সর্বশেষ

প্রেমের মড়া জলে ডুবেছে, তারিণী মাঝি ও বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড খেলাখেলি


[অসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ:এটি একটি স্পর্শকতার নিবন্ধ]
১.
হাতিরঝিল প্রকল্পে তন্ময় ও মিম নামের দুই ইছমাট ছেলেমেয়ে ঝাঁপ দিয়েছে।পত্রিকাগুলোয় এমনভাবে সেই সংবাদ পরিবেশন করেছে যেন ঝাঁপ দিয়ে দুর্দান্ত কাজ করেছে এরা।এই যুগলের বয়স ১৬।তারা ১০ শ্রেণীতে পড়ে।খবরে এসেছে,পারিবারিক বাঁধার কারণে এরা রাগে ঝাঁপ দিয়েছে।প্রশ্ন হচ্ছে কেন পরিবার বাধা দিল?এমন তো নয় যে এদেশে স্কুল প্রেম নাই।কিন্তু বাধা দেয় কখন সেটা আমিও জানি আপনিও জানি।ভারতীয় নোংরা সংস্কৃতির অনুপ্রেবেশ এমনভাবে হয়েছে যে স্কুল পড়ুয়া এসব কচিকাঁচাদের ও আজ প্রেমের কারণে মরতে ইচ্ছে করে।যে পিতা শরীরের ঘাম ফেলে রোজগার করে,যে মা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জন্ম দিল তাদের ইচ্ছে ও চাওয়ার মূল্য দিতে এতো কার্পণ্য কেন হে অকৃতজ্ঞ তরুণ ও তরুণী?দুই কলম পড়ে বানান করে নাম লেখা শিখলে,তসলিমা আর আজাদের কয়েকটা চটি পড়ে কিংবা কয়েকটা নষ্ট নোংরা ভারতীয় সিনেমা দেখে নোংরামী আর বেয়াদবি শেখা যায়,জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়না।এ কথা ভুলে গেলেই কেবল সাময়িক বাসনা চরিতার্থে বাধা দিলে মরতে ইচ্ছে করে।
২.
তন্ময় ও মিম একসঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছে।আত্মহত্যার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ও বিপদজনক হচ্ছে পানিতে ডুবে মরতে চাওয়া।আমরা সবাই জানি পানিতে ডুবতে থাকা লোক সামান্য একটা খড়পেলেও সেটা আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়।এজন্য পানিতে পড়া কাউকে উদ্ধারে যারা যায় তারা সাবধানে থাকে।হাতিরঝিলে ঝাঁপ দেওয়া প্রেমিক ও প্রেমিকা পানিতে পড়েই বেঁচে থাকার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।শুরু হয় একে অপরকে পানিতে চুবিয়ে নিজে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক নির্মম সত্য লড়াই।বেচারা তন্ময় সেই যুদ্ধে হেরে যায়।বেঁচে যায় প্রেমিকা মিম।পানির নিচে অস্তিত্ব সংকটে পড়লে প্রিয় প্রেমিকও হয়ে যায় প্রতিদ্বন্দ্বি আর এভাবেই প্রেমের মড়া জলে ডুবে যায়....
৩.
মিম কি চিরদিন তন্ময়ের শোকে কেঁদে যাবে বলে আপনি মনে করেন?কিংবা যদি তন্ময় বেঁচে থাকতো সে?না,পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতা মিমের জীবনকে আবারো রাঙাবে।হয়তো সামাজিক নিয়মে,হয়তো লোকচক্ষুর আড়ালে।হয়তো সম্পর্কে জড়িয়েও মিমের হৃদয়ে থাকবে তন্ময়ের চেহারা।কিন্তু তাতে কি তন্ময় ফিরে আসবে?ওর বাবা ও মায়ের স্বপ্নগুশো কে তবে মিশিয়ে দিল ধূলায়?
৪.
অস্তিত্ববাদ একটি বৃহত্‍ ধারনা।তারাশঙ্করের তারিণী মাঝি গল্পটি যারা পড়েছেন তারা অস্তিত্ব সংকট কিভাবে আবেগকে ধুলিস্মাত্‍ করে দেয় সেটি দেখেছেন।গল্পে দেখা যায়,তারিণী একজন দক্ষ মাঝি।অনেক ডুবে যাওয়া মানুষকে সে সাহসীকতার পরিচয় দিয়ে পানি থেকে সাঁতরে তুলেছে।পৃথিবীতে তার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী ছাড়া আর কে আছে!বাণের জলে এলাকা যখন ভেসে যায় তখন তারিণী মাঝি তার প্রিয় বউ ছেড়ে যায়নি।বউকে কোমরে জড়িয়ে ধরতে বলে সে গাঙের জলে সাঁতরাতে থাকে।যতক্ষণ পর্যন্ত সে দেখেছে যে সে নিজে বেঁচে থাকতে পারছে কাঁধে থাকা তার বউসহ ততক্ষণ সে প্রাণপণে সাঁতার কাটছে।হঠাত্‍ ভয়ানক পানির পাকে পড়লে সে আর নিঃশ্বাস নিতে পারেনা।কাঁধে থাকা বউ তাকে চুবিয়ে ধরে নিজে পানির উপরে মাথা তুলতে চাচ্ছে।চলে ধস্তাধস্তি,নিঃশ্বাস নেওয়ার সংগ্রাম।এই সংগ্রাম তখনই শেষ হর যখন তারিণী কনুই দিয়ে গুঁতা মেরে বউকে কাঁধ থেকে ছাড়িয়ে ভাসিয়ে দেয় গাঙের জলে,আর সে বুক ভরে নেয় প্রশ্বাস!অস্তিত্ব সংকটে এমনই নিষ্ঠুর একদা মানুষের জীবন বাঁচিয়ে তোলা তারিণী মাঝি।
মিম ও তারিণী মাঝি উভয়ে কি এক হতে পারে?তারিণী মাঝি গাঙের বাণের ভয়ে ঝাঁপ দিয়েছিল বউসহ বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে।মিম আর তন্ময় মরে যাওয়ার নিমিত্তে ঝাঁপ দিয়েছিল।উভয় ক্ষেত্রেই একজন বেঁচে থাকলো তবে শুধু তারিণী মাঝির বেঁচে থাকাটা সত্যিকার অস্তিত্ববাদের প্রমাণ।দুজন একসঙ্গে আত্মহত্যা করতে গিয়ে একজন বেঁচে আসা মিম অনিচ্ছাস্বত্বেও তন্ময়কে হত্যা করে।
৫.
বয়ফ্রেন্ড মানে ছেলেবন্ধু।গার্লফ্রেন্ড মানে মেয়েবন্ধু।শব্দ দুটি পশ্চিমা বিশ্ব থেকে এসেছে।যে সমাজে পরিবার প্রথা বিলুপ্ত।যেখানে #জারজ বা অবৈধ সন্তানদের আধিক্য সেখান থেকে এই শব্দদ্বয়ের উদ্ভব।যে সমাজে বিয়েবহির্ভূত শারিরীক সম্পর্ককে উত্‍সাহিত করা হয় সেখানে বিয়ে ছাড়া এই জাতীয় শব্দের মাধ্যমে নোংরামী চলে।
পশ্চিমা সমাজে বিয়ে প্রায় উঠে গেছে।এর কারণ হচ্ছে বিয়ে করলে একটি দায়বদ্ধতা চলে আসে।যে দুজন নরনারী বিয়ে করে তারা একে অপরের প্রতি নানাভাবে দায়বদ্ধ থাকে।সন্তান জন্মদান করলেও তা একসঙ্গে পালন করে।একাধিক সম্পর্কে জড়ায়না।কিন্তু এসব শৃঙ্খল ভেঙে পশুর মত অবাধ যৌনাচার করতে চাওয়া থেকেই বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড ধারনার উদ্ভব।পশ্চিমা সমাজে এর মাধ্যমে জারজ বানানোর কারখানা হচ্ছে।

প্রেক্ষাপট যদি হয় #বাংলাদেশ তবে সেখানে এই নোংরা শব্দদ্বয় কিভাবে স্থান পায়?বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখলেতো একটা লাইনও পাওয়া যাবেনা যেখানে বিয়েবিহীন শারিরীক সম্পর্ক অব্যবহত রাখার কোন সম্পর্ককে বৈধতা দেয়।কিংবা ইসলাম,সনাতন,বৌদ্ধ,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কারো রীতিতেই তো এই নোংরা বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড বেহায়াপনার শব্দদ্বয়কে সমর্থন করেনা।তবে কেন আজ আমার দেশের তরুণ তরুণী এই নোংরা খেলায় মেতেছে?কেন কেন?আপনি কারো বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড আর আপনাকে সে এতটুকু ছুঁয়েও দেখেনি এইসব বলে ফেরেশতা সেজে আর কতদিন হে বাঙালি,বাংলাদেশী সংস্কৃতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড?লজ্জা করেনা এতটুকু বিয়ের আগে নিজের শরীরে অপরের হাত লাগাতে?কতটুকু নিশ্চিত তুমি যে এই ছেলে বা এই মেয়েই তোমার জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী?যদি নিশ্চিত না হও তবে তুমি কার স্ত্রীর শরীরে হাত দিচ্ছো কিংবা তুমি কোন নারীর স্বামীর সঙ্গে ব্যভিচার করছো?তুমি যা করে যাচ্ছো অন্যের সঙ্গে তোমার সঙ্গী ঠিক তাই করে আসবে এ কথা ভুলে যেওনা।
মা বাবাকে ফাঁকি দিয়ে বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড খেলাখেলির ফল বেশি ভালো হবেনা।এই সমাজবিধ্বংসী নোংরামীর ফলে সতীত্ববিহীন এক জারজ সমাজের আবির্ভাব হবে।যে সমাজে নীতি থাকবেনা,নৈতিকতা থাকবেনা,মা থাকবেনা,নির্দিষ্ট বাবা থাকবেনা,যৌনাচার হবে অবাধ,সামাজিক শৃঙ্গল ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।
পশু এবং মানুষের মাঝে সব পার্থক্য দূর হয়ে যাবে।

৪.১.২০১৪
পাঠ অনুভূতি