সর্বশেষ

করোনা পরবর্তী সময়ে চীনের বিশ্ব নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা কতটুকু?

চীনের বিশ্বনেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা কতটুকু?
~~~~~~~~~
করোনো পরবর্তী সময়ে চীনের বিশ্বনেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা কতটুকু?
~~~~~~~~~
অর্ধশিক্ষিত কনস্পিরেসি থিওরিভিত্তিক  বয়ান দিচ্ছেন কেউ কেউ, যে চীন নয়াবিশ্বের হর্তাকর্তা হবে ইত্যাদি! আমার মতে, চীন যা একটু বিশ্বায়নের সুযোগে দরিদ্র দশা থেকে উপরে উঠতেছিলো তাও গোল্লায় যাচ্ছে করোনায়। দুনিয়ার কোনো দেশের সঙ্গে এর অর্থনৈতিক যোগাযোগ নাই এখন। আর পশ্চিমা মিডিয়া ও থিংক ট্যাংক এরে কোথায় নেয় তাই দেখেন আগে। চীনের অর্থনীতি করোনার পর ফকিন্নি দশা থেকে উঠতে কয় দশক লাগে আগে তাই নিয়ে ভাবেন। 

এমনিতেই করোনার আগে চীনের মুদ্রার মান অতোটা শক্তিশালী ছিলোনা, তাই কারেন্সি ম্যানুপুলেশন করতো নকলে উস্তাদ চাইনিজ জাত৷ আর এখন চীনের সঙ্গে কোনো দেশেরই বাণিজ্যিক সম্পর্ক নাই। কারখানায় গেলে কী হবে? বেচার জায়গায় লাগবেনা? বেচার জায়গা পাবেনা চীন! এইটাই তার করুণ দশার জন্য দায়ি হবে।

আর বিশ্ব নেতৃত্বে আসতে হলে সেই দেশ আর জাতিকে তার সংস্কৃতি, শিক্ষা, ভাষা ও শাসনব্যবস্থাকে অন্য দেশ ও জাতির কাছে মানদণ্ড হিসেবে হাজির করতে হয়। চীন সেটি পেরেছে? এদের ভাষা কয়জন জানে? এদের সংস্কৃতি কয়জনের কাছে প্রিয়? কে গায় এদের গান? এদের চলচ্চিত্র বিশ্বকে একযোগে নাড়া দেয়? এদের গণমাধ্যম বিশ্ব চেনে বা বিশ্বাস করে? এদের পপ সেলেব্রেটিদের কে চেনে? এদের চেয়ে কোরিয়ান সিনেমা ও নায়কদের বেশি পরিচিতি। এদের দেশে বাংলাদেশসহ কিছু দেশ থেকে স্কোলারশিপ দিয়ে কিছু লোক নিয়ে 'চীনা দালালী প্রভাববলয়' তৈরি করছে, কিন্তু আধিপত্যবাদী অন্যান্য দেশ থেকে এরা কজনকে পাচ্ছে? আর চীনের এই নিপীড়ক 'এক দেশ, এক জাতি, এক দল' নীতি আর কোনো জাতির কাছেই তো গ্রহণযোগ্যতা পায়নি! সবাই বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও বহুদলীয় রাজনীতি চর্চা করে। আর চীন ভিন্নমত পেলেই তার উপর অত্যাচার শুরু করে। 

এসব সাংস্কৃতিক আর রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত না করে কয়টা সস্তা খেলনা বেচে, ফোন কম্পিউটার এসেম্বল করে, নিজেরা উইচ্যাটে ঘুইঘুই করে বিশ্ব নেতা হওয়া যায়না। নেতা হতে হলে সাংস্কৃতিক আধিপত্য জরুরি যা চীনের একদমই নাই। 

আবার, ইতিহাস থেকে দেখবেন, বহিঃশক্তির সঙ্গে যুদ্ধে এতো বড় চীন দাঁড়াতেই পারেনা। ১৯৬২ এর যুদ্ধে ভারতের ভুলে একটু সুবিধা পেলেও এরা জীবনেও বড় কোনো যুদ্ধে জিততে পারেনি। সেই ইউরোপ থেকে এসে কয়েকশ ব্রিটিশ এদের কোটি কোটি মানুষকে হারিয়ে হংকং শাসন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছোট্ট জাপান এই বিশাল আকারের ঘাসী চীনকে দখল করে নিয়ে দাস বানিয়েছিলো।

 অতীতকাল থেকেই চীনারা রক্ষণশীল আর স্বার্থপর। এ কারণে মহাপ্রাচীর বানিয়ে একা সংসার করছে। তো এরকম নিজে নিজে খাই খাই জাত কোনোকালে দুনিয়ার নেতৃত্বে আসতে পারবে? নেতৃত্ব মানে ত্যাগ ও ছাড় দেয়া। যে নেতৃত্বে আসতে চায় তাকে ছাড় দিতে হয়, অন্যের কথা শুনতে হয়, অন্যকে বলতে দিতে হয়। চীন হচ্ছে জঘন্য কর্তৃত্ববাদী নিপীড়ক রাষ্ট্র। এরা জনগণের জন্য তথ্যের অবাধ প্রবাহে পর্যন্ত অবিশ্বাসী। এখানকার কমিউনিস্ট খচ্চরগুলো মানুষের বিশ্বাস ও আবেগকে মূল্যায়ন করেনা। তাদের সব কাজের উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন, আর এ মুনাফা বাটোয়ারা করে দেবে কমিউনিস্ট পার্টি! এ কারণে মানবাধিকার, সহানুভূতি ইত্যাদি ইস্যুতে চীনকে আমরা কখোনোই সক্রিয় দেখিনা। চীন যদি নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখতো রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন সমর্থন করতোনা, বেহায়ার মতো রোহিঙ্গাদের ঘরপোড়া ভিটেমাটিতে কারখানা বানাতোনা, উইঘুরদের অত্যাচার চালাতোনা! আবার অনেক দেশের বিপদ সহায়তা না করে তাকে ঋণের জালে বন্দি করে তার বন্দর (শ্রীলঙ্কা)  লিখে নিচ্ছে, তার কাছ থেকে ঘাঁটি করার জায়গা (জিবুতি) তাকে বিপদে ফেলে লিখে নিচ্ছে! মানে এক রক্তচোষা সুদখোর দাদন ব্যবসায়ীর রাষ্ট্রীয় রূপ শি চিন পিংয়ের চীন। 

এই মুনাফালোভী সংকীর্ণ ছ্যাঁচড়া মানসিকতা দিয়ে কিছুতেই বৈশ্বিক নেতৃত্ব পাওয়া যায়না। চীনের মত খচ্চর মুদি দোকানী তাই নেতা হতে পারবেনা৷ এসব সংকীর্ণতা না ছাড়লে, এটাই আমার অনুসিদ্ধান্ত।  যাহোক, এসব আমি বলছি, কারণ চীনকে নিয়ে কিছু লোকের অতিমাত্রায় লাফালাফি চোখে পড়ছে। এরা বোঝেনা, দুনিয়ার মানুষ চীনে যাইতো সস্তা কাঁচামাল আর সস্তা শ্রমের কারণে। এ ছাড়া এদের কিছুই নাই। পাশাপাশি কয়েকটি দেশের পণ্য থাকলে কোনটি টেকসই এই প্রশ্নে স্বল্পবুদ্ধির কেউও বলবেনা 'চীনা পণ্য টেকসই'। 

তারমানে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে যে ইতিবাচক মনস্তত্ত্ব জন্ম দিতে হয় তা চীনের নাই---সে অর্থনৈতিক হোক, মানবিক হোক বা নেতৃত্বের গুণাবলিতে হোক! অতএব, এসব চৈনিক গাল্পগল্প বাদ দিয়ে চাইনিজ ভাইরাস ছড়ানোর দায়ে চীনাদের তুলোধুনো করুন। ইতোমধ্যে স্পেন ও চেক প্রজাতন্ত্রকে দেয়া চাইনিজ কিট অকার্যকর ও নিম্নমানের তা প্রমাণ হয়েছে। তাই এদের কিটের ব্যাপারে আমাদেরও বিগলিত হওয়ার কিছু নাই।

এরা লোক দেখাতে কিছু কিট দান করবে, কিন্তু কিট বানানোর কাঁচামাল দেবেনা বা বেচবেনা, কারণ এতে আমাদের দেশ স্বনির্ভর হবে, তার ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে! এই রকম ছোটলোকের মানসিকতা নিয়ে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়া যায় না, কিছুতেই না...! তাই চায়নাকে দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষ চায় না! তাদের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনাও তাই দেখিনা!
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments