সর্বশেষ

শবে বরাত ও প্রাসঙ্গিক ফতোয়াবাজি প্রসঙ্গে

ফেসবুকে না শুধু বাড়িতে কথিত সালাফি না ফালাফি না ওয়াহাবী না আহলে হাদিসওয়ালারা বলছে শব ই বরাত পালন করা বিদআত ইত্যাদি।মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো।কয়দিন ধরে ফেসবুকে এই ফতোয়াবাজ বদগুলোর গোঁড়ামীতে ত্যাক্ত হইছি।এখন বাড়িতেও গেছে।আমার কথা হচ্ছে,শবে বরাত যদি পালন করে কেউ তাতে তোমাদের ক্ষতি কি,ব্যাটা ফাজিলের দল?আপনারা বলতে পারেন,উচ্চস্বরে পটকা ফুটানো ঠিকনা বা এই রজনীর ইবাদতকে অত্যাবশ্যক মনে না করে যতো ইচ্ছে পড়েন।সেটা না করে ফতোয়াবাজরা আছে বিদআতী,বিধর্মী,কুফ্ফার ইত্যাদি উপাধী দিতে।আরে ব্যাটা,শবে বরাত যারা পালন করছে ওরাই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে যদি তাদের আল্লাহর সন্তুষ্টির এই প্রচেষ্টা আল্লাহর পছন্দ না হয়।তোরা বলার কারারে বোমাবাজি মেন্টালিটির অসুস্থ প্রজাতি?
২।
শবে বরাতের কথা স্পষ্ট হাদিসে আছে যে এ রাতে মহানবী স একটু গুরুত্ত্ব দিয়ে দোয়া করেছেন,কবর জিয়ারত করেছেন।ব্যস,আর কি?এখন এটাকে উপলক্ষ করে আমাদের দেশে রুটি,গোশত,হালুয়া রান্না হয়।তাতে তোমাদের কি?ইসলাম এতে কিভাবে বিরোধী?এই দিনে গরীবদের খাওয়ানো হয়,প্রতিবেশিকে খাওয়ানো হয়,আত্মীয়রা খায়,মসজিদে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও ইসলামী আলোচনাও হয়।এই রাতে সবার মনটাই ভালো থাকে।খুঁজে পাওয়া কষ্টকর যে এই রাতে কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।যদি এ উত্‍সবকে কেন্দ্র করে হালুয়া আর রুটি গরীবে খেতে পারে সেটিতো একশত ভাগ ইসলামসম্মত।দেখতে হবে দুটি ঈদের চেয়ে এ উত্‍সবটাকে বড় করে দেখা হচ্ছে কি না।সেটি কখনোই হয়না।যারা শবে ই বরাত পালন করে তারা সবাইই দুই ঈদকে মুসলমানদের বড় দুটি উত্‍সব হিসেবে মানে ও পালন করে।অতএব হে অযৌক্তিক ফতোয়াবাজগুলো,আপনারা এবার অফ যান।
৩।
এই যে কথায় কথায় বিদআতী,কুফ্ফার,মুনাফিক ইত্যাদি ঘোষণা দেয় যারা এরা প্রত্যেকে একেকটা সাইকো।ইসলামকে বানাইছে উনাদের বাপের সম্পত্তি।ইসলামে থাকতে হলে এই সাইকোদের কথামত চলতে হবে।এইসব সাইকোপ্যাথিক ফতোয়াবাজদের অনুপ্রেরণা স্পষ্ট অনৈসলামিক দেশ সৌদি আরব।এদের মতধারা খুনী মতধারা।আমেরিকার মত হয় আমার সাথে নাহলে আমার শত্রু।অথচ ইসলাম এমন চরম নয়।ইসলাম মধ্যপন্থী ধর্ম।এই ফতোয়াবাজদের কাছে কবর জিয়ারতকারী কাফির এবং হত্যার যোগ্য তবে ইরাক,সিরিয়া,ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনে আক্রমণকারীরা তাদের বন্ধু বা তারা এ ব্যাপারে নিরব।এইসব গোমূর্খরা যে জান্তে বা অজান্তে বিধ্বংসী খারেজি মতধারা ধারন করে সেটি বোঝার যোগ্যতাও এদের নেই।এই গোঁড়া,অবৈজ্ঞানিক ও ভ্রান্ত ওয়াহাবী বা সালাফি বা আহলে হাদিস বা কথিত সুন্নী ফতোয়াবাজরা মুসলমানদের অনৈক্যের মূলহোতা।এরা ঐক্যের চেয়ে বিভাজন বেশি পছন্দ করে।অথচ ফ্যাসাদ সৃষ্টি হত্যার চেয়ে জঘন্য।
সবশেষে ফেসবুক বুজর্গ তথা ফেসবুক ফতোয়াবাজদের উদ্দেশ্যে বলবো-
যদি শবে বরাত পালন বিদআত হয় তবে আপনি যে ফেসবুকে ইসলাম প্রচার করতে আসছেন এটা তারচেয়ে কোটিগুন বড় বিদআত।এটি এক নাস্তিকের উদ্ভাবিত সাইট যেটিতে এসে আপনি ইসলামিস্ট সাজছেন।আর ওদিকে মিথ্যাচার করে বিদআতি অপতত্ত্ব ছড়িয়ে যে লোকটি অন্ততপক্ষে আজকের রাতটায় সালাত আদায় করতো বা রোজা রাখতো তাকে নিরুত্‍সাহিত করছেন।এটা যে কত বড় গর্হিত কর্ম এটা মরার পর টের পাবেন ইন শা আল্লাহ।
ইবাদত বন্দেগি করা,ক্ষমা চাওয়া,দোয়া ও কল্যাণ কামনা করা এবং গরীব ও আত্মীয়কে খাওয়ানোর উপলক্ষ হিসেবে শবে বরাত ছিল,আছে এবং থাকবে ইন শা আল্লাহ।শেষ হয়ে যাবে অযৌক্তিক,রসহীন,মূর্খ একচোখা বিভাজন সৃষ্টিকারী দলটি।
আল্লাহ চায় তো অচিরেই ভন্ড ফতোয়াবাজ,পাশ্চাত্যের পদলেহনকারী ও ওয়ার অন টেরর প্রজেক্টের খেলনাগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে।।
পাঠ অনুভূতি

Post a Comment

0 Comments