সর্বশেষ

কলই পোড়া


গ্রামে এই সময় 'কলই পোড়া' খেতাম।মটর কিংবা খেসাড়ি এইসময়টাতে জমিতে পাকতো।আমরা বসে থাকতাম পরিচিত মটরচাষীর কাছে পোড়া খাওয়ার বায়না ধরার সুযোগের অপেক্ষায়।তারপর মটর এবং নাড়া(ধান কাটার পর নিচের যে অংশ শুকনো হয়ে যায় এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়)নিয়ে আগুন ধরিয়ে দিতাম।পোড়া শস্য খেতে সে কি মজা!৮-১০ টা ছেলে চরের মাঝখানে বা কোনায় দাউদাউ করে আগুন জ্বালতাম।তারপর সেই আগুন নিভিয়ে গায়ের জামা খুলে ছাই ঝেড়ে চারপাশে গোল হয়ে কলইয়ের বা মটরের সিম খুলে খেতাম।অমৃত স্বাদ,সাথে একটু আধটু বসন্তের বাতাস।
াওয়া শেষে শুর হতো কালি মাখামাখি।হঠাত্‍ করে এ ওর মুখে কালি দিয়ে দৌড়।কেউ আবার রাগ করতো,কেউ না।প্রথমে খাওয়ার পরে দ্বিতীয় সারির বাচ্চা ছেলেপেলে খাদক হিসেবে আসতো।তারপর একসঙ্গে গোসল করে বাড়ি ফিরে দুপুরের ভাত খাওয়া!
কেমন অস্বাভাবিক সুন্দর ছিল সেই সব দিনগুলো....ফিরে পেতে ইচ্ছে করে,কলই বা মটর পোড়া বছর পাঁচেক হলো খাইনা।ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।বাড়িতে যে প্রজন্ম দেখে এসেছি তারা এসবের ধারধারেনা।তারা বাংলাদেশের বুকে হেঁটে বেড়ানো শিকড়হীন একেকটি ছায়া।
মার্চ ১, ২০১৫
পাঠ অনুভূতি