অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের উপর এই যে সাম্প্রদায়িক থাবা এ থেকে মুক্তি না মিললে জাতি হিসেবে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যাবে। কুমিল্লার মন্দিরে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ যে অপরাধীই রাখুক তার শাস্তি কামনা করি আমরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দোষীদের শাস্তি দিতে অঙ্গীকার করেছেন। তাই, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সনাতনধর্মীদের মণ্ডপ আক্রান্ত করেছে যারা তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই। কতগুলো প্রাণ ঝরে গেলো--কেবল সুবিবেচনাপ্রসূত কার্যক্রমের ঘাটতির কারণে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর সকল পক্ষের আস্থা রাখাই এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এনে দিতে পারে, এই মুহূর্তে। অন্যথায় বাংলাদেশের উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীদের প্রতিক্রিয়ার রাজনৈতিক ফায়দা লটুবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ধান্ধাবাজরা। পুরো উপমহাদেশে দুষ্টুরা ফের মানুষের পরিচয়কে সাম্প্রদায়িক পরিচয় দিয়ে পরাজিত করতে উৎসাহ পাবে। সচেতন মানুষ হিসেবে তা প্রতিহত করতে নিজ নিজ জায়গা থেকে আপনার ভূমিকা রাখতে হবে। ‘বিশ্বাসের রাজনীতি‘ করে ১৯৪৭ বা ১৯৪৬ এর দাঙ্গার সূত্রপাত করতে দেওয়া যাবেনা। বিশ্বাসকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
২।
ছোটবেলা থেকেই হিন্দু ও মুসলমানদের মিলেমিশে বাস করতে দেখেছি আমাদের উপজেলায়। হিন্দুপ্রধান অঞ্চলে আমাদের জমিজমা থাকায় ও আব্বার শিক্ষক কমিউনিটিতে হিন্দু শিক্ষকরা থাকার কারণে আমাদের পরিবারের সঙ্গে খুবই আত্মীক সম্পর্ক তাদের। আব্বাকে ভীষণ সম্মান করতেন সনাতনধর্মাবলম্বীরা। উৎসব আনন্দে পরস্পরের বাসা-বাড়িতে যাওয়া একেবারেই সাধারণ ব্যাপার ছিল। আব্বার সহকর্মী মনা রাণী মণ্ডল দিদিকে নিজের মেয়ে মনে করেই পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন আব্বা।
প্রাইমারি স্কুলে আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন বিদ্যুৎ কান্তি রায় স্যার। তার ভাই মৃণাল কান্তি স্যারকেও আমার ভালো লাগতো। বিদ্যুৎ স্যার আমাদের শিক্ষাকে যেভাবে আনন্দদায়িক করেছিলেন তা অনেক মুসলমান শিক্ষকই করতে পারেনি। এর মানে এই না মুসলমানদের মধ্যে ভালো শিক্ষক নেই। অবশ্যই রয়েছে। যেমন, ইউসুফ স্যার, বাবলু স্যার, ফিরোজ স্যার, নাসির স্যার, আশরাফ স্যার, হারুন-বজলু ভ্রাতৃদ্বয় স্যার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদ স্যার বা আদনান স্যার, মামুন স্যার প্রমুখ।
হাইস্কুলে বিশ্বজিৎ স্যার ছিলেন মজার মানুষ। ছিলেন কালিদাস স্যার। তিনি মাটির মানুষ ছিলেন। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে তিনি আমাদের বৃত্তি পাইয়েই ছেড়েছিলেন। কুলোপদ বা কালিপদ স্যারে কাছে অঙ্ক করেছি। এতো প্রখর জ্ঞানী আমি আজো কাউকে পাইনি। সুনীল স্যার ছিলেন মজার মানুষ। ছিলেন আমার প্রিয় শঙ্কর স্যার। শঙ্কর স্যারের মত এমন আন্তরিক ও বন্ধুবৎসল শিক্ষক যদি প্রতিটি স্কুলে থাকতো তবে অঙ্কভীতি দূর হতো সমাজ থেকে। প্রদীপ আর আমি স্যারের কাছে পড়তাম। স্যার এসএসসির আগে আমাকে বলেছিলেন, প্রদীপ হিন্দু হলেও আমার দৃষ্টিতে তোমরা সবাই সমান। এই যে মহান উদারতা এটিই তো বাংলাদেশ। ছিলেন ননী স্যার। ননী স্যারের কথা পরে বলছি।
আমার প্রাথমিক স্কুলের সেরা বন্ধুর নাম প্রদীপ। দুনিয়ার হ্যান কোন দুষ্টুমি নাই এ করেনি, কিন্তু ওর প্রতি আমার ভালোবাসা কমেনি। আমাদের বাড়িতে ওর আসা বা খাওয়া দাওয়া একই ঘরে, টেবিলে আমার পরিবারের সবাই খুবই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিল। বৈশাখী নামে খুব মিষ্টি একটা বান্ধবী ছিল আমার। বাবলী স্যার অকারণে মারলে এই মেয়েটিই এসে আমাকে সান্ত্বনা দিতো।
হাইস্কুলে নয়ন মণ্ডল, অশোক, বিজয়, রাজীব পাণ্ডে ছিল আমার কলিজার বন্ধু। নয়ন মণ্ডল আর আমার মধ্যে যে আন্তরিকতা তা অনেক মুসলমান বন্ধুদের সঙ্গে নেই, বা হয়নি বা থাকলেও তা কন্টিনিউ হয়নি। আমার পরিবারের একজনই ভাবা হয় নয়নকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপ আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। সুশান্ত হালদার দাদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক গভীর।
এভাবে সম্প্রীতির শিক্ষাটি প্রতিটি পরিবার ও ধর্মীয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালয় থেকে আসতে হয়। পরিবার বা ধর্মীয়-সামাজিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঘৃণা-হিংসা-অবজ্ঞাকে প্রশ্রয় দিতে হয়না। বাংলাদেশে সামাজীকীকরণের এই মৌলিক দিকটির ব্যাপক ঘাটতি। কীভাবে?
৩)
একেবারে ছোটবেলা থেকেই আমাদের সমাজে ’আস ভারসাস দেম’ এই শিক্ষাটি দেওয়া হয়। অর্থাৎ বিশ্বাসগতভাবে আমরা এক আর ওরা এক। দেশের এক নম্বর শিক্ষালয় নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটিতেই রয়েছে মুসলমান ও হিন্দুদের আলাদা হল! কী ভয়ানক বিভাজন এটি তা আজো কেউ ভাবতে পারেনি।
“কেবল কলেমা পড়ার কারণেই আমি উত্তম” এরকম একটি শিক্ষা দেওয়া হয় সমাজের অনেক অংশে। অথচ, কলেমা মুখস্ত করলাম কিন্তু তার উপর বিশ্বাস না করে ক্রমাগত খারাপ কাজ করে চললাম তাতে যে লাভ নেই--এ শিক্ষা দেওয়া হয়না। আপনি কলেমা পড়া, গরু খাওয়া পাবলিক এবং আপনি অন্যের সম্পদ চুরি করেন, ঘুষ খান, আমানতের খেয়ানত করেন, ব্যভিচার যিনা করেন, মিথ্যা বলেন, সুদ-ঘুষ খান এবং হরিপদকে আপনি ধর্মীয় নিমন্ত্রণ না করলেও সে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে এসব থেকে দূরে থাকেন, অথচ আপনি কেবল জন্মসূত্রে মুসলিম হওয়ায় তারচেয়ে উত্তম ভাবছেন নিজেকে! তাহলে স্রষ্টার কাছে আপনি কেবল গরু খেয়েই হক্ব নষ্টকারীর হওয়ার পরেও নিরেট সরল-সোজা মানুষের চেয়ে উত্তম হবেন--এটা ধর্ম ? এতো সোজা? না। এই যে বিশ্বাসগত শ্রেষ্ঠত্ব আমাদের মগজে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয় একে প্রশ্ন করার মত একটি সমাজ আমরা বিনির্মাণ করতে পারিনি।
ফলে, শত অন্যায় নিজে করার পরেও কেবল বিশ্বাসগত পার্থক্য থাকার কারণে, বা জন্মসূত্রে মুসলিম হওয়ায় অন্যের বিশ্বাসে বা অন্যকে ভৌতভাবে আঘাত-আক্রমণ করে বেহেশতে যাওয়ার শর্টকাট খোঁজে আমাদের সমাজের অনেকে, সবাই না (আমি বিশ্বাস করি এখনো বেশিরভাগ মানুষই উত্তম।)। যেন অপরকে আঘাত করলেই সওয়াব। অথচ, এটা চরম গুনাহের কাজ। পবিত্র কোরানের সুরা আনআমের ১০৮ নং আয়াতে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের উপাস্যদের কোনো ধরনের অবজ্ঞা-অপমান করতে বারণ করেছেন এবং ‘যার যার ধর্ম তার তার’ এ কথা তো আমরা সবাই জানিই। তাহলে কারা অন্যকে আঘাত করার এই জঘন্য নিয়ম চালু করলো? ইবনে তাইমিয়া ও ওহাবের গোঁড়া মতাদর্শ যারা ধারণ করে তারা এবং যারা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি করতে চায় তারা ও হতাশাগ্রস্ত শর্টকাটে বেহেশত তালাশ করা একটি গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীটিরই একটি শাখা মধ্যপ্রাচ্যে শিয়াদের কেবল আলী রা এর মাজারে গিয়ে ক্রন্দনের দায়ে হত্যা করাকে সওয়াব মনে করে। সেই ওহাবী আইএস খারেজী মতবাদ এই বাংলায় এভাবে কীভাবে, কারা ছড়িয়ে দিলো? এই উপমহাদেশে ইসলাম শান্তির বার্তা নিয়ে আসে বলেই দলে দলে সনাতন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিদ্যমান নিপীড়িত শ্রেণি এ ধর্মকে গ্রহণ করে। কারা সেই শান্তির ধর্মকে অসহিষ্ণুতা ও উগ্রতা দিয়ে কলঙ্কিত করছে?
৪) আমাদের শিক্ষক ছিলেন ননী গোপাল স্যার। স্যার ক্লাসে খুব সাবলীলভাবে বলতেন, তিনি সুদ খান না, কোনদিন সুদ খাননি ও অবৈধ আয়ে জানলে সেটি গ্রহণ করেন না। তিনি যেমন এক ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে পূজা করেন, তেমনই তিনি সর্বশক্তিমান স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে ওয়াজ শোনেন। গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার ওয়াজে তিনি বসে প্রতিবছর শোনে বলে আমাদের ক্লাসে বলতেন। এখন ননী স্যারকে বাইনারি ধর্মীয় বয়ানে আপনি কিন্তু ফেলতে পারবেননা। উনার ঈমান আমলের জবাবদিহিতা উনি নিজে করবেন ঈশ্বরের/আল্লাহর কাছে গিয়ে। এমনও তো হতে পারে আপনার চেয়ে ঈশ্বরের প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস তার প্রবল। কেবল মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়ে, গরু খেয়ে ভাগ্যক্রমে আপনি মুসলমান হয়ে অন্যকে ‘ইনফেরিওর’ ভাবছেন এটা কিন্তু ইনসাফ নয়। বিশ্বাস নিয়ে কজন মরতে পারছেন তার তো জরিপ বা গবেষণা নেই, না? অথচ বিশ্বাসের রাজনীতি করেই চলেছেন, দুর্বলের সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষে পূন্য আছে এই অধর্মকে বিশ্বাস করছেন। এটা ইসলাম নয়। ইসলাম প্রলেতারিয়েতের ধর্ম। ইসলাম কখনো দুর্বলের উপর অত্যাচারকে, অসহায়কে ভীত করাকে সমর্থন করেনা। ইসলামের নামেই দেশে বেড়ে যাচ্ছে রাজা গোয়ার গোবিন্দের অনুসারী। হযরত শাহজালাল বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই ব্যথিত হতেন, হয়তো বা।
৫)
ছোটবেলায় আমরা পূজা দেখতে যেতাম। পূজা দেখা মানেই কিন্তু পূজা বিশ্বাস করা নয়, যেমন ঈদে মুসলমানের বাড়িতে সেমাই খাওয়া মানেই কলেমা পড়া নয়। উৎসব-আনন্দ বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরা, মিষ্টি খাওয়া ইত্যাদি ভালো লাগতো। সর্বোপরি কড়া শাসনে বড় হওয়া আমি রাতে বাইরে বেরোনোর একটা উপলক্ষ্য পেয়ে যেতাম পূজায়। যেভাবে বন্ধুরা মিলে গিমাডাঙ্গা ও গওহরডাঙ্গা ওয়াজে যেতাম দলবেঁধে সেভাবেই মণ্ডল বাড়ি যেতাম দলবেঁধে। মাসুদ, কুটি, ইমরান মিলে যেতাম। কুটির নিজের ভ্যান ছিলো। রাত ১-২ টায় ফিরতাম ঘুম ঘুম চোখে। স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে সবুজ, আলিফ, আফজাল, সাহেদ, জুয়েল, জাল্লু, হাসিব, মিশুক প্রমুখ গিয়ে নয়নদের বাড়িতে উপস্থিত হতাম। খাওয়া দাওয়া ঘোরাঘুরি খুব জমতো।
আমরা যেতাম একেবারে ভালো মনে। সবাই কি যেতো? না। আমি নিজেই দেখেছি, একপাল অসভ্য যেতো পূজায় নারীদের উত্যোক্ত করতে, ভীড়ের মধ্যে নারীদের বিব্রত করে জানোয়ারের মত এসে তা অন্য জানোয়ারদের সঙ্গে মিলে আলাপ করতো। এটি ছিল ওপেন সিক্রেট। এই অসভ্যরা যে কেবল পূজায় নারী খূঁজতে যেতো তা নয়, যেকোনো উৎসব যেমন ঈদ বা বিজয় দিবসেও এদের কাজ ছিল হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নারীদের হয়রানী করা। এরা কিন্তু আবার বিশাল ‘মুসলমান’ (সঙ্গে খুব অল্পসংখ্যক অন্য ধর্মাবলম্বী থাকতে পারে)! এই জনতাই আবার মন্দির-পূজা-দেবদেবী নিয়ে কটূক্তি করতে ভুল করেনা। সুযোগ পেলে অসহায় হিন্দু-মুসলমানের ভূমি লোপাট করে, চাঁদাবাজি করে। নানাভাবে গালি দেয় হিন্দুদের। অথচ ভারতের জাতমানা সাম্প্রদায়িকদের চেয়ে আমাদের দেশের নিম্নবর্ণের সনাতনধর্মীরা অনেক অনেক উত্তম। মুফতি ইব্রাহিম, আহমাদুল্লা, রাজ্জাক ইউসুফ গংয়ের ভক্তরা হিন্দু বলতেই আরএসএস বা বাবরি মসজিদকেন্দ্রীক ভাবনা ভাবে। কারণ, তাদের জ্ঞানের উৎস যারা তারা ধর্মীয় ইনডেপথ জ্ঞান অর্জন করেনি। বাঙালি মুসলমানের বড় একটি অংশের মধ্যে এমন হিপোক্রেসি আমি সেই ছোটবেলা থেকেই দেখছি! এ থেকে আজো মুক্তি মেলেনি। বিশ্বাসের পার্থক্যের কারণে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ‘দোযখে পাঠানো এই মানসীকতা নিজেই যে দোযখে যাওয়ার কাজে বেশি ডুবে আছে’ সেটা ভাবতেও দেয়না! আফসোস!
৬)
বাংলাদেশে গুজব ডাল-পালা মেলে খুব সহজে। ফেসবুক আর ইউটিউব এসে একে আরো সহজলভ্য করে দিয়েছে। তথ্য প্রচার করার সুযোগ সবার হাতে থাকায় ফেইক নিউজ যাচাই করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আবার, রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িকতা ব্যবহৃত হতে পারে এই বৃহত্তর সেন্সও ডেভেলপ করেনি। পোস্ট-ট্রুথ সিন্ড্রোম তো আছেই। তাতে করে সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করছে প্রতিবছর পূজার সময়ের অস্থিতিশীলতার ফায়দা তুলে নিতে তারা ভুল করছেনা। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু ইতোমধ্যে মোদিকে বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে আহবান জানিয়েছে বলে বিবিসি বাংলা খবর করেছে। বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে বড় বড় চাল হয় সেটি উড়াকান্দিতে মোদির আসা প্রমাণ করে। কিন্তু এ নিয়ে বাংলাদেশের আমজনতা ভাবে বলে মনে হয়না। ভূ-রাজনীতি যে কতটা কুটিল ও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে তারা তা না বুঝেই অন্যদের ঘুঁটি হয়ে যায়। স্কুইড গেমের ঘোড়া হয়ে চিহি টগবগ করে অন্যের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে ভাবে বেহেশতের টিকেট কনফার্ম করছে!
৭)
আমাদের সচেতন হতে হবে। মনে রাখবেন, ইসলামে প্রতিবেশি একটি খুবই শক্তিশালী ফিল্টার আপনার ঈমানদারিত্ব প্রমাণ করতে। আপনি ভরপেটে খেলেন আর আপনার হিন্দু প্রতিবেশি না খেয়ে থাকলে আপনার ইবাদত কবুল হবেনা। তদ্রুপ, আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমালেন আর আপনার প্রতিবেশি আপনারই ভয়ে টেনশন করলো তাতে আপনার ইবাদত হবে কী না ভেবে দেখেন। পাশাপাশি ইসলামে জালিমের শাস্তি ভয়াবহ। মজলুম যে হিন্দু হোক আর মুসলিম হোক তার ডাক আল্লাহ ফেলেন না। আল্লাহ স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার পরেও তার ধর্ম পালনে আপনি বাঁধা দিলে তা ফরজকে অস্বীকার করা। এ ধরনের কাজ থেকে দূরে থাকাই ঈমানের পরিচয়। আবার আপনি এখানে হিন্দুদের দুর্বল পেয়ে বিশাল ফওলানি করলেন আর আপনার এই অবিবেচনাপ্রসূত আচরণে ভারতের বা মিয়ানমারের মুসলমানের উপর সেখানকার উগ্ররাও ঝাঁপিয়ে পড়লো সেই দায় আপনার নেই? আছে। সুতরাং ভেবে কাজ করুন।
আর যদি মাথায় এক ছটাক ঘিলু থাকে তবে ভাবুন, কোন সাধারণ হিন্দু কি মূর্তির পায়ের নিচে পবিত্র কোরান রাখবে কিংবা কোন বিশ্বাসী মুসলমান এটি করতে পারে? দুটি উত্তরই না। তাহলে কে এটা করেছে? করেছে সে বা তারা যারা আপনার মত গোঁয়ার গোবিন্দদের অন্ধত্ব, ক্ষোভ, উত্তেজনা ও অজ্ঞতাকে পুঁজি করে জীবীকা ও রাজনীতি নির্বাহ করে। ভাবুন। প্রশ্ন করুন। প্রশ্নই উত্তর। প্রশ্ন করতে না পারলে সারাজীবন অন্যের ‘রাজনৈতিক উত্তর’ হয়েই জীবনযাপন করতে হবে, নিজের জীবনটা যাপন করার অবকাশ পাবেন না...।
(২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর লিখিত)
0 Comments