সর্বশেষ

করোনা ভাইরাস : পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ, কিছু কথা, কিছু ব্যথা

করোনা-এ মরোনা
~~~~~~~~~~
যে দেশের রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, এমপি, বিরোধী দলীয় নেত্রী, পাতি নেতা, পাতি আমলা, রক্তচোষা ব্যবসায়ী, অভিনেত্রী-অভিনেতা, সচিব প্রমুখ সামান্য হাঁচি দিলেও বেহায়ার মতো ভারতের বা সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে দৌড়ায় সেই দেশে করোনা ভাইরাসে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা বন্ধ হয়না এর চেয়ে প্রহসন আর কী হতে পারে? এই মরণঘাতী ভাইরাসে সতর্ক হওয়ার গুরুত্বটাই এদেশের নীতিনির্ধারকরা হয়তো বুঝতেছেন না। ১৪-১৫ দিন পরীক্ষামূলকভাবে বন্ধ করে নতুন আক্রান্ত হচ্ছে কী না পর্যবেক্ষণ করা যেতো। বিদেশ ফেরতদের জন্য একটি পৃথক কোয়ারেন্টাইনযুক্ত হাসপাতাল তা অস্থায়ী হলেও করা যেতো। কিন্তু এসব নিয়ে মাথাব্যথাই নাই। 

মক্কা শরীফ, মদিনা শরীফের মত ধর্মীয় সংবেদনশীল জায়গা পর্যন্ত খাঁ খাঁ করছে মানবহীন, হজ্ব উমরা আপাতত স্থগিত, আর আমাদের বিরাট হনুদের এ নিয়ে ভাবনা নাই। ট্রুডোর স্ত্রী বা ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও ছাড়ছেনা, আর আমাদের বড় মিয়ারা আরামে বসে বসে বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছেন, অথচ থার্মাল স্ক্যানার  মেশিন নষ্ট বা পর্যাপ্ত নাই। 

তো এই যে, পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জনপদের স্কুল, কলেজ, হাট বাজার বন্ধ করে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হচ্ছেনা; এরপর করোনা এই জনপদকে নিশ্চিহ্ন করতে ধেয়ে আসলে এর দায় কে নেবে? নগর পুড়লে দেবালয় রক্ষা পায়না, এই কথা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলে স্মরণে থাকেনা, কিন্তু ভাবতে হয়।

বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক দার্শনিকদের একজন স্লাভোয় জিজেক। এ মাসের শুরতে রাশিয়া টুডে-তে লেখা এক নিবন্ধে তিনি এক পরিচিত মানুষকে উদ্ধৃত করে একটি দারুন কথা বলেছেন। জিজেক যা ইংরেজিতে লিখেছেন তার বাংলা করেছি আমি এভাবে,
" যখন ক্ষমতাসীন কেউ বা ক্ষমতাকাঠামোর কোন প্রতিষ্ঠান বা ক্ষমতাপন্থী গণমাধ্যম কিংবা রাষ্ট্র বিদ্যমান কোনো পরিস্থিতিতে জনগণকে বলবে "আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই", তখন আপনি নিশ্চিতভাবে জানবেন, আতঙ্কিত হওয়ার অনেক কিছু আছে এবং এ আতঙ্ক থেকে নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চেষ্টা করবেন।"

অতএব, এই মীরজাদী পিরজাদী সেব্রিনা ফেব্রিনার ফ্যাব্রিকেসনকে বিশ্বাস করবেন না। আজ চিহ্নিত হয়ে কাল নিরাময় করা এসব সেব্রিনাকে বাতিল করে নিজের ও নিজের পরিবার-সমাজের নিরাপত্তায় সচেতন হউন। ঘরে থাকুন, হাত ধুতে থাকুন আর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

আমার পরিচিত-অপরিচিত সকলের কাছে বিনিত অনুরোধ, সবাই নিজে নিজে আত্মগোপনে চলে যান। প্রতিটি ঘরকে কোয়ারেন্টাইন বানিয়ে ফেলুন। কোয়ারেন্টাইন মানে বাইরের ও ভেতরের সব ধরনের যোগাযোগ, স্পর্শ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। বাজার- ঘাটে কম যান। ভাইরাসটির প্রতিষেধক আসার আগ পর্যন্ত আপনি অন্তত খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ার উপাদান বাজার করে ঘরে রাখুন, ঘরে থাকুন। মুড়ি ও অন্যান্য শুকনো খাবারও সঙ্গে রাখতে পারেন। আপনার জীবন আপনাকেই বাঁচাতে হবে। 

মনে রাখবেন, আপনি আক্রান্ত হলে রাষ্ট্র আপনার দায় নেবেনা, আপনাকেই আপনার সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। আপনার সন্তানকে জমায়েত থেকে দূরে রাখুন। 

মানবজাতির ইতিহাসে এই ধরনের বিশ্বমহামারী আগে কোনকালেও আসেনি। ইতিহাস তা বলেনা। এর আগে কোনো একটি জনপদ বা রাষ্ট্র বা জাতি হয়তো আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে পুরো পৃথিবীর সকল জাতির মহাদুশ্চিন্তার কারণ হয়ে আসা করোনা ভাইরাস নিয়ে তাই হেলাফেলা করা মহাভুল হবে। এ ভুলের ক্ষতিপূরণ কোনো কিছু দিয়ে পূরণ হবেনা।

পণ্য বেচার বিশ্বায়নের চটকদার দেয়াল ভেঙে পড়ছে, পুঁজিবাদের দেহ থেকে স্বার্থপরতা খসে পড়ছে, জাতীয়তাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটি আরো ক্ষুদ্র আকারে আমাদের গোত্র ও পরিবারকেন্দ্রীক করবে। তাই মানবজাতির সামষ্টিক স্বার্থেই এখন বিচ্ছিন্ন হতে হবে পরস্পরের থেকে। কারণ দম ফুরালেই তো ঠুশ!

ঠুশ হওয়ার আগেই ফিরে আসুক আমাদের সকলের হুঁশ! নিজে ও অন্যকে বাঁচাতে করোনার এই ভয়াবহ দিনগুলোতে একা থাকতে কেউ ভুল কোরোনা...! যে ভুল আর কোনোদিন শুধরানোর সুযোগ দেয়না সেই ভুল ভুলেও করতে হয়না। যেই ভুলে ঝরে পড়ে জীবনফুল সেই ভুলকে প্রতিরোধ করতে হয়, আগে আগে, অনেক বেশি সতর্ক হয়ে! সেই ভুল করতে হয়না! সেই ভুল মহামারী করোনায় কোরোনা, কোরোনা, কোরোনা...!
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments