'ভাল আছি চায়ের কাপে সাইক্লোন তুলে,নিশ্চিন্তে'-কবির উত্তর,
ভালো আছে আমার নারীরা, বাস্তবে ও কাব্যে
এই তো তিন দিন আগে কয়েকজন আহ্লাদে আপ্লুত হয়ে অটোগ্রাফ চেয়েছে
কাছ থেকে দেখেছি, উপভোগ করেছি স্নিগ্ধতা
এ বইমেলায় আসা গ্রন্থটিও এদেরই শরীরের প্রতীকী উপস্থাপন,
কেউ কেউ বোঝে, অনেকেই বোঝেনা।
'না না,কি বলেন? এই দেশফেশ নিয়ে ভাবার সময় কই?'-কবির দৃঢ় উত্তর
কে কোথায় পুড়ছে, কে ঝলসে যাচ্ছে আগুনে, কার কি দাবি এই নিয়ে ভাবতে ভালো লাগেনা,
হৃদয়ের পোড়াগন্ধ লিখতে, জ্যোত্স্না ও চাঁদ আঁকতে ভাল লাগে,
বিদ্রোহের কবিতা এখন চলেনা, এখন গদ্যের দিন: নারী ও প্রেম ওরা মসলার সাথে চিবিয়ে খায় ।
'দেখুন,আমি মানবতাবাদী: এর মানে এই না আমি বিশ্বের আনাচে কানাচে মরা লাশের খোঁজ নিয়ে বেড়াবো'-কবির ক্ষুরধার বয়ান
কোথায় আফগানিস্তানে কে মরছে, ইরাকে মরছে তাতে আমার কি?
এই ধরুন ফিলিস্তিনের কথা। ট্যাংকের সামনে ইটপাথর মারা একটি বোকা প্রজন্ম কে নিয়ে আমি লিখতে পারি?
না,পারিনা। আমি হচ্ছি ভালবাসার কবি। প্রেম উপচে পড়া কবি। আমি পর্ণোগ্রাফির উত্তেজনাটা ভাল বুঝি রোহিঙ্গাদের কান্নার চেয়ে।
'সাম্য?হ্যাঁ,সাম্য ও আবেগ নিয়েই কাজ আমার। কলমে ও কিবোর্ডে আমি তা সুষম বণ্টন করি।'-কবি মাথা নাড়েন
তাই বলে সীমান্ত হত্যা নিয়ে কথা? কিংবা ফেলানী, না খেয়ে থাকা গরীব, সাংষ্কৃতিক আগ্রাসেন মুমূর্ষু প্রজন্ম-এগুলো ছোট ব্যাপার,
দেখুন উত্তরের আধুনিক কবিতা মূলত নারীর শরীরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে! এইসব পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি বা সংষ্কৃতি এগুলো পুরোনো কথা
উত্তরাধুনিক সাহিত্য-গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ-কবিতা হচ্ছে রাজনীতিবিমুক্ততা। কখন কাকে খেপিয়ে তুলে আমার পদকটা খোয়াবো?
আপনি এসব বুঝবেন না, কবি এখন দায়মুক্ত। কবির নিজস্ব খায়েশ আছে, সে এখন এটা-সেটা চায়।
'কিন্তু আপনি কে? আপনি কি মশাই? না মিয়া? আমার সাক্ষাত্কার ছাপাতে আসা কোন আত্মকেন্দ্রীক সাংবাতিক?'কবির জিজ্ঞাসা
' আমি বঞ্চিতর কান্না, শোষকের ভীতি, গরীবের কথা, আমি সাম্য-
আমি আন্দোলন, অধিকার, আমি মানবতা, সুপ্রেম ও সব যুগের মানুষের কাম্য'
‘কে? কে তবে আপনি?’ জানতে চায় কবি
‘ আমি কবিতা, আপনার বা আপনাদের কবিতা না; সত্যিকার কবিতা
দেখতে এসেছিলাম কিভাবে আমাকে বিক্রি করে পেট চালাচ্ছেন,
ব্যবসা করছেন ভোগের সাথে, অথচ আমি চিরকাল ত্যাগের অগ্রসেনা ছিলাম-
এমন কি শেষবার মরে যাওয়ার আগেও।’
কবি চুপ করে গেলো। আরো অন্যদের স্টলে স্টলে ঘুরে নিয়ে আসলো কবিতার মুখোমুখি করে বদলা নিতে
কিন্তু কবিতার প্রশ্নের জবাব কেউ দিতে পারলোন। কবিতা চিৎকার করে বলে,
‘আপনারা তো অকবি, অসুন্দর, লোভী, ইতর, চরিত্রহীনা, ভোগবাদী, অসভ্য, ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাদাস।’
কোন কবি উত্তর দেয়না। মাথা নত করে ওরা ভাবছে কয় কপি বিক্রি হলো রে! এ সভ্যতার দায়সারা কবির দল এখানেই নীরব
কবিতার সাথে ওদের ছাড়াছাড়ি হয়েছে তা এখন মানুষকে জানানোর সময় হয়েছে।
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
