আজ (চৈত্র সংক্রান্তি) হচ্ছে বাংলাদেশের উৎসবের দিন। বিশ্বাস করুন,আমাদের পূর্বপুরুষদের উৎসব ছিল চৈত্র সংক্রান্তী। গ্রামে যান, তারা চৈত্রের শেষ দিনটাকেই মনে রাখে।এই দিন উৎসব হয়, মেলা হয়। ইলিশপনা একটি নব্য ভোগবাদী আইটেম ছাড়া কিছুনা। আপনি যেগুলোরে ইলিশগিরি করতে দেখবেন এদের প্রত্যেকটি মোটাদাগে ভোগবাদী। কেবল খাওয়া এবং সঙ্গমে বিশ্বাসী পাশবিক আত্মাগুলোই ইলিশকে সার্বজনীণ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী, আপনার সাথে আমরা আছি। শুধু রাষ্ট্রীয় ভবনে নয় জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই নব্য ভোগবাদকে বিতাড়িত করতে হবে। হেমন্তের নবান্ন উৎসবকে জনপ্রিয় করতে হবে। যেটার সাথে কৃষকের শ্রমিকের সম্পর্ক।
২।
এই চশমখোর মুনাফাজীবী ও মুনাফলোভীদের সময়ে বাকির খাতাও আর নেই বললেই চলে। ফলে গরীবের পান খাওয়া আর দানাদারের হালখাতাও আর তেমন দেখা যায়না। টিকে আছে শুধু গরম ভাতে পানি দিয়ে পান্তা খাওয়া। টোট্যাল হিপোক্রেসি। এর চেয়ে ডাল চাল মিশিয়ৈ খিচুড়িও খাওয়া ভাল।ইলিশ-পান্তার চেয়ে ঢের বেশি বাঙালিত্ত্ব রয়েছে তাতে। সেই সাথে বৈশাখকে ইলিশে মুড়ে গরীবের বর্ষকে ভোগবাদী কথিত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তের ছিনিয়ে নেয়া রুখে দিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ এই সব থার্টি ফার্স্ট ক্যাটেগরির ফাইজলামি কোনদিন করেনি। এটা এই ১৯৯০ পরবর্তী গজিয়ে ওঠা ভোগবাদীদের কাজ। এর পুরোটা মোড়া আছে পুঁজিবাদে। এই ইলিশখোর বাঙাল পরিচয়ে পরিচিতরা সুযোগ পাইলে দেশটারে গিলে ফেলবে।
৩।
সারা বছর ইংরেজি , হিন্দিগিরি করে একদিন বাঙালি সাজা হে , ইলিশপন্থী-দেশের পন্য ব্যবহার করেন তো?সিমটা টেলিটক?পেস্ট কি হোয়াইট প্লাস?ফ্রিজ মোবাইল কি ওয়াল্টন? পিঁয়াজ মরিজ কি দেশী?চ্যানেল কি সেটম্যাক্স, জলসা, স্টার প্লাস ছাড়তে পারছেন? পারছেন লুঙ্গীকে জাতীয় পোশাক করে গর্ব করতে? আপনারে সারা বছর ম্যাঁৎকার করতে দেখছি সাম্রাজ্যবাদীদের অস্ত্র গ্লোবালাইজেশনের পক্ষে। সেই আপনি একটি জাতীয়তাবাদী ইস্যুতে প্যাঁকপ্যাঁক করছেন কেন? কারণ সরল।এই খানে ভোগ আছে?হাহা। অতএব, ইলিশ খেয়ে বাঙালিগিরি বাদ দেন।
৪।
বাঙালি পান্তা কখনো শখে খায় নাই। ওর সাথে বাঙালির অর্থনীতি জড়িত। ভাতে পানি দিলে শুধু লবনকেই তরকারী হিসেবে ব্যবহার করা যায়।মসলা দিয়ে, কানে এয়ারফোন দিয়ে, বিশ্বায়নের বিষ খাওয়া হে নব্য বাঙালি, বাঙালির জীবন সোজাসাপ্টা। যে বাঙালি সে ১২ মাস বাঙালি। একদিনের না। একদিন বাঙালি ছিলাম রে গাওয়ার তার টাইম নাই। এই সব ফূর্তি করারও নেই। সারা বছর জিনসন্স পরে , সানি লিওন পরে -একদিন শাড়ি পরে বাঙালি নারীর সাথে ফাইজলামি করেন? আপনাদের ক্যাপিট্যালিস্ট ভোগবাদটায় এইটার জরুরী দরকার, না? ইলিশগিরিতে আসলে সংষ্কৃতি বা ঐতিহ্য কিছুই নেই। কারণ এই কয় মাস আগে থার্টিফার্স্ট নাইটে আপনার কোমরের স্পিন যাদুতে পতন হয়েছিল বাঙালির সবকটি উইকেট। আমি ভুলি নাই।আমরা ভুলি নাই। আপনি তো মনে হয় আজ ১২ টার পরে বাংলা ১৪২৩ এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন , ঠিক না?
৫।
আমি এখনো অনার্য বাঙালি হিসেবে গর্ব করি। আমার ইলিশ কিংবা শোভাযাত্রা করে দেখাতে হয়না আমি বাঙালি। আমি কাজে বিশ্বাসী। আমি বাংলােদেশের পণ্য ব্যবহার ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা দিয়ে মাপি কে বাঙালি আর কে শালা ভন্ড, সংকর বাংলাদেশী বাঙালি। হাহাহ। যদি বাঙালি হতেই এত ইচ্ছা থাকতো, হিন্দিতে স্ট্যাটাসগিরি করতে না, ইংরেজির প্রতি ঐ পরিমাণ দূর্বল খাকতে না।ছেলেমেয়ে ইংলিশ মিডিয়ামে না? কথায় কথায় ফালতু একটা দুইটা ইংরেজি বলে স্মার্ট হওয়া পাবলিক না আপনারা? এ্ যে সেই প্রজন্ম যারা, গণমাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষক শ্রমিককে তুলে ধরেনা। অথচ পহেলা বৈশাখের কাঁধে বন্দুক রেখে ব্যবসা করে খায়। ফ্রিজ কি খালি হয়েছে জমানোর জন্য বাকি ইলিশ?আপনি তো সেই ইলিশে লালায়িত ভোগবাদী কথিত বাঙালি যে মনে রাখেন ১৪ এপ্রির হচ্ছে , পহেলা বৈশাখ!বাংলা নববর্ষ! সীমাহীন অবাঙালিপনা করে বাঙালি সাজা হে প্রজাতী,
পারলে এবার সত্যিই বাংলাদেশী বাঙালি হ।
১৩ এপ্রিল, ২০১৬।
