প্রভাতফেরির কান্না
কিভাবে হয়ে গেল প্রভাতেরফেরি আজকের প্রথম প্রহর?
কেউ কিচ্ছু কয়না,
রক্তাক্ত ফাল্গুনেও কবিগুলো ঘাস খায় আর কাটে ঠাকুরীয় স্প্রিংয়ে,
ইতিহাস লেখক বন্ধুত্ত্ব করে লেজুড় আর তরজমার সাখে
সাংবাদিত এলসেসিয়ান পরিচয়ে পেটেভাতেমাস্তিতে আরামে খায়,
নাট্য ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা তরুনীদের স্যাক্রিফাইস ভোগে চরম ব্যস্ত,
নিজেরে নিয়ে বিহবল বিশ্ববিদ্যালয়, তার আত্মকেন্দ্রিক ছাত্রগোষ্ঠী ও মর্যাদার আন্দোলনরত শিক্ষক সমাজ
সব রাজনীতিক থ,যেখানে বুদ্ধি ব্যবসায়ী আর সম্পাদকবোয়ালরাই চুপ সেখানে তারা বিব্রত
এ বিষয়ে- এই যে একটি ইতিহাস, একটি গৌরব,একটি ঐতিহ্য, একটি সংষ্কৃতি মুছে গেলপ্রায়
প্রকাশ্যে বাঙলার প্রভাত হয়ে গেল ইংরেজির গভীর রাত
আবার গভীর রাত হয়ে গেল প্রথম প্রহর; পত্রিকায় আর টিভিতে আর পোর্টালে
এদিকে প্রথম প্রহর পরিণত হলো ভাষা আর শহীদের সম্মানে
সকালের সূর্য তখনো যখন ওঠে নাই,
প্রথম প্রহর এদেশে আসে কেমনে?
দলবেঁধে একদম সকালে খালি পায়ে শহীদ বেদির উদ্দেশ্যে হালকা শিশির মেখে হাঁটা, ফুল দেওয়া, বরকতের কথা মনে করা
এখন হয় কর্পোরেট রাত্রিতে,
আমাদের ঘুম হারাম করেছে পাজিপুঁজি; অতো ভোরে ঘুম ভেঙে মিনারে না আসার দায়টা
তাই বারোটা একেই সেরে দিই দারুন তৃপ্তি নিয়ে
মাইকে বাজে, আমি কি ভুলিতে পারি
কেউ আর খালি গলায় প্রাণখুলে গায়না
যেমন ধরেনা কেউ বাংলাতে ভালবাসার বায়না
যেমন ভাসানী-মুজিব হেঁটেছে সকালে নতুন ভোরে তেমন কেউ আর হাঁটেনা।
এখন হয় কর্পোরেট রাত্রিতে,
আমাদের ঘুম হারাম করেছে পাজিপুঁজি; অতো ভোরে ঘুম ভেঙে মিনারে না আসার দায়টা
তাই বারোটা একেই সেরে দিই দারুন তৃপ্তি নিয়ে
মাইকে বাজে, আমি কি ভুলিতে পারি
কেউ আর খালি গলায় প্রাণখুলে গায়না
যেমন ধরেনা কেউ বাংলাতে ভালবাসার বায়না
যেমন ভাসানী-মুজিব হেঁটেছে সকালে নতুন ভোরে তেমন কেউ আর হাঁটেনা।
কাটেনা, কিছুতেই কাটেনা সচেতনতার ঘোর,
দেখিনা আর দুচোখে বাংলাদেশের ভোর
কি করে, কিভাবে, কিসের ভিত্তিতে যেন হয়ে গেল-
আমাদের প্রভাতফেরিটা একুশের প্রথম প্রহর!
দেখিনা আর দুচোখে বাংলাদেশের ভোর
কি করে, কিভাবে, কিসের ভিত্তিতে যেন হয়ে গেল-
আমাদের প্রভাতফেরিটা একুশের প্রথম প্রহর!
১৩২৩ বঙ্গাব্দের ৮৯ ফাল্গুন লিখিত।
১৪২৩ সালের ৮ ফাল্গুন দিবাগত রাতে প্রভাতফেরি হারিয়ে যাওয়া বিষয়ে আমি একটি ছোট্র নিবন্ধ লিখি। সেটি নিম্নরূপ।
হারিয়ে যাচ্ছে প্রভাতফেরি
হারিয়ে যাচ্ছে প্রভাতফেরি
আজ ৮ই ফাল্গুন চলে গেলো। অনেকটা নীরবে। ১৩৫৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে সালাম,
বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রাণ দেয়। সুতরাং
বাংলা সন হিসেবে ৮ ফাল্গুন আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের উদ্যোগ নেয়া উচিত। যেহেতু
আমরা পশ্চিমা সভ্যতার স্বর্ণযুগে বাস করছি তাই গ্রেগরিয়ান ২১ শে
ফেব্রুয়ারীকে আমরা অস্বীকার করিনা। কিন্তু একজন বাঙালি হিসেবে ৮ ফাল্গুনে র
উপেক্ষা মেনে নেয়াও কষ্টকর। অনেকেই হয়তো জানেনা, ভাষার জন্য যে আন্দোলন
হয়েছে তাতে উর্দু ও ইংরেজির প্রতি বিরোধ ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট
সংগঠনগুলো তো ইংরেচিকে দাপ্তরিক ভাষা করার ঘোর প্রতিবাদে মিছিল মিটিংও
করেছি। কিন্তু আমরা ২১ শে ফেব্রুয়ারীর বলয় ছেড়ে বের হতে পারিনি। তবে এখন
যেহেতু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এটি তাই এটাও আমাদের গেীরবের কারণ।
আমাদের ভাষা শহীদ দিবসে সারা পৃথিবীর মানুষ শহীদ মিনারে যখন ফুল দেয় তা
ভেবে আমরা গেীরবান্বিত হই। আরেকটা ব্যাপার, যেটা না বললেই নয়। একুশে
ফেব্রুয়ারী ‘প্রভাতফেরী’ তে যে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে
ফেব্রুয়ারী’ গাওয়া হয় তা তো প্রভাতেই ছিল। এমন কি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান ও মওলানা ভাসানীও এই প্রভাতেই খালি পায়ে শহীদ বেদিতে ফুল
দিতেন। কিন্তু এটা রাত ১২ টা বা ১২ টা ১ মিনিটে এর প্রবর্তনটা আসলো কবে?
কেন? প্রভাতের সংগীত মাঝরাতে গাওয়ার প্রচলনটা আসলো কিভাবে? ছোটবেলায় ঘুম
থেকে উঠার জন্য আকুল হতাম। খালি পায়ে, ফুল হাতে শহীদ মিনারে যেতে যেতে কত
যে গেয়েছি সেই গান। এখন প্রভাতফেরিটা হারিয়ে যাচ্ছে যেন। প্রভাতে এই
অনুষ্ঠান হতো কারণ বাংলা নিয়মানুযায়ী নতুন দিনের শুরু হয় সূর্যদয়ের পর।
পয়লা বৈশাখে যে প্রজন্ম রাত বারোটার পর শুভেচ্ছা বার্তা বা স্ট্যাটাসের
বন্যা বা প্লাবন নিয়ে আসে তাদের কাছ থেকে প্রভাতফেরির আনুষ্ঠানিকতা আশা
করাও অবশ্য একটি অলৌকিক ব্যাপার এখনকার প্রেক্ষাপটে!

