিহাস কলঙ্কমুক্ত হবে
অন্যথায়
সবগুলো পুড়ে যাবি তোরা বিবেকের তাড়নায়।


পাঠ অনুভূতি