অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান লাঁকা অধ্যয়ন করে ইতিহাসের একটি দারুণ সংজ্ঞা দিয়েছন। সলিমুল্লাহ খান বলেন, মানুষ নিজের অনিচ্ছায় যে সত্যের অধীন হয় সেটিই ইতিহাস।
বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের সঙ্গে—বিশেষ করে ১৯৭১ সালের আগে-পরের সময়ের—সাথে খুব কমই সাক্ষাৎ করেছে।
নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের বাইরের সত্যকে আমরা মানতেই পারিনা। যতটুকু নিজের বদ্ধমূল বিশ্বাস ও আদর্শের সঙ্গে মেলে ততটুকু আমরা গ্রহণ করি আর বাকি সব আমরা হয় বর্জন, না হয় সন্দেহ করি। একে বলে পোস্ট-ট্রুথ সিন্ড্রোম। বাংলায় একে 'বিচার মানি, কিন্তু তাল গাছ আমার' দশা বলা যায়।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের মানুষের শত বছরের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে আজো একটি সর্বজনসিদ্ধ ইতিহাস দাঁড়ায়নি একাডেমিশিয়ান, রাজনীতিক, আমলা, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের নিজের অনিচ্ছায় সত্যের অধীন হওয়ার মানসিকতা না থাকার কারণে।
এটা অবশ্যস্বীকার্য যে, আরো অনেক মহান নেতা থাকার পরেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনন্য অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁকে সামনে রেখেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। 'শেখ মুজিব' বা 'মুজিব ভাই' পাকিস্তানী ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইকন ছিলেন। তৃতীয় মাত্রার Zillur Rahman ভাইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খু নী (তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও) কর্নেল খন্দকার রশীদও বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বলতে দ্বিধা করেননি৷
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বীরযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বীরউত্তম তাঁর লিখিত গ্রন্থ 'আমার রাজনীতির রূপরেখা'তেও বঙ্গবন্ধুকে 'বাঙ্গালী জাতির পিতা' হিসেবে স্বীকৃত দিয়েছেন।
এ সত্ত্বেও যে কেউ ধর্মীয় বা অন্য যে কোনো কারণে জাতির পিতাকে মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আদর্শ রিপাবলিকে থাকা উচিত। কিন্তু নিজের অনিচ্ছায় এই সত্যের অধীন আমাদের হতে হবে যে, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অসীম অবদান ছিল।
এও মানতে হবে যে, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত নানা প্রতিবন্ধকতা আসলেও শাসক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে তিনি তা মোকাবেলা করতে পারেননি। অধ্যাপক Azfar Hussain ১৯৭২-১৯৭৫ এর টাইমলাইনের শেখ মুজিবকে 'গণহত্যাকারী' হিসেবে অভিযোগ করেছেন। আমি যদিও কৃষিক্ষেত্রে বাকশালের তাত্ত্বিক প্রয়োগে নয়াচীনের মেথড প্রয়োগ নিয়ে আগে লিখেছি, তবে এটা সত্য তত্ত্ব প্রয়োগ না হওয়ায় তার সাফল্য বা ব্যর্থতা নিয়ে আলাপ কার্যকর অর্থ তৈরি করেনা। রাজনৈতিকভাবে বাকশাল নিঃসন্দেহে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে প্রতিনিধিত্ব করেনা।
২।
তাহলে, শেখ মুজিব আজকে—৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্টের পরে—এভাবে অনন্দিত কেন? এর কারণ, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে মুজিব পাকিস্তানী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আইকন ছিলেন, সেই মুজিব—সলিমুল্লাহ খান ও অন্যান্য কিছু লোকের মতে—বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের আইকন হয়ে ওঠে। মানুষ মূলত যে ভাস্কর্যকে আঘাত করছে এটি ফ্যাসিবাদের প্রতি আঘাত, কদাচিত বঙ্গবন্ধুর প্রতি।
১৯৭০ এ জনগণের ভোটে ম্যান্ডেট পেয়ে যে আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জনআকাঙ্ক্ষার দল হয় সেই আওয়ামী লীগ ২০১৩ সালের পর জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজেই অগণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে। এই অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা দখল ও যাবতীয় স্বেচ্ছাচারিতাকে 'বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা' এবং 'একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, মিডিয়া এই চেতনা ও স্বপ্ন ব্যবসায়কে প্রাতিষ্ঠানিক সত্য হিসেবে জাহির করতে চেষ্টা করে।
জনতার মুজিব 'ভাই' ক্রমে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গসংগঠন এবং শেখ পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি 'পিতা' হয়ে যায়—ভারতের ছত্রচ্ছায়ায় (অথচ বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফিরেই ভারতের সৈন্য তাড়ান এবং ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর খুনী মুশতাকের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন)।
জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা যত সুসংহত হতে থাকে জনতার প্রিয় 'মুজিব ভাই' ততোই গণবিচ্ছিন্ন ইমাজিনারি 'বাঙালি জাতির পিতা' হয়ে উঠতে থাকেন (অথচ বাঙ্গালী মুসলমানদের অধিকাংশ কওমী মাদ্রাসার মুন্সি-মওলানাদের ওয়াজ দ্বারা প্রভাবিত যারা মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ) বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে)। অর্থাৎ এই জনপদে ভাইকে পিতা বানানোর অপরচুনিটি কস্ট ভয়াবহ বিপরীতমুখী!
ইতিহাসের এই নির্মোহ সত্যের অধীন হতে ইতিহাসের বহু শিক্ষককে দেখা যায়না। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনাব একেএম শাহনেওয়াজকে দেখা যাচ্ছে এই কানার ইতিহাসের কান্না করতে।
অথচ, ইতিহাস দখলের ইতিহাস নিয়ে তার কোনো লেখা দেখেছেন? জামুকা কর্তৃক একজন সেক্টর কমান্ডার এবং রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করাও যে ইতিহাসের সাথে প্রতারণা সেটি নিয়ে এই মুনতাসীর, শাহনেওয়াজ, কবির গংকে কথা বলতে দেখেছেন? কিন্তু ইতিহাসের নামে তারা কোনো দলের ধারণাকে পুরো জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত! এই লোকগুলো যে জাতির ইতিহাস লেখে সে জাতির ইতিহাস বিতর্কিত হবেনা এটাই অস্বাভাবিক!
৩।
বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবের কয়েকটি অংশ জড়িত। ১৯৪৭ এর পূর্বে বর্ণ হিন্দুদের সাম্প্রদায়িকতাকে জনপরিসরে আনার ক্ষেত্রে 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' অসামান্য কৃতিত্বের দাবিদার। এ কথা সলিমুল্লাহ খানও স্বীকার করেছেন যে, এ বইটি বের হওয়ার আগে ভারত ভাগ ও হিন্দুদের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে আলাপ করাটা নানা কারণে ভীতিকর ছিল।
১৯৭২-১৯৭৫ এ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী দ্বারা জাসদসহ ভিন্ন রাজনীতির নেতাকর্মীদের হ ত্যার কলঙ্ক (জাসদও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হ ত্যায় জড়িত ছিল) যদিও চাপা ছিল, কিন্তু এর দায় যে দলীয় প্রধান ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মুজিবের যায় সেটি অনেকেই স্বীকার করবেন। কেউ কেউ ১৯৭৫ এর মাধ্যমে এর প্রায়শ্চিত্ত হয়েছেও বলতে পারেন। কিন্তু পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সবকটি রাজনৈতিক কালেই বঙ্গবন্ধু কিছু না কিছু প্রাসঙ্গিকতা পেয়েছেন৷ একে অস্বীকার করা যাবেনা।
বিশ্ববেহায়া এরশাদ ক্ষমতায় এলে টুঙ্গিপাড়া গিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলেও টুঙ্গিপাড়া সফর করেছেন। অন্যদিকে তারেক রহমান বড় করে রাজনৈতিক অভিযাত্রা শুরু করেছেন টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করার মাধ্যমে। এর মানে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আলাদা সম্মান দিতে কারো কার্পণ্য ছিলোনা (এই প্রথম ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মনে হয় বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে একটু চাপা, মঈন-ফখরুদ্দিন?)।
তবে আমার মতে, নিজের পিতার সম্মানকে নষ্ট করতে শেখ হাসিনার বিভাজনকেন্দ্রীক রাজনীতি ভূমিকা রেখেছে। এ কথা আমি অনেকবার বলেছি যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে দারুণভাবে গড়ার সুযোগ ছিলো শেখ হাসিনার। তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে না থাকে বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টা হয়ে সব দল, সব নেতা, সব আদর্শকে পরামর্শ দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করতে পারতেন৷ বঙ্গবন্ধুতনয়া হিসেবে চেষ্টা করলে এ গ্রহণযোগ্যতা তিনি পেতেন৷ কিন্তু তিনি ঘৃণা ও বিভাজন চাষাবাদ করে রাজনীতি করলেন এবং নিজে তো স্বৈরাচারী হিসেবে সাব্যস্ত হলেনই সঙ্গে পিতাকে ফ্যাসিবাদের আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেলেন! কিন্তু শেখ মুজিব কি চিরন্তন ফ্যাসিস্ট আইকন হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা পাবেন?
৪।
আমার মনে হয়—না। কারণ, ২০২৪ এর এই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বে প্রতিটি ছোটখাটো আন্দোলনে 'জনতার মুজিব ভাই' জনতার পাশেই ছিলেন। হাসিনার পিতা তথা স্বেচ্ছাচারিতার চিহ্ন গণবিচ্ছিন্ন 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা' বনাম গণবান্ধব 'জনতার মুজিব বা বঙ্গবন্ধু' এ দুটো বিপরীতমুখী সত্তা মুখোমুখি হয়। জেনারেশন জি বা এই নতুন প্রজন্মের বঙ্গবন্ধুর লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস পড়া, ঠোঁটের আগায় বঙ্গবন্ধুর নানা রাজনৈতিক বক্তব্য—হাসিনার রাজনৈতিক ব্লোব্যাক এটি। আমজনতা ফ্যাসিস্টদের সহায়ক বঙ্গবন্ধু নয়, হাসিনার আঁচলের ছায়া ও কাদের গংয়ের মুজিব কোর্ট ছিঁড়ে জনতার মুজিব ভাইকে বের করে আনে।
এ কারণে আজকের গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা যখন ২০১৮ তে হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হয় তখন 'বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই' হয় আন্দোলনের ভিত্তিবীজ। এটিই ২০২৪ এসে 'বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন' নামধারণ করে। এখানেও ফেসবুকে ও বাস্তবে পাকিস্তানি শোষকদের উদ্দেশ্য করে বঙ্গবন্ধুর গণবান্ধব দাবী ও বক্তব্যের নানা অংশ ব্যবহৃত হয়।
সর্বশেষ অসহযোগ আন্দোলনের প্রতিটি শব্দ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের সাথে অনেকটা হুবহু মিলে যায়। এমনকি বঙ্গবন্ধু রক্ত মাড়িয়ে যেমন পাকিস্তানের শোষকদের সাথে সংলাপ বর্জন করেন ঐ একই পদ্ধতি অনুসরণ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ইয়ামিন, নাফিসা প্রমুখদের রক্তের ওপর দিয়ে শেখ হাসিনার আলোচনার আহবান প্রত্যাখ্যান করে ৯ দফা বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ করে। পরিশেষে এক দফার মাধ্যমে উনসত্তরের মত চব্বিশের আয়ুব খাঁ এর পতন হয়—হাসিনা এখানে আয়ুব খান আর বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা মুজিব ভাইয়ের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করা বিপ্লবী।
শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিব হাসিনার রাজনৈতিক পুঁজি ছিল। আর জনতার মুজিব ভাই জনগণের রাজনৈতিক জ্বালানি ছিল। হাসিনার কবল থেকে জুলাই বিপ্লব জনতার বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধার করে। ভারতনিয়ন্ত্রিত হাসিনার ছোবল থেকে যদিও বাংলাদেশ সুরক্ষিত হয়েছে কী না এ প্রশ্ন থেকে যায়।
৫।
বাঙ্গালা বা বাংলাদেশের ইতিহাস ১৯৭১ বা ১৯৪৭ এর নয়। এমনকি ১৭৫৭ থেকে শুরু করলেও তা ঠিক হবেনা৷ বাংলার ইতিহাস অনার্য ইতিহাস। বাঙ্গালার অধিবাসীদের লড়াই হাজার বছরের। ১৯৭১ আমাদের নিউলিবারেল দুনিয়ায় জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা করে—জাতির বহু লোক ও বিশাল ভূখণ্ডকে বাইরে রেখে হলেও। এর মানে হচ্ছে, আমাদের ইতিহাস পুনর্পাঠ করতে হবে। আমাদের পছন্দের ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোকেও ক্রিটিক করতে হবে।
ইতিহাস ধর্মগ্রন্থ নয় যে এখানে ঐতিহাসিক চরিত্রকে ভুল ও পাপের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। যে ইতিহাসবিদ তাঁর পছন্দের চরিত্রকে স্তুতিতে পূর্ণ করে সেই অসৎ ইতিহাস লেখক। ইতিহাস তখনই ইতিহাস হবে যখন ইতিহাস ভালো-মন্দ সব কিছুকে ধারণ করবে৷
ইতিহাস ক্ষমতাসীন লেখে—এই মান্ধাতার আমলের ধারণা এখন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। কারণ, ইন্টারনেট ও প্রকাশনার বিস্তৃতি এখন এতোটা সম্প্রসারিত হয়েছে যে, ইতিহাস লেখার একক ক্ষমতা এখন আর বিজয়ীর নয়। বরং পরাজিত বা ক্ষমতার বাইরে থেকেও ইতিহাস লেখা যায় এবং তা মূল ধারার বয়ানকেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করতে পারে।
তাই, নিজের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সত্যের কাছে আমাদের নতি স্বীকার করতে হবে। ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান তাকে তা ফিরিয়ে দিতে হবে৷ সত্য চাপা থাকেনা। মিথ্যা বয়ানও দীর্ঘস্থায়ী হবেনা৷ বরং সত্য এলে মিথ্যা বাতিল হয়। আর সেটিই হওয়া উচিত।
আমরা চাই অন্তত ইতিহাস দখলের ইতিহাস যেন আর না আসে বাংলাদেশে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা। ইতিহাস বারবার ফিরে আসে—পুনরাবৃত্তি হয় ইতিহাসের। এজন্য ইতিহাস নিয়ে ছলাকলা করার আগে সবার ইতিহাসের সাথে আগে শলাপরামর্শ করে নেওয়া উচিত...তাই না?
ছবি: গতকাল ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বাংলা একাডেমিতে।
#৩৬
0 Comments