১।
আমি যখন মক্তবে পড়তাম তখন আমার চেয়ে পাঁচ বা সাত বছরের ছোট একটা ছেলেও পড়তো।সারাক্ষণ হাসিমুখ নিয়ে থাকা ছেলেটিকে অনেকেই বিরক্ত করতো,খোঁচাতো ও অপমান করতো । আমি ওকে স্নেহ করতাম।সময় পেলেই আমার কাছে এসে বসতো তাই।এলাকার এক ভাই এস্কেন্দারের ছেলে সে।আমাকে ডাকতো কাক্কু মানে চাচা।আমাদের স্কুলের মাঠের পাশেই ওদের বাড়ি।অন্যরা ওকে খেলতে না নিলেও আমি গেলেই ওকে নিতাম । সবাইকে মাতিয়ে রাখতো ও।এতো সরল ছেলেটির দারিদ্রের কারণে পড়াশোনা হয়নি।মাদরাসায় পড়া ছেড়ে গাড়ির হেল্পার হয় সে।সেখানেও সবাইকে আনন্দ দিতো ও।
আমি যখন মক্তবে পড়তাম তখন আমার চেয়ে পাঁচ বা সাত বছরের ছোট একটা ছেলেও পড়তো।সারাক্ষণ হাসিমুখ নিয়ে থাকা ছেলেটিকে অনেকেই বিরক্ত করতো,খোঁচাতো ও অপমান করতো । আমি ওকে স্নেহ করতাম।সময় পেলেই আমার কাছে এসে বসতো তাই।এলাকার এক ভাই এস্কেন্দারের ছেলে সে।আমাকে ডাকতো কাক্কু মানে চাচা।আমাদের স্কুলের মাঠের পাশেই ওদের বাড়ি।অন্যরা ওকে খেলতে না নিলেও আমি গেলেই ওকে নিতাম । সবাইকে মাতিয়ে রাখতো ও।এতো সরল ছেলেটির দারিদ্রের কারণে পড়াশোনা হয়নি।মাদরাসায় পড়া ছেড়ে গাড়ির হেল্পার হয় সে।সেখানেও সবাইকে আনন্দ দিতো ও।
ছেলেটির নাম মোজাম্মেল ।
২।
ঢাকা থেকে বাড়ি এলে প্রত্যেকবার মোজাম্মেলেয় সঙ্গে দেখা হয় । দূর থেকে 'ও কাক্কু,ভালো আছেন?কবে আইছেন ?' এই প্রশ্ন আসতো । চলতো গল্প,এর নামে ওর নামে মজার কাহিনী বলে হাসাতো মোজাম্মেল।বলতো গাড়িতে কাজ করার সময় নানাসব মানুষের কথা।
এবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে কোথাও মোজাম্মেলকে পাচ্ছিনা ।চারদিন হয়ে গেলো তার দেখা নেই । আজ যখন সজু,শাহীন গোসল করতে এলো তখন ওর কথা উঠলো।হঠাত্ আমার মাথায় যেন বাজ পড়লো !ওরা বললো,
' মোজাম্মল গলায় দড়ি নিছে।মরে গেছে মাসখানেক হলো ।'
কত আর বয়স ।মোজাম্মেলের ১৫ কি ১৭ বছর হয়েছিল!গত ঈদেও তাকে দেখে গেছি প্রাণবন্ত।কি হয়েছিল তবে মোজাম্মেলের যা তাকে গলায় দড়ি নিতে প্ররোচিত করেছে ?
৩।
যা শুনলাম তা আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করিনা । মোজাম্মেল বিয়ে করতে চেয়েছিল । তাকে দেওয়া হয়নি অথবা ঐ মেয়ে পছন্দ করেনি বলেই হয়তো আত্মহত্যা করেছে অনেকের ধারনা । আমার কথা হচ্ছে মোজাম্মেল যদি বাসের হেল্পার হয়ে তার স্ত্রীকে খাওয়ানোর সামর্থ রাখে তাকে কেন বিয়ে দেওয়া হলোনা?দ্বিতীয় কথা যেটা চলছে তা হচ্ছে ঐ মেয়ে মোজাম্মেলকে ফোনে হয়তো এমন কথা বলেছে যা মোজাম্মেলের সরল মন নিতে পারেনি । তাহলে আত্মহত্যার পরে ফোনের কললিস্ট চেক করে কেন ঐ মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হলোনা?
এই সমাজ,সামাজিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় বিবেচনার অভাবে মোজাম্মেলরা এভাবে দুঃখজনকভাবে ঝরে পড়ে । ছিটকে পড়ে জীবনের অসম যুদ্ধ থেকে ।
মোজাম্মেলের আত্মহানীর বিস্তারিত আমি এখনো জানিনা ।শুনেছি ভালবাসার অথবা অনুশোচনার তীব্র বাণে জর্জরিত হয়ে ঐ মেয়েও আত্মহত্যা করেছে । আমি এখনো নিশ্চিত নই । এ ব্যাপারে আরো জানবো , আরো খোঁজ নেবো এবং অবশ্যই আবারো লিখবো ।
সহজ সরল মোজাম্মেলের আত্মার মুক্তি কামনা করি আল্লাহর কাছে।তাঁর অভিমানী প্রস্থান আমাদের সামনে রক্তাক্ত এক কাহিনীর সূত্রপাত ঘটায়...।
৫ অক্টোবর, ২০১৪
২।
ঢাকা থেকে বাড়ি এলে প্রত্যেকবার মোজাম্মেলেয় সঙ্গে দেখা হয় । দূর থেকে 'ও কাক্কু,ভালো আছেন?কবে আইছেন ?' এই প্রশ্ন আসতো । চলতো গল্প,এর নামে ওর নামে মজার কাহিনী বলে হাসাতো মোজাম্মেল।বলতো গাড়িতে কাজ করার সময় নানাসব মানুষের কথা।
এবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে কোথাও মোজাম্মেলকে পাচ্ছিনা ।চারদিন হয়ে গেলো তার দেখা নেই । আজ যখন সজু,শাহীন গোসল করতে এলো তখন ওর কথা উঠলো।হঠাত্ আমার মাথায় যেন বাজ পড়লো !ওরা বললো,
' মোজাম্মল গলায় দড়ি নিছে।মরে গেছে মাসখানেক হলো ।'
কত আর বয়স ।মোজাম্মেলের ১৫ কি ১৭ বছর হয়েছিল!গত ঈদেও তাকে দেখে গেছি প্রাণবন্ত।কি হয়েছিল তবে মোজাম্মেলের যা তাকে গলায় দড়ি নিতে প্ররোচিত করেছে ?
৩।
যা শুনলাম তা আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করিনা । মোজাম্মেল বিয়ে করতে চেয়েছিল । তাকে দেওয়া হয়নি অথবা ঐ মেয়ে পছন্দ করেনি বলেই হয়তো আত্মহত্যা করেছে অনেকের ধারনা । আমার কথা হচ্ছে মোজাম্মেল যদি বাসের হেল্পার হয়ে তার স্ত্রীকে খাওয়ানোর সামর্থ রাখে তাকে কেন বিয়ে দেওয়া হলোনা?দ্বিতীয় কথা যেটা চলছে তা হচ্ছে ঐ মেয়ে মোজাম্মেলকে ফোনে হয়তো এমন কথা বলেছে যা মোজাম্মেলের সরল মন নিতে পারেনি । তাহলে আত্মহত্যার পরে ফোনের কললিস্ট চেক করে কেন ঐ মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হলোনা?
এই সমাজ,সামাজিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় বিবেচনার অভাবে মোজাম্মেলরা এভাবে দুঃখজনকভাবে ঝরে পড়ে । ছিটকে পড়ে জীবনের অসম যুদ্ধ থেকে ।
মোজাম্মেলের আত্মহানীর বিস্তারিত আমি এখনো জানিনা ।শুনেছি ভালবাসার অথবা অনুশোচনার তীব্র বাণে জর্জরিত হয়ে ঐ মেয়েও আত্মহত্যা করেছে । আমি এখনো নিশ্চিত নই । এ ব্যাপারে আরো জানবো , আরো খোঁজ নেবো এবং অবশ্যই আবারো লিখবো ।
সহজ সরল মোজাম্মেলের আত্মার মুক্তি কামনা করি আল্লাহর কাছে।তাঁর অভিমানী প্রস্থান আমাদের সামনে রক্তাক্ত এক কাহিনীর সূত্রপাত ঘটায়...।
৫ অক্টোবর, ২০১৪
0 Comments