সর্বশেষ

আমাদের ভদ্রলোকেরা

আমরা বড় শান্তিপ্রিয় ভদ্রলোকের দল
খাই দাই,বিছানায় এপাশ ওপাশ করি আর জ্যোত্‍স্নায় খুনসুটি করি বউয়ের সাথে
সকালে এক হাতে ব্যাগ ধরিয়ে দেয়,ছুটি কাঁচাবাজারে
আলু,মরিচ,পটল,বরবটির ভারে দুনিয়ার সব খবর চাপ পড়ে যায়।

আমরা নিরেট জেন্টেলম্যান,দুএকটা ইংরেজি ছেড়ে পান্ডিত্যের ষোলকলা পূর্ণ করি
নিরন্তর ব্যস্ত থাকি আমাদের বউয়ের ভুড়ি বৃদ্ধির কাজে,
তারা সন্ধ্যায় সোফাতে গা এলিয়ে সিরিয়াল গিলে খায়
আমাদের সাহসে কুলায়না অন্তত একটা বুলেটিন দেখার।

আমাদের দলের কবি দেশ নিয়ে ভাবেনা,
অধ্যাপক,মন্ত্রী,ছাত্র,রাজনীতিজীবীদের মত সে ও এখন আত্মকেন্দ্রিক
রোহিঙ্গাদের কষ্টের কীর্তি দেখে আমরা হাই তুলে বলি,
'ব্যাটারা বড় ঝামেলা,এদেশে আসে কেন?'
তারপর খবরের কাগজের পাতা উল্টায় অনাবৃত নারী খুঁজি
কিংবা ধর্ষণের রসালো সংবাদ;আমরা পাক্বা ভদ্রলোক
সকাল সন্ধ্যা মানবকল্যাণের চিন্তা করে
আমরা নিজের বাচ্চাকাচ্চার জন্য পৃথিবী সাজাই
আমাদের তাত্ত্বিক বিশ্বায়ন পারিবারিক জাতীয়তাবাদের কট্রয় গর্ভে সানন্দে পতিত হয়।
এই খেটে খাওয়া,বেকার রাস্তার ছেলেদের কথা কেবল আর্টিকেলে আনা যায়,
বড়জোর কলামে;তাদের নিয়ে বেডরুমে ভাবার সময় নেই
আমরা বিরাট ভদ্রলোক,নিজেদের ভদ্ররূপটি প্রকাশ করতে কার্পণ্য করিনা
তাই বলে কাদা মাখা পায়ে চাষা এসে টাইলসের ঘরে ঢুকে যেতে পারেনা
উপরে বলি,এই-পরে এসো,আমি বা আমরা একটু ব্যস্ত আছি
আড়ালে চেপে রাখি দাজ্জাল,কারুন,ফ্রয়েডীয় এপিকিউরিস্ট স্বত্ত্বাটি ।
০৫.০৬.২০১৫
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments