শরিয়ত বয়াতির বয়ানের পুনর্পাঠ ও প্রতিবয়ান
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
শরিয়ত বয়াতির বয়ানের পুনর্পাঠ ও প্রতিবয়ান
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
খুব মনোযোগ দিয়ে আবারো শরিয়ত বয়াতির 'খেউড়' বয়ান শুনলাম। উপস্থাপনা, বয়ান, যুক্তি সবই খেউড়ের মতই তো ঠিক আছে! ওহাবী-গোঁড়া-অন্ধদের দল খেউড় কী তা জানেনা। এটি কবিগানের বা বয়াতিদের তর্ক বিতর্কের চূড়ান্ত রূপের সংগীত সংস্করণ। আলেমদের বাহাস বা বহাসের কাছাকাছি আর কী! বয়াতিগণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষিত নয় বলে প্রচলিত উপস্থাপনে হয়তো সামান্য ত্রুটি ছিল, কিন্তু মারেফতি ধারার যে বয়ান তিনি দিলেন তা হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলের চিশতিয়া, খাজা, মাইজভান্ডারি, বাউল-ফকির-বয়াতিরা দিয়ে আসছে। ইংরেজি শিক্ষিত মুসলমান বা মোল্লারা 'বিদায়াতি' মোবাইল-ইউটিউব আসার আগে এই খবর জানতোনা এতো ব্যাপকভাবে, হয়তো আন্দাজে ফতোয়ার উপর চলতো যে 'গান মানেই হারাম'! কিন্তু কী গান, কীসের গান তা নিয়ে গবেষণা করেনি তারা। তারা কিতাবের চেয়ে নিজ উস্তাদের বয়ানে বেশি গুরুত্ব দিলে তা উস্তাদ ভক্তি হলেও মুরিদরা পীর-মুর্শিদকে বা শিষ্য বয়াতি-গুরুকে বিশ্বাস করলে, ভক্তি করলে তা 'হারাম'! নিষিদ্ধ! নিষিদ্ধের রাজনৈতিক অর্থনীতি কী? দুজনেই বয়ান দেয়, একজন কেন আরেকজনকে নিষিদ্ধ কয়?
২)
শরিয়ত বয়াতি কি 'গান' বলতে হিন্দি-ইংরেজি-বাংলা-তামিল-আরবী অশ্লীল গান ও উচ্চশব্দের বাজনা বুঝিয়েছেন? আরে না, শরিয়ত সরকার 'গান' বলতে মুর্শিদী, মারেফতি, মাইজভান্ডারি, কবিগান ইত্যাদি বুঝিয়েছেন। তাহেরীর গান শুনেননি? ' মদিনারও ভিসা আমায় দে...' কিংবা মাতাল রাজ্জাকের, ' আলেম গেছে জালেম হইয়া / কোরআন পড়ে চণ্ডালে (কট্টর বা বদমেজাজী)/ সতী সাধ্বীর ভাত জোটেনা/ সোনার হার বেশ্যার গলে', কিংবা হাছন রাজার '...কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যেরও মাজার', বা লালনের ' জাত গেলো জাত গেলো বলে এ কী আজব কারখানা'?, কিংবা গজল 'মদীনার বুলবুল নবী রাসূল আল্লাহ', 'ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ ' ইত্যাদি। শরিয়ত বয়াতি মূলত সংগীতের এই ধারার কথাই বলেছেন।
এর সঙ্গে 'আমার বাবা আল হাছানি যার কাছে মারফতের খনি', কিংবা ' দিল্লিতে নিজাম উদ্দিন আউলিয়া', কিংবা '... ছেড়ে দে নৌকা আমি যাবো মদিনা', কিংবা মা-খালাদের গীত ' আগে যদি জানতাম রে ময়না', ছাড়াও কাওয়ালি-গজল-নাশিদ ইত্যাদি পড়ে বয়াতিদের সংজ্ঞায়িত গানের আওতায়। কোনো বয়াতিকে ভয়াবহ কানফাটানো বাজনার হিন্দিইংরেজিবাংলা অশ্লীল গানে নাচতে দেখেছেন? মহানবী (স) যখন হিজরত করে মক্কা থেকে মদীনা গেলেন তখন মদীনার কিশোর-কিশোরীদের সেই অপার্থিব সুর, ' তালা আল বাদরু আলাইনা' ও গান। বয়াতি নেহা কাক্কারের সাকি বা মিলার দোলা দে বোঝায়নিরে গণ্ডপাল! যে গান বুঝালে বয়াতি ৫০ লাখ টাকার চ্যালেঞ্জ দেয় সেই গানের অনুসন্ধান না মাদরাসা কখনো করেছে, না বাংলা একাডেমি বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়!
উপরের গানগুলোর কথা যে কিছুতেই অনৈসলামিক নয়, বরং কোন না কোনভাবে এর কথামালা ইসলামের সাম্যবাদী ও শান্তিবাদী দর্শনের উপর ভিত্তি করে রচিত এটা প্রমাণ করতে দেওবন্দ বা আল আযহার থেকে পড়ে আসার দরকার নাই।
৩)
এখন আসেন বাজনায়। ইসলামে বাদ্য একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়নি বলে অনেক মত রয়েছে। যুদ্ধের ডামাডোলে বাদ্য বেজেছে। আবার এক পাশে পর্দা দেয়া বাদ্য-বাজনা জায়েজ বলে সামি ইউসুফদের 'হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ' এর তালে গাইতে দেখবেন(অনেক গণ্ড হয়তো সামি ইউসুফকেই ইসলাম থেকে খারেজ করবে, কিন্তু সামি ইউসুফদের তাকওয়ার ধারেকাছে যাওয়ার যোগ্যতাও এদের নাই), আরবী ইসলামী গানে প্রচুর এই একপাশে পর্দা দেয়া হাতে তবলা দেখতে পাবেন। আমাদের দেশের এক তারা দোতারায় সমস্যা হলেও আরবে গিয়ে এর বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়ার মুরদ কিন্তু বয়াতিকে ইসলাম থেকে খারেজ করাদের নেই। ট্টাম্পকে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও ঢোলের তালে নেচে স্বাগত জানানো ওহাবীদের ব্যাপারে আমাদের দেশীয় সংস্করণের ওহাবীরা একেবারে মুখে কুলুপ আঁটে! এ এক ঐতিহাসিক নীরবতা।
৪)
বয়াতি খেউড়ের বক্তব্যে এইসব 'অন্যকে' কাফের বলতে এক পায়ে খাড়া ওহাবীদের চ্যালেঞ্জ করেছেন। চ্যালেঞ্জ না নিয়ে বয়াতিরে মামলা দিলো! আচ্ছা আমাদের কথিত মওলানারা যে ওয়াজকে 'বয়ান' বলেন, এরা জানে 'বয়ান' শব্দের উৎপত্তি? হ্যাঁ, বয়াতিরা যা সুরের তালে তালে বলেন সেটাই বয়ান। বয়ান ঐ বয়াতিদের থেকেই এসেছে। আর বয়ান শুনার জন্য মারেফতি, চিশতিয়া, খাজা বাবা, মাইজভাণ্ডারীরা গুরু, বা পীর বা মুর্শিদ বা বাবার কাছে বায়াত হয়। বায়াত হওয়া মানুষগুলোই বয়াতী হয়ে বায়াতের দীক্ষা বয়ান করে প্রচার করে। সেই বয়াতীদের এভাবে অপদস্থ কীভাবে কথিত আলেম করে? কীভাবে থানায় মামলা নেয়? কীভাবে বিচারক তাকে রিমান্ডে নিতে রায় দেয়?
এই ভূখণ্ডে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের অত্যাচার থেকে শুদ্র-ডোমকে মুক্তি দিতে ইসলামের বাণী সাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে এই বয়ানকারী বক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিটি ওয়াজের বয়ান যে সুরারোপ করে দেয়া হয় তার কারণ সংগীত আমাদের হৃদয়ে রয়েছে। আযানের সুর কার না প্রাণ কাড়ে? পুঁথিও সুর দিয়ে পড়া হতো, এমন কী সেদিনো মক্তবে সুর দিয়ে শিখেছি। সেই সুরে কেন আপত্তি এতো রে ভাই?
৫)
বিসিএস দিতে খেউড়, টপ্পাগান মুখস্ত করা ভবিষ্যতে চাকর হতে বদ্ধপরিকর শিক্ষিত ভাইবোনেরা, হ্যাঁ, এই সেই খেউড়, কবিয়াল, কবিওয়ালা, বয়াতি! পুস্তক হতে মুখখানি উঠিয়ে আপনার ঐতিহ্য রক্ষা করুন। তাকে হেরে যেতে দিলে কাল আপনার বিসিএস ক্যাডারকেও হারাম ঘোষণা দেবে বয়াতি বিদ্বেষীরা। ইতোমধ্যে ব্যাংকের চাকরিকে হারাম বলার বয়ানের বেশ ছড়াছড়ি কিন্তু। তাই আমাদের বয়াতির মুক্তির জন্য কথা বলুন। এই অঞ্চলে ওহাবী গোঁড়ামী ও জঙ্গীবাদকে সাধারণ মানুষের নাগালে আসতে দেয়নি এই সূফি ঘরানোর ইসলাম। এদের সামাজিক-রাজনৈতিক গুরুত্বকে অস্বীকার করা মানে আপনার অস্তিত্বের প্রতি শ্লেষাত্মক দৃষ্টিপাত।
৬)
যাহোক, বয়াতির বক্তব্যের এক অংশে তিনি বলেছেন 'মাওলা' মানে প্রভু আর 'আনা' মানে 'আমাদের', মাওলানা মানে 'আমাদের প্রভু'! শরিয়ত বলেছেন যাকে তাকে কেন আমাদের প্রভু বানাচ্ছি আমরা? কোথায় আঘাত করেছে একজন অপ্রচলিত শিক্ষার গুরু বয়াতি, সেটি আপনি ধরতে না পারলে আপনি বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটে বা ঘাটতিতে আছেন। এই প্রশ্ন তুলুন। ইহুদীরা তাওরাত বাদ দিয়ে তাদের রাবাইদের মাথায় তুলে নাচতো বলে আল্লাহ এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। আপনার ঘরের দিকে চেয়েছেন মুসল্লি?
বয়াতি বলেছেন নবী মুহাম্মদ (স), তাঁর সাহাবী (রা) ও তাবে তাবেঈন (র) হজ্জ্ব করেছেন কিন্তু তাদের কারো নামের পাশেই তো 'হাজী' বা 'আলহাজ্ব' লেখা হয়নি। এখন কেন এই রিয়া বা লোক দেখানো কাজ? এই প্রশ্ন যৌক্তিক প্রশ্ন।
৭)
আমাদের বয়াতি, টাঙ্গাইলের শরীয়ত সরকার, তিনি বলেছেন, মহানবী স ছাড়া আর কেউ 'হুজুর' কীভাবে হয়? তাঁর এই বয়ানে মহানবী (স) কে মহান মনে করা হচ্ছে এবং মহানবীর (স) টাইটেল তিনি যদুমধুরে দিতে রাজি নন। তিনি যারে তারে 'হুজুর' বলে 'হুজুরে পাক (স)' কে অশ্রদ্ধা করতে চান না।
বয়াতি মনে করেন, মহানবী (স) মাটির তৈরি নন। তার এ মত কট্টর অনেক মূলধারার সুন্নীরাও বিশ্বাস করে। সমস্যা বেঁধেছে তিনি মহানবী (স) এর ঐশরিক অস্তিত্ব এবং আল্লাহকে মিশিয়ে দুর্বলভাবে উপস্থাপন করার কারণে। আহাদ ও আউয়ালের সম্মিলন নিয়ে অতি উঁচুমানের দর্শন রয়েছে আব্দুল কাদের জিলানী, ইমাম গাজ্জালী, নিজাম উদ্দিন, মঈনুদ্দিন প্রমুখ বুজর্গদের যুক্ত করে। এই নূর ও সিলসালার দর্শন আরব, তুর্কি ও ইরানের সুফিবাদী ধারা থেকে এসেছে। বয়াতিরা বাংলায় এর প্রচারক। সবাই সৃষ্টি ও স্রষ্টার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বুঝতে বা বোঝাতে পারেনা বলে গুরুবাদী বা পীরবাদী বা খাজা বা মুর্শিদ ধরে শিক্ষার বা প্রচারের প্রচলন হয়।
যে অনেক কথা এরা বলে তার কিছু কিন্তু হার্ডলাইনের সুন্নীরা অহরহ বলেন, যেমন, 'আল্লাহ এতো বড় যে সাত আসমান জমিনে তাঁকে ধরেনা, কিন্তু মুমীনের ক্বলবে স্থান নেন', কিংবা 'মনোযোগ দিয়ে নামাজ পড়লে স্রষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায়', 'ইবাদতের মাধ্যমে মহান মাবূদের সঙ্গে প্রেম' ইত্যাদি। তাদের প্রেজেন্টেশন তাদেরকে সেইফ জোনে রাখে। আর প্রচলিত উপস্থাপনে পিছিয়ে পড়া বাউল-মুর্শিদ-ফকির-বয়াতিরা উপস্থাপনের কারণে এদের দ্বারা তিরস্কৃত হয়।
৮)
এই জটিল দার্শনিক অবস্থান নিয়ে আমাদের একাডেমিক অঙ্গনে না আছে কাজ, না আছে প্রতিবয়ান। এরা আরেক পশ্চিমপূজারী উপদল। ইসলাম, শরীয়ত, মারেফত নিয়ে এরা কথা তোলাকেই জ্ঞানের শাখা থেকে বাদ দিয়েছে। অথচ ইসলাম হচ্ছে সব দর্শনের বাপ। কথার কথা না। ইসলাম নিয়ে ঘাঁটুন, দার্শনিক সত্তা দিয়ে একে পাঠ করুন। এর প্রতি পদে দর্শন, প্রতি পদে মান্তেক, যুক্তি!
ইসলাম সর্বপ্রথম অসত্য, অবিচার, অত্যাচারী প্রাতিষ্ঠানিকতাকে নাকচ করা শিখিয়েছে। 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু'- নাই ইলাহা বা প্রভু, আল্লাহ ছাড়া'! এই এন্টি এস্টাবলিশমেন্টের সুশিক্ষিত সন্তানদের দীক্ষা নিয়ে আপনার ইউরোপের রেঁনেসা হয়েছে! আপনি অনুবাদ করে সেই রেঁনেসা দুই লাইন পড়ে ইসলামকে বাতিল করতে আসেন! কী হাস্যকর!
যাহোক, কথা এক ডাল থেকে আরেক ডালে চলে যায়। দর্শন চিরকাল এভাবে জ্ঞানের নতুন নতুন দুয়ার খুলে দেয়।
৯)
লালনের ' বাড়ির পাশে আরশিনগর' গানটিতে তিনি একটু বলতে গেলেও খোলামেলা এই 'রূহ' বিষয়ে বলতে সাহস পাননি। কারণ এই সংবেদনশীল বিষয়ে বলতে গেলে যে উপস্থাপনসক্ষমতা লাগে তা সচরাচর মানুষের হয়না। মহানবী (স) মেরাজে গিয়ে জিব্রাইল (আ) কে রেখে মহান আল্লাহর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। প্রকৃত বর্ণনায় জিব্রাইল (আ) এর আর সাধ্য ছিলনা মহান আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার। এই যে মহান আল্লাহ ও মুহাম্মাদ (স) এর নির্জন সাক্ষাৎ এটি নিয়েই এই জটিল দর্শন। একে ঠেকাতেই অনেক হাদিস জাল বা মিথ্যা বলতে এসেছে ওহাবী ও অন্যান্য মারেফত বিরোধী আলেমরা ।
যদিও আমি এর সঙ্গে মোটেই একমত নই। কারণ অজস্রবার বাস্তবে, কাজে, কথায় মহানবী (স) প্রমাণ করেছেন এবং আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি আমাদেরই একজন। তবে মহান আল্লাহর প্রিয়ভাজন।
১০)
বয়াতি মুয়াজ্জিন আজান দেন, আজানে সুর আছে এটা হয়তো বলতে চেয়েছেন, কিন্তু তিনি কিছু টাকার মুয়াজ্জিন বলে অর্থ-শ্রেণিবৈষম্যের ফাঁদে পড়েছেন। এটা হয়তো তার ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে হতে পারে।
বয়াতি আমাদের সমাজের আলেমদের অতিখাতির করে খাওয়ানোর সমালোচনা করেছেন। এদের মারেফাত বা বয়ানে 'নাউজুবিল্লাহ বা হারাম' চললেও দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, সুদখোর দের বাড়িতে দাওয়াত, মিলাদ, সবিনা খাতম, কুলখানিতে 'হারাম বা নাউজুবিল্লাহ' উধাও হয়ে যায়।
সমাজের সবচেয়ে বড় বড় চোর, বাটপার, ঘুষখোর, সুদখোর, দালাল, দুর্নীতিবাজ, লোপাটকারী তাদের যাবতীয় অবৈধ ও হারাম অর্থকে 'বৈধ' করতে মসজিদ-মাদরাসায় সামান্য কিছু দান করে। তা পেয়ে খুশিতে বাকবাকুম হয়ে 'হারাম বা নাউজুবিল্লাহ ' উচ্চারণ করতে ভুলে যান আমাদের আধ্যাত্মিক ঠিকাদারিত্ব হাতে নেয়া বহু দায়িত্বপ্রাপ্ত। এদের বিরুদ্ধে বহু আগে থেকে বয়াতিদের বয়ান। আজ আপনার কানে লাগলো? তাও বয়াতির বয়ানকে নেতিবাচক ধরে নিয়ে? আপনার জন্য করুনা।
বাকি থাকলো দাউদ (আ) বয়াতি ছিলেন কী না। যিনি বয়ান করেন তিনিই তো বয়াতি। দাউদ নবীও বয়ান করেই ইসলাম প্রচার করেছেন। মূসা আ বয়ানের জন্য ভাই সুভাষী হারুনকে বেছে নিয়েছেন। এই অর্থে বয়াতি বলেছেন বয়াতি শরিয়ত সরকার। ঐ যে বললাম, প্রেজেন্টেশন! প্রেজেন্টেশনে মাইর খেয়েছেন তিনি। আবার আমাদের গুজবপ্রিয়রা পুরো ভিডিও না দেখেশুনে আরেকজনের কাছে শুনে তারে গালিগালাজ করছে। খোঁজ নিলে দেখা যেতে পারে, বয়াতির মতই মওলানাদের ব্যাপারে তাদের ধারণা! দাউদ (আ) বাঁশি বাজানোর ব্যাপারে ঐতিহাসিক কোনো দলিল নাই। এ নিয়ে কোনো পক্ষই অকাট্য দলিল দিতে পারবেনা।
১১)
আমি বলছিনা একজন শরিয়ত বয়াতি নিষ্পাপ, ফুলের মত। মানুষ হিসেবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স) ছাড়া আর কেউ ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। এ কারণেই ক্ষমাকে বলা হয় মহত্ত্ব। আমাদের দেশের আলেম সমাজের প্রতি অনুরোধ যারা একটু ভিন্নভাবে আল্লাহ ও রাসূলকে ভালবাসে তাদের আপনার উদারতা দিয়ে ক্ষমা করুন। বয়াতিকে ক্ষমা করে রিমান্ড থেকে নিয়ে আসুন। তাকে মুক্তি দিতে সহায়তা করুন। বয়াতি জেলে থাকলে ইসলামকে অনেকে নেতিবাচকভাবে কাভারেজ দেবে অথচ বয়াতিও ইসলামেরই ভিন্ন তরীকার খেদমতকারী। শরিয়াত বয়াতির মুক্তির দাবি তুলুন।
আর চোখ দিন আসিফ মহিউদ্দিনের মত অর্ধশিক্ষিত ব্যভিচারীদের দিকে যারা আপনার নবী, রাসূল ও মহান আল্লাহ পাককে গালিগালাজ করছে নাস্তিকতার কাঁধে বন্দুক রেখে। ইসলাম বিদ্বেষকে নাস্তিকতা হিসেবে প্রচার করছে। আরিফুর, আসিফ, তসলিমার মত গোমড়ামুখো ঘৃণাজীবীদের অযোক্তিক ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
আরো পড়াশোনা করুন। পরমত সহিষ্ণু হন। পরধর্মকে শ্রদ্ধা করুন। ইসলাম অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, গোঁয়ার্তুমি, গোঁড়ামী বা গোমরাহী কোনটার মাধ্যমে পৃথিবীকে জয় করেনি। ইসলাম জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধৈর্য, একতা, সহিষ্ণুতা, নৈতিকতা, ক্ষমা ও উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে শান্তির সুবার্তা সারা পৃথিবীতে এতো দ্রুত ছড়িয়ে দিয়েছে এবং এ কারণেই ইসলাম প্রায় ১৫০০ বছর পরেও অনুসারীর দিক দিয়ে এ দুনিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ধর্ম।
সেই শান্তির ধর্মের শান্তির বাণী আমাদের সবার উত্তাল-অশান্ত-ক্ষমাহীন-নির্দয় হৃদয়কে শান্তির পরশে শান্ত করুক। শান্তির জয় হোক।
0 Comments