১। ফারুকীর বিগত নাটক মার্কা চলচ্চিত্র দেখে আমরা তার নোংরা কনটেন্টপ্রিয়তা দেখেছি। নৈতিকতার ধার না ধেরে যাচ্ছেতাই বাজে জিনিস ফারুকী হার্টফার্ট নামে খাইয়ে একটি খিচুড়ি ভাষার ওকালতি করে। যেহেতু ডুব হুমায়ূন আহমেদের জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র বলে শাওনের অভিযোগ তাই ফারুকীর নোংরা মানসীকতার রেপ্রিজেন্টেশন সুস্থ হবেনা বলে শাওন ধারনা করে থাকতে পারেন। কারণ এর আগে থার্ড পারসন সিংগুলার নাম্বারে নিজের বউকে দিয়ে অভিনয় করানো চলচ্চিত্রে কনডম এবং ঋণ শোধ করানো নামের বাজে রেপ্রিজেন্টেশন দেখা গেছে।
২। হুমায়ূন আহমেদের জীবনে অনাকাঙ্খিতভাবে শাওনের আগমন ঘটেছিল যা হুমায়ূনের প্রথম পক্ষ আজ পর্যন্ত মেনে নিতে পারেনি। এমন কি বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজের অধিকাংশই শাওনকে ভিলেন হিসেবে দেখে যে, শাওন আসলে গুলতেকিনের সংসার ভেঙেছে। তারা হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিজীবনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাপোষণ করেনা। এই অবস্থায় শাওনের শঙ্কা, ফারুকী তার ও হুমায়ূনের সম্পর্ককে না জানি এমনভাবে উপস্থাপন করে যেখানে শাওনকে এন্টাগোনিস্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। শাওন গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘গত বছরের শেষ দিকে ভারত ও বাংলাদেশের কিছু প্রথম সারির পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আলোচ্য ছবিটি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনের কিছু স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এই ব্যাপারটি আমার মধ্যে একধরনের আশঙ্কার সৃষ্টি করে। এই আশঙ্কা আরও শক্তিশালী হয়, যখন ছবির মূল একজন অভিনেত্রী একটি সাক্ষাৎকারে সরাসরি বলেন, এই ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়ে বানানো। তিনি আরও বলেছেন, সেখান আমার চরিত্রটিও এসেছে। এ কারণেই আমি আশঙ্কা থেকে সেন্সর বোর্ডে একটি চিঠি দিয়েছি। তারা যেন আপত্তির বিষয়গুলো সমাধান করে। অনেকেই বলছেন সিনেমা মুক্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে; কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, ছবিটি মুক্তির পর আর কী করার থাকবে আমাদের? আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া জায়গাগুলো কি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকবে?’(প্রথম আলো, ১৮ ফেব্রুয়াপরী)। এ থেকে বোঝা যায়, শাওন ফারুকীর ছবির রসালো উপাদান হতে একদম ইচ্ছুক নন।
ফারুকী যে কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে
ফারুকী মূলত দুটি কারণে সুবিধাজানক অবস্থানে শাওনের চেয়ে। কারণ দুটি হচ্ছে:-
১।
ফারুকী স্পষ্টভাবে বলেছেন, চলচ্চিত্রটি জাভেদ হাসান নামের একজনের
জীবনকাহিনী তুলে ধরেছে, হুমায়ূন আহমেদকে না। ফারুকী বলেন, সিনেমায় শাওন
নামে কোন চরিত্রই নেই। এখন এই অবস্থায় যদি বিষয়টি আদালতেও গড়ায় তবে শাওনের
টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।
২।
গণমাধ্যম সম্ভবত ফারুকীর দিকে ঝুঁকবে। সেনসেনিালিজমের কারণে হয়তো সংবাদে
মেহের আফরোজ শাওনের বক্তব্য আসবে, তবে দিন শেষে পত্রিকা টিভিওয়ালারাও আসলে
দেখতে চায় শাওনের কিসে আপত্তি।
গুলতেকিনের গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা
এবার
একটু ভিন্ন ভিষয়ে কথা বলি। ধরুন, শাওনের জীবন চলচ্চিত্রে জড়িত। ফারুকী এতে
ফেঁসে গেলো। কিন্তু এতে তো তবে গুলতেকিনও থাকবেন। সেক্ষেত্রে যদি হুমায়ূন
আহমেদের পরিবারের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন পড়ে তবে তার ছেলে নুহাশ যদি অনুমতি
দেয়? কারণ শাওনের আপত্তি মানে সেখানে শাওনের উপস্থাপন নেতিবাচক। এবং এর
অর্থে গুলতেকিন সেখানে ইতিবাচক। এই অবস্থায় যদি গুলতেকিন তার চরিত্রের
ব্যাপারে নীরবে হলেও ফারুকীর পাশে থাকে সেটি ডুব মুক্তি দিতে সহায়তা করবে
বলে মনে হয়। ড, জাফর ইকবালও এ ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা আছে।
দেশের মানুষ কি করবে?
সত্যি
বলতে ফারুকীর চলচ্চিত্র গণমানুষ বয়কট করেছে বিগত দুটি চলচ্চিত্র থেকে
অভিজ্ঞতা। কারণ ফারুকীর কাহিনী ও খিচুড়ী ভাষা বাংলাদেশ ও বাঙালির সংষ্কৃতি ও
ভাষার সাথে যায়না। কিন্তু ডুবের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে শাওনের
আপত্তির জন্য। বাংলাদেশের মানুষের রক্ষণশীলতার কারণে হোক আর গুলতেকিনের
প্রতি ভালবাসা বা দরদের কারণে হোক মেহের আফরোজ শাওনকে নেতিবাচক চোখে দেখে
অনেকেই। হুমায়ূন আহমেদের অন্ধভক্ত পাঠকও শাওনের আবির্ভাবকে মেনে নিতে
পারেনি। আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা হলেও প্রথম স্ত্রীর প্রতি
বাংলাদেশের মানুষের সহানুভূতি সব সময় থাকে। এসব দিক বিবেচনায় আনলে ‘ডুব’
চলচ্চিত্রে শাওন কে কিভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা জনগণ দেখতে চায়। শাওনের
ভয় সম্ভবত এখানেই। কারণ একটা প্রজন্ম পর্যন্ত তাকে অপছন্দ বা ঘৃণা করতো। সে
টি পুরোনো হয়ে গেছে। কিন্তু ফারুকীর এই চলচ্চিত্র আবার তা সামনে নিয়ে
আসবে। এবং একবিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেয়া প্রজন্মও শাওনের বিপক্ষে চলে যাবে।
মুখথরোচক কাহিনী এই বয়সে শাওন হতে চাইবে কেন? তার সন্তান রয়েছে। তারাও কি
নিজের মায়ের ব্যাপারে নেতিবাচকতা দেখে বড় হবে?
কিন্তু এসব প্রশ্ন আসলে মানুষের আবেগের কাছে পরাজিত হবে। দেখা যাবে ডুব মুক্তি দেয়ার জন্য শহুরে ফারুীখোর আত্মকেন্দ্রীক প্রজন্ম মাঠে নেমে পড়তে পারে। কারণ এদের কাছে শাওনের ব্যক্তিজীবন সম্মানের কারণ নাও হতে পারে। তবে নারীবাদীরা শাওনের পাশে দাঁড়াতে পারে।
দেখা
যাক কি হয়। আমরা অপেক্ষা করছি এর শেষ দেখার। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে,
শাওন যদি আপত্তি না জানাতো তবে ডুব চলচ্চিত্রটি সুপারফ্লপ খেতো,
পিঁপড়াবিদ্যা ও টেলিভিশনের মত। কারণ দিন শেষে ফারুকী বানায় নাটক, মানুষ
সিনেমা নাম দিয়ে নাটক দেখানো ধরে ফেলার পর আর দেখেনা ওসব। তাছাড়া ইরফান না
ফিরফানকে কিন্তু দেশের সাধারণ ,মানুষ অতোটা চেনো। কিন্তু শাওন ফারুকী,
ইরফান আর জাজকে মনে হয় ব্যবসায়িক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচালো। কারণ বিতর্ক
তৈরি করে ফায়দাটা নেবে ফারুকী ও মিডিয়া-ই। নানা কারণে এই প্রোপাগান্ডা
যুদ্ধে শাওনের পরাজয়ের সম্ভাবনা অধিক। তারপরেও কি ঘটে তা জানতে একুট
অপেক্ষা করতে তো দোষ নেই, তাই না?
