সর্বশেষ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন শোষক: আহমদ শরীফ


`...এ বৈশ্বিকচেতনায় উত্তরণ সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথ তাঁর অন্তরের গভীরে প্রোথিত সামন্ত-বেণে-বুর্জোয়াচেতনা ও স্বার্থবোধ শেষাবধি পরিহার করতে সমর্থ হন নি। একজন কারখানা মালিক যেমন তার শ্রমিকদের দাবী আদায়ের মিছিলে শামিল হতে পারে না, সামন্ত-বেণে-বুর্জোয়-জমিদার রবীন্দ্রনাথও তেমনি পারেন নি দুস্থ-দুঃখী-চাষী-মজুরের শোষণ-পীড়ণ র্জজরিত জীবনের আলেখ্য আঁকতে। এ হচ্ছে শ্রেণীক ও ব্যক্তিক স্বার্থ চেতনার বন্ধন। নইলে যে রবীন্দ্রনাথ প্রমত্ত পদ্মায় জেলে-মাঝিকে ডুবে মরতে দেখেছেন, পদ্মার যমুনার তীর ভাঙনে হাজার হাজার গরীব চাষী-মজুরকে নিঃস্ব হতে-উদ্বাস্তু হতে দেখেছেন, দেখেছেন সচ্ছল চাষীকে সপরিবারে পথে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করতে, প্রত্যক্ষ করেছেন দুর্ভিক্ষে অনাহারে-অপুষ্টিতে-তুচ্ছ রোগে ভুগে ভুগে অকালে অপমৃত্যু কবলিত হতে হাজার হাজার নিঃস্ব-নিরন্ন-নিরক্ষর নির্বিরোধ মানুষকে। আরো দেখেছেন তাঁরই হুকুমে বা সম্মতিতে তাঁরই গোমস্তাদের খাজনার দায়ে তাঁরই গরীব প্রজার ঘটি-বাটি ক্রোক করতে, প্রজাকে ভিটে-ছাড়া করতে, বারবার দেখেছেন ঝড়-খরা-বন্যা তাড়িত মানুষের চরম দুঃখ-দুর্দশা ও অপমৃত্যু,- সেই রবীন্দ্রনাথে বিপুল-বিচিত্র রচনায় এদের নাম-নিশানা মাত্র নেই কেন! বোঝা গেল,- শোষক তিনি যত বড় মহাপুরুষই হোন, শোষিতের পক্ষে লড়াই দূরে থাক তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশেও অনীহ।’’
-আহমদ শরীফ, নির্বাচিত প্রবন্ধ, আগামী প্রকাশনী, তৃতীয় প্রকাশ, ২০১১, পৃষ্ঠা. ১২৬
পাঠ অনুভূতি